শেখ হাসিনার হাত ধরেই কী উন্নত বাংলাদেশ?

প্রকাশিতঃ 8:31 am | February 28, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো :

টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ সময় যাবত উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। কিন্তু সব পরিচয় ছাপিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা। এই পরিচয়ই তার কাছে সবচেয়ে প্রিয়।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভের মাইলফলক অর্জনের সুসংবাদের এই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আরও একবার এই পরিচিতিতে নিজের সন্তুষ্টির কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় পাশে ছিলেন জাতির পিতার রক্তের আরেক উত্তরাধিকার, ছোট বোন শেখ রেহানা।

স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের গৌরব নতুন প্রজন্মকে উৎসর্গ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সফলতার পেছনে নিজের নয়, বাংলাদেশের ম্যাজিক হিসেবেই মনে করেন তিনি।

ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের এ সংবাদ সম্মেলটি নানা কারণে গুরুত্ব বহন করে। অনেকদিন পর গণমাধ্যমকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রিয়, অপ্রিয় সব প্রশ্নেরই জবাব দিয়েছেন। স্বভাবসুলভ হাস্যরস করেছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থেকে শুরু করে, হালের আলজাজিরা ইস্যু, ২০৪১ সালে তার হাত ধরেই উন্নত বাংলাদেশ- সব প্রশ্নেরই খোলামেলা জবাব দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড.আহমদ কায়কাউস সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন। কান্নাজড়িত ভারী কণ্ঠে তার উপস্থাপনা শুরুতেই সবার দৃষ্টি কাড়ে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর হাতে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র তুলে দেন অর্থমন্ত্রী লোটাস কামাল। এরপর প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্যের পর তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

বিএনপি-জামাত-ফ্রিডম পার্টি প্রোডাকশন
প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্ব বরাবরই উপভোগ্যকর। এবারের সংবাদ সম্মেলনে চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ বড় রকমের খোঁচা দিয়ে আলজাজিরাকে তুলাধুনা করেছেন একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দ্যেশ্যে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা বললেই আপনি বেশি খুশি হোন। প্রধানমন্ত্রী মাথা নেড়ে বলেন, ‘ইয়েস।’

মোজাম্মেল বাবু বলেন, প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা। আপনার পাশেই বসে আছেন বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা, শ্রদ্ধেয় শেখ রেহানা।

নেত্রী আপনি বললেন, আপনার ৭৫ বছর। রাজপথে আমাদেরও ৪০ বছর হচ্ছে। ১৯৭৫ এর পর দুই পাতার লিফলেট, আপনার কাছ থেকে টাকা নিয়ে চার পাতার লিটল ম্যাগাজিন দিয়ে আমাদের জীবন শুরু। সেদিন বঙ্গবন্ধুর নামে কয়জন কথা বলতো, ১৫ আগস্টে আমরা কয়জনের লেখা ছাপতে পারতাম। কতো জাতীয় পত্রিকা, কয়জন বঙ্গবন্ধু লিখতো আপনি আমাদের চেয়ে বেশি জানেন। আজকে আপনার বিরাট সাফল্য, যারা আপনার সাথে ছিল তারা তো আছেনই। আরেকটি অংশ সরাসরি আপনার কাজে মুগ্ধ হয়ে কনভার্ট হয়েছেন। শায়েখ সিরাজ ভাই আপনার অনেক প্রশংসা করেছেন, আপনি খুশি হয়েছেন।

‘আরেকটি বিরাট অংশ আপনার প্রশংসা না করে পারে না। কিন্তু মাঝখানে একটা কিন্তু বলে। সব ভালো, সব ভালো কিন্তু। এরা ঠিক হয়ে যাবে নেত্রী। আরেকটি ক্ষুদ্র অংশ, বিএনপি-জামাত-ফ্রিডম পার্টি, যারা আলজাজিরা প্রোডাকশন করেছিল। আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এই প্রোডাকশন সম্পর্কে, আমি বলেছি অসাধারণ। শুধু ক্রেডিট লাইনটি দেওয়া হয়নি। যদি শেষে লিখতো বিএনপি-জামাত, ফ্রিডম পার্টি প্রোডাকশন, তাহলে আমাদের আর এতো কথা বলতে হতো না।’

এ সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাইট’। মোজাম্মেল বাবু বলেন, ‘আমি নিশ্চিত খবর নিলে জানা যাবে, এইটা একটা পেইড ডকুমেন্ট্রি। টেলিভিশনে আমরা নিজে একটু আধটু কাজ করি। কিছু কিছু নিজে ইউজ করে, আবার কিছু কিছু স্লট বিক্রি করে পেইড ডকুমেন্ট্রি করে। আমার ধারণা আলজাজিরার এটি একটি পেইড ডকুমেন্ট্রি। কিন্তু এতো ভুলে ভরা, এতো অসঙ্গতি। এটার মান অত্যন্ত খারাপ নেত্রী। সুতরাং, এটাকে পাস মার্কও দেওয়া যাচ্ছে না নেত্রী। ডিজিটাল অ্যাক্ট থেকে শুরু করে ফরেন পলেসি, আপনাকে বিশ্ব নেতারা মাস্টার ব্যালান্স হিসেবেই প্রশংসা করে।’

শেখ হাসিনার হাত ধরেই কি উন্নত বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ উন্নত দেশে প্রবেশ করবে এমন এক আশাবাদী প্রশ্নে তিনি বলেন, ২০৪১ সালে আমার বয়স হবে ৯৫ বছর। ওই বয়সে কী আমি কাজ করতে পারব? নতুন প্রজন্ম কাজ করবে। নতুন প্রজন্মই দেশকে উন্নত দেশে নিয়ে যাবে। সেই পরিকল্পনাও আমরা করে ফেলেছি। এখন সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করলেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে উঠে আসবে।

তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে এখন মঙ্গা নেই। দক্ষিণে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ হচ্ছে। আমরা এমনভাবে কাজ করছি যাতে মানুষের কোন কষ্ট হবে না। বাংলাদেশ উন্নত দেশ হবে। তখন আমি বুড়ো হয়ে যাব। কাজ করতে পারব না।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান যে, ছোট বোন শেখ রেহানার কাছ থেকে তিনি প্রথম এই সুখবরটি পান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেখ রেহানা এই খবর দেন প্রধানমন্ত্রীকে। তার আগে শেখ রেহানা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হতে কি কি করতে হবে, সেই পরিকল্পনা আছে সরকারের। বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে তার উন্নয়নের কাজ নিজস্ব অর্থে করবে বলে জানান তিনি।

কালের আলো/ডিএস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email