Kaler Alo
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬
১৭ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

ফিড ও বিদ্যুতের খরচে চাপে পোল্ট্রি খামারিরা

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

ফিড ও বিদ্যুতের খরচে চাপে পোল্ট্রি খামারিরা

মুরগির খাদ্য, ওষুধ ও বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় কুড়িগ্রামে পোল্ট্রি খামার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও সেই তুলনায় বাড়ছে না ডিমের বিক্রয়মূল্য। ফলে প্রতিটি ডিম উৎপাদনে খরচ হচ্ছে সাড়ে আট থেকে ৯ টাকা, অথচ বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ৯ থেকে সাড়ে ৯ টাকায়। এতে কোনোভাবে ব্যবসা টিকিয়ে রাখলেও কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাচ্ছেন না খামারিরা। লোকসান বাড়তে থাকলে জেলার ২৭৫টি খামার ঘিরে গড়ে ওঠা হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানও ঝুঁকিতে পড়তে পারে

কুড়িগ্রামে প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে দুই লাখ ডিম
জেলা প্রাণিসম্পদ ও খামারসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে বর্তমানে ২৭৫টি পোল্ট্রি খামার রয়েছে। এসব খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ ডিম উৎপাদিত ও বেচাকেনা হয়। জেলার স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব ডিম সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

একসময় লাভজনক ব্যবসা হিসেবে পরিচিত পোল্ট্রি খাত এখন নানা ব্যয়ের চাপে রয়েছে। গত কয়েক মাসে মুরগির খাদ্য ও ওষুধের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচের সঙ্গে ডিমের বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য না থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিরা।

প্রতিটি ডিম উৎপাদনে খরচ ৯ টাকা
খামারসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে ব্যয় হচ্ছে প্রায় সাড়ে আট থেকে ৯ টাকা। অথচ বাজারে অনেক সময় সেই ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে ৯ থেকে সাড়ে ৯ টাকায়। ফলে খরচ বাদ দিয়ে সামান্য মুনাফা থাকছে। আবার বাজারদর কমে গেলে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের খেজুরের তল এলাকার মুন্সি পোলট্রি ফার্মের ব্যবস্থাপক আবদুর রহিম বলেন, তাঁদের খামারে সাড়ে পাঁচ হাজার মুরগি রয়েছে। ফিড, ওষুধ, বিদ্যুৎ বিল ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে প্রতিটি ডিম উৎপাদনে ব্যয় হচ্ছে সাড়ে আট থেকে ৯ টাকা। অথচ বাজারে অনেক সময় তা ৯ থেকে সাড়ে ৯ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে অধিকাংশ সময়ই লোকসান গুনতে হচ্ছে।

লোকসানের প্রভাব পড়ছে কর্মীদের জীবনেও
পোল্ট্রি খামারের মালিকদের পাশাপাশি কর্মচারীরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, ব্যবসায় লোকসান বাড়লে খামারমালিকেরা কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হতে পারেন। এতে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন খামারে কাজ করা হাজারো মানুষ।

মুন্সি পোলট্রি ফার্মের কর্মচারী একরামুল হক বলেন, ভোর থেকে শুরু করে দিনভর তাঁদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু ডিমের দাম কমে গেলে মালিকদের লোকসান হয়, যার প্রভাব পড়ে কর্মচারীদের চাকরির ওপর। লোকসান বাড়লে কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণে তাঁরাও চাকরি হারানোর ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

একই খামারের কর্মচারী মিলন চন্দ্র জানান, ভোর ৫টায় খামারে এসে প্রথমে মুরগিকে খাদ্য ও পানি দিতে হয়। এরপর খামারের মেঝে পরিষ্কার করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম দফায় ডিম সংগ্রহ করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দ্বিতীয় দফায় ডিম তুলে স্টোরে রাখা হয়।

তিনি বলেন, তাঁর মতো জেলার হাজারো মানুষ পোল্ট্রি খামারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মালিকেরা ব্যবসায় লাভ করতে না পারলে এসব শ্রমিকের সংসার চলবে কীভাবে?

বিদ্যুৎ বিলে কৃষি হারের দাবি খামারিদের
কুড়িগ্রাম জেলা পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও খামারমালিক লিয়াকত আলী রিটু বলেন, ফিড ও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি খামার পর্যায়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিল বাণিজ্যিক হারের পরিবর্তে কৃষি হারে নির্ধারণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে খামারিদের পক্ষে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেও তাঁদের পথে বসতে হতে পারে।

ফিডের কাঁচামালে শুল্ক কমানোর কথা ভাবছে সরকার
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, ফিড তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো এবং বিদ্যুৎ বিলে ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে পোল্ট্রি খামারিরা উপকৃত হতে পারেন।

কুড়িগ্রামে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ ডিম উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত ২৭৫টি খামার শুধু খাদ্য ও ডিমের জোগানই দিচ্ছে না, কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান বাড়তে থাকলে এ খাতের উদ্যোক্তা ও শ্রমিক—উভয়ের ওপরই চাপ বাড়বে। খামারিদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে এই সম্ভাবনাময় খাতের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

Link copied!