চা-শিল্পের হাত ধরে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে। চা-শ্রমিকদের হাতে তোলা পাতা পৌঁছে যাচ্ছে দেশ-বিদেশের বাজারে। অথচ সেই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক পরিবারের অনেকের ঘরেই জোটে না পুষ্টিকর খাবার। গর্ভবতী নারীরা পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, আর অপুষ্টি ও রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি নিয়ে বেড়ে উঠছে শিশুরা। হবিগঞ্জের বিভিন্ন চা-বাগানে পরিচালিত মেডিকেল ক্যাম্পের তথ্য বলছে, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
সবুজ বাগানের আড়ালে পুষ্টির সংকট
দিগন্তজুড়ে সবুজ চা-বাগান। পাহাড়ের ঢালে সারি সারি চা-গাছের ফাঁকে ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা। মাথায় ঝুড়ি, কোমরে কাপড় বেঁধে একের পর এক চা-পাতা সংগ্রহ করেন নারী শ্রমিকেরা। তাঁদের শ্রমে উৎপাদিত চা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। কিন্তু এই সমৃদ্ধির সুফল শ্রমিক পরিবারের খাবারের থালায় কতটা পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
জীবিকার তাগিদে অনেক পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই কাজ করতে হয়। ফলে গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা কিংবা পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক নারী সন্তান জন্মের আগ পর্যন্ত জানতেই পারেন না গর্ভের শিশুর শারীরিক অবস্থা কেমন।
চা-বাগানগুলোতে নিজস্ব হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে শ্রমিকদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। কিছু বাগানে স্বাস্থ্যকর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে অসুস্থ মানুষের খোঁজ নেন। তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি মা ও শিশুর পুষ্টি এবং মাতৃস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত সেবার প্রয়োজন দেখা যাচ্ছে।
শিশুদের প্রতি ১০ জনে প্রায় তিনজন তীব্র অপুষ্টিতে
হবিগঞ্জের মাধবপুর, চুনারুঘাট, বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে ২৪টি চা-বাগান। ২০২২ সালের সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী, এসব বাগানে বসবাস করেন প্রায় ২ লাখ ৪৪ হাজার নারী-পুরুষ। এই জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ নারী ও শিশু। বিভিন্ন চা-বাগানে একটি বেসরকারি সংস্থার পরিচালিত মেডিকেল ক্যাম্পে স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় আসা শিশুদের মধ্যে প্রতি ১০ জনে প্রায় তিনজনের তীব্র অপুষ্টি শনাক্ত হয়েছে। একইভাবে পরীক্ষা করা গর্ভবতী নারীদের প্রতি ১০ জনে প্রায় দুজনের রক্তস্বল্পতা কিংবা পুষ্টিহীনতার সমস্যা পাওয়া গেছে। চুনারুঘাট উপজেলার শ্রীবাড়ী, দেউন্দি, লালচান, চানপুর, ছণ্ডিছড়া ও দারাগাঁওসহ বিভিন্ন চা-বাগানে পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে এসব তথ্য উঠে এসেছে। চা-বাগানের সবুজ প্রকৃতির আড়ালে মা ও শিশুর পুষ্টিনিরাপত্তার সংকট যে কতটা গভীর, তা এই পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট।
রত্নার জীবনে ধরা পড়েছে মাতৃস্বাস্থ্যের বাস্তবতা
চানপুর চা-বাগানের ২০ বছর বয়সী শ্রমিক রত্না গঞ্জুর জীবনের গল্প এই সংকটের একটি প্রতিচ্ছবি। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হয় তাঁর। স্বামী সানি গঞ্জুর সঙ্গে সংসারে রয়েছে চার বছর বয়সী একটি মেয়ে। বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রত্না।
প্রথম সন্তান জন্ম দেওয়ার আগে কোনো গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাননি তিনি। প্রসবব্যথা শুরু হওয়ার পর বাড়িতেই ধাত্রীর সহায়তায় সন্তান প্রসবের চেষ্টা চলে প্রায় ৩০ ঘণ্টা। দীর্ঘ সময় প্রসবযন্ত্রণায় কাতরানোর পর তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্ম দেন তিনি। গর্ভাবস্থায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে অনেক ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতো। কিন্তু দ্বিতীয়বার গর্ভবতী হওয়ার পর এবারই প্রথম স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ পেয়েছেন রত্না।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত এমআইএইচআর প্রকল্পের উদ্যোগে চুনারুঘাট ও বাহুবল উপজেলার ১৩টি চা-বাগানে পর্যায়ক্রমে গর্ভবতী নারীদের শারীরিক পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাম এবং শিশুদের পুষ্টি যাচাইয়ে মা সমাবেশ ও মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। সেখানেই স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন তিনি। এত দিন গর্ভকালীন পরীক্ষা করাননি কেন—জানতে চাইলে রত্না বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রী দুজনই বাগানে কাজ করি। সময় পাই না। আজ এখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম করবে, তাই এসেছি।’
রত্নার এই বক্তব্যে উঠে এসেছে চা-শ্রমিক নারীদের জীবনের কঠিন বাস্তবতা। সংসারের আয় বাড়াতে দুজনকেই শ্রম বিক্রি করতে হয়। কাজ থেকে একদিন বিরতি নিলে কমে যায় আয়। ফলে গর্ভাবস্থায় অসুস্থতা থাকলেও অনেক নারী কাজ চালিয়ে যান। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া কিংবা নিজের পুষ্টির চাহিদা পূরণের বিষয়টি তাঁদের কাছে অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
মাতৃত্বকালীন ছুটিতেও জোটে না পুষ্টিকর খাবার
মধুপুর চা-বাগানের শ্রমিক কবিতা ভোনার্জির অভিজ্ঞতাও একই সংকটের কথা বলে। গর্ভাবস্থায় আট মাস পর্যন্ত কাজ করতে হয় তাঁদের। এরপর মাতৃত্বকালীন ছুটি নিলেও খাবারের নিশ্চয়তা থাকে না। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারেন না তাঁরা। কবিতা বলেন, ‘আমরা গর্ভকালীন সময়ে প্রায় আট মাস পর্যন্ত কাজ করি। তারপর মাতৃত্বকালীন ছুটি নেই। এই সময়েও আমরা সচরাচর চা-পাতা আর চানাচুর দিয়ে যে ভর্তা তৈরি করি, সেটা দিয়ে খাবার খাই। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পুষ্টিকর খাবার জোটে না।’
একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় খাবারের তালিকায় থাকার কথা মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, শাকসবজি ও ফলমূল। কিন্তু কবিতার খাবারের থালায় সেসবের পরিবর্তে জায়গা করে নিয়েছে চা-পাতার ভর্তা। দীর্ঘ সময় কাজ করেও সেই উপার্জন দিয়ে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দেউন্দি চা-বাগানের শ্রমিক পপি চৌহানের অভিজ্ঞতাও একই রকম। তাঁর ভাষ্য, গর্ভাবস্থায় তাঁদের জন্য আলাদা কোনো খাবারের ব্যবস্থা থাকে না। বাগানে কাজের সময় দুপুরে ভাতের সঙ্গে চা-পাতা ও চানাচুর দিয়ে ভর্তা তৈরি করে খেতে হয়। কখনো মাছ ভেজে নিয়ে যান। তবে গরমের কারণে রান্না করা তরকারি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অনেক সময় তা সঙ্গে নেওয়া সম্ভব হয় না।
অপুষ্টির প্রভাব পড়তে পারে শিশুর বেড়ে ওঠায়
গর্ভাবস্থায় একজন নারীর শরীরে বাড়তি পুষ্টির প্রয়োজন হয়। পর্যাপ্ত ও সুষম খাবার না পেলে মা ও অনাগত শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা, অপুষ্টি ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি মা ও শিশুর জন্য নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কম বয়সে মাতৃত্ব গ্রহণ করলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। জন্মের পরও শিশুর যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে চা-বাগানের কিশোরী ও তরুণী মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা এবং শিশুদের পুষ্টি পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।
মেডিকেল ক্যাম্পে পরীক্ষা ও চিকিৎসার উদ্যোগ
চা-বাগান এলাকায় পরিচালিত মেডিকেল ক্যাম্পগুলোতে গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টির অবস্থাও যাচাই করা হচ্ছে। শিশুদের উচ্চতা, ওজন ও বাহুর মধ্যবর্তী পরিধি (ম্যাক) পরিমাপের মাধ্যমে পুষ্টিগত অবস্থা শনাক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া গর্ভবতী নারীদের রক্তস্বল্পতা শনাক্তকরণ, রক্তে শর্করা পরীক্ষা, রক্তচাপ ও ওজন পরিমাপ এবং আল্ট্রাসনোগ্রামের মতো সেবা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের সঙ্গে যুক্ত একজন চিকিৎসক জানান, তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত শিশুদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইএমসিআই কর্নারে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও পুষ্টিসেবার ব্যবস্থা রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে মা ও শিশুকে উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়।
তবে ক্যাম্পে অপুষ্টি শনাক্ত হওয়ার পর সব শিশু নিয়মিত চিকিৎসা পাচ্ছে কি না, চিকিৎসা শেষে তাদের পুষ্টিগত অবস্থার উন্নতি হচ্ছে কি না, কিংবা ঝুঁকিতে থাকা গর্ভবতী মায়েরা পরবর্তী সময়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারছেন কি না—এসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একদিনের মেডিকেল ক্যাম্পে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হলেও দীর্ঘদিনের পুষ্টিসংকট দূর করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত চিকিৎসা, পুষ্টি পরামর্শ, পরিবারভিত্তিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা।
নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে স্বাস্থ্য বিভাগ
হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস জানান, চা-বাগান এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর বাইরে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভিন্ন বিষয়ে কাউন্সেলিং করছেন। তবে চা-শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত টিকাদান ও পরামর্শ কার্যক্রম থাকলেও চা-শ্রমিকদের সামগ্রিক মাতৃস্বাস্থ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব নারী জীবিকার কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে পারেন না, তাঁদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
পুষ্টিসংকটের পেছনে রয়েছে আর্থসামাজিক বাস্তবতা
চা-বাগান এলাকায় পুষ্টিসংকটের পেছনে শুধু স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি নয়, রয়েছে নানা আর্থসামাজিক কারণ। সীমিত আয়, খাদ্যপণ্যের ক্রয়ক্ষমতার অভাব, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মাতৃত্বকালীন সময়ে কাজের চাপ, স্বাস্থ্যসচেতনতার সীমাবদ্ধতা এবং দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার প্রতিবন্ধকতা—সব মিলিয়ে মা ও শিশুদের ঝুঁকি বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে চা-বাগানভিত্তিক নিয়মিত মাতৃস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গর্ভবতী নারীদের নির্ধারিত সময় অন্তর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তস্বল্পতা শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড সেবন এবং ঝুঁকিপূর্ণ মায়েদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে।
একই সঙ্গে শিশুদের জন্মের পর থেকে নিয়মিত ওজন ও পুষ্টির অবস্থা পর্যবেক্ষণ, অপুষ্ট শিশুদের চিকিৎসা এবং পরবর্তী ফলোআপ নিশ্চিত করা জরুরি। শ্রমিক পরিবারের পুষ্টিকর খাবার কেনার সক্ষমতা বাড়ানো, পুষ্টি সহায়তা এবং কর্মক্ষেত্রে গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। চা-শ্রমিকদের শ্রমে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে। তাঁদের হাতে তোলা চা দেশের সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে। অথচ সেই শ্রমিকের ঘরে যদি গর্ভবতী মায়ের জন্য পুষ্টিকর খাবার না জোটে, শিশুকে যদি বেড়ে উঠতে হয় অপুষ্টি নিয়ে, তবে সেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুফল কারা ভোগ করছেন—এ প্রশ্ন থেকেই যায়।
একটি দেশের উন্নয়ন শুধু রপ্তানি আয়, উৎপাদন কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড হলো, সেই উন্নয়নের সুফল শ্রমজীবী মানুষের ঘরে কতটা পৌঁছেছে। যাঁদের শ্রমে চায়ের কাপ ভরে ওঠে, তাঁদের সন্তানদের খাবারের থালায় যদি পুষ্টির অভাব থাকে, তবে সেই সমৃদ্ধির গল্প অসম্পূর্ণই থেকে যায়। চা-শ্রমিকের ঘামে দেশের চা-শিল্প সমৃদ্ধ হচ্ছে; এখন প্রয়োজন তাঁদের পরিবারের সুস্থতা, পুষ্টি ও নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা। কারণ শিল্পের প্রকৃত সমৃদ্ধি শুধু উৎপাদিত চায়ের পরিমাণে নয়, সেই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবনমানের উন্নয়নেও প্রতিফলিত হওয়া জরুরি।
কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি
