বিশ্বপরিমন্ডলে বাঘের গর্জন শোনাচ্ছে আব্দুর রাজ্জাকের জেএমআই, প্রশংসা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও

প্রকাশিতঃ 8:41 pm | January 05, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো :

অতিমারি করোনার দহন সময়ের শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মেডিক্যাল ডিভাইস সরবরাহে নানাভাবেই কাজ করে যাচ্ছিল দেশের স্বনামধন্য জেএমআই গ্রুপ। কেএন-৯৫ মাস্ক দেশেই উৎপাদনের মধ্যে দিয়ে কার্যত যেন বিশ্বপরিমন্ডলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের গর্জন আরও একবার শোনিয়ে দিয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বাধীন এ প্রতিষ্ঠানটি।

আরও পড়ুন: বিশ্বমানের কেএন৯৫ মাস্ক বাজারে আনলো জেএমআই

সমালোচকদের লম্ফঝম্ফে কান না দিয়ে তাদের মুখে ছাই দিয়ে নিজের স্বকীয়তা ও স্বাতন্ত্র্যবোধে বিশ্বাসী জেএমআই গ্রুপ তিন স্তরের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ফিল্টার পেপারসহ মোট ৫ টি সুরক্ষা স্তরের কেএন-৯৫ মাস্ক উৎপাদনের মধ্যে দিয়ে এখন উন্নত দেশের কাতারে অনন্য উচ্চতায় দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশকে।

দেশ ও বিদেশের পরীক্ষাগারে এ মাস্কের মান ও যোগ্যতার পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আমদানি করা চীনা কেএন৯৫ মাস্ক দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩০০ টাকায়। সেখানে একই মানের জেএমআই’র উৎপাদিত মাস্কটি মাত্র ১০০ টাকায় মিলবে হাতের নাগালে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাংলাদেশ উন্নয়নের উচ্চ শিখরে অবস্থান করছে। বঙ্গবন্ধু কন্যার দূরদর্শী নেতৃত্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জেএমআই গ্রুপের এগিয়ে আসা এবং তাদের দক্ষতা ও সঠিক নেতৃত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসাই করেছেন দেশের প্রথাবিরোধী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

দেশে ওষুধ তৈরি ও রপ্তানিতে বাংলাদেশ স্বনামে খ্যাত হলেও মেডিক্যাল ডিভাইসের ৯৫ ভাগই এখনও বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। কিন্তু জেএমআই এক্ষেত্রেও যেন সবার জন্য ‘রোল মডেল’। ফলে মেডিক্যাল ডিভাইস রপ্তানিতেও দেশের হাত পাঁকানোর ওপরই জোর দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

করোনায় টিকা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা সুক্ষ্ণ অটো ডিজেবল সিরিঞ্জও উৎপাদন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে জেএমআই। ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় দুই কোটি সিরিঞ্জ ইতোমধ্যেই রপ্তানিও করেছে এ প্রতিষ্ঠানটি। তাদের সঙ্গে দর নির্ধারণের আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে অনেক দেশ।

বাংলাদেশেও প্রায় ১৮ কোটি মানুষকে কোভিড-১৯ টিকা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত সিরিঞ্জ সরবরাহে নিজেদের পূর্ণ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন জেএমআই গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুর রাজ্জাক।

সূত্র জানায়, দেশে করোনা সংক্রমণের শুরুর পর একটি অনিচ্ছাকৃত ভুলকে পুঁজি করে জেএমআই গ্রুপের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন তথ্য সন্ত্রাস শুরু হয়। অনেকেই এ প্রতিষ্ঠানটিকে ‘আন্ডার গ্রাউন্ড’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সনাক্ত করতেও দাপাদাপি শুরু করে। নিজের গুটিকয়েক কর্মীর ভুলের খেসারত গুণতে হয় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রাজ্জাককে।

কঠোর পরিশ্রমী, মেধাবী, শান্ত, বিনয়ী ও ঔদার্য্যরে অধিকারী এ মানুষটিকে ক্ষতবিক্ষত করা হয় অনাকাঙ্খিত সমালোচনার বিষমাখা তীরে। কিন্তু মহান মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায় শাণিত, জাপান থেকে উচ্চশিক্ষার পরও শুধুমাত্র দেশপ্রেমের তাড়নায় স্বদেশে ফিরে এসে দেশের মেডিক্যাল ডিভাইস উৎপাদনের এ দিকপাল মহল বিশেষের কূপানলেও পড়েন সেই সময়। কিন্তু আলোকিত এক সোনালী ভোরের প্রত্যাশায় নিজের নিবিষ্ট মনেই কাজ করতে থাকেন।

সোমবার (০৪ জানুয়ারি) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে জেএমআই’র তৈরি কেএন-৯৫ মাস্কের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা.ইকবাল আর্সলান করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে দেশের স্বাস্থ্যখাতকে মাথা তুলে দাঁড় করাতে জেএমআই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুর রাজ্জাকের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন।

সূত্র জানায়, গোটা বিশ্ব যখন লকডাউনে বিপর্যস্ত তখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশেই এন-৯৫ মাস্ক উৎপাদন শুরু করে জেএমআই। সেই সময়কার কঠিন পরিস্থিতিতে নতুন কর্মীদের দিয়ে কাজ করার ভুল সিদ্ধান্তের সুযোগে সুরক্ষা সামগ্রী কেলেঙ্কারীর তালিকায় জেএমআই’র নাম সংযোজনের মিশন শুরু হয়।

মিশন বাস্তবায়নে শুরু থেকেই স্বাস্থ্য খাতের একচ্ছত্র বাণিজ্যে জেএমআইকে ‘ফোকাস’ করতে থাকে একটি সিন্ডিকেট। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায় বিশ্বাসী প্রতিষ্ঠানটির এমডি আব্দুর রাজ্জাককে স্বাধীনতা বিরোধী ‘জার্সি’ গায়ে জড়ানোর চেষ্টায় চলে নিরবচ্ছিন্ন খিস্তিখেউর। অব্যাহত কুৎসাচারের তীব্র প্রতিবাদ জানান তার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রগতিশীল সহপাঠীরা।

আব্দুর রাজ্জাকের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সেই বন্ধুরাও সোমবার (০৪ জানুয়ারি) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে জেএমআই’র তৈরি কেএন-৯৫ মাস্কের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁরাও নিজের চোখেই প্রত্যক্ষ করেছেন তাদের সহপাঠীর নেতৃত্বে বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশের জন্য যুক্ত হওয়া অনন্য এক সম্মান ও মাইলফলকের।

জেএমআই সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০১২ সাল থেকে জেএমআই সিরিঞ্জের রয়েছে আইএসও ১৩৪১৫২০১৬ সনদ। যার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানি করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। আর এ বছরের করোনায় টিকা কার্যক্রমে ব্যবহৃত এডি সিরিঞ্জ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাজারজাতের অনুমতি হিসেবে সিই০০৬৮ এর সনদ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পণ্যের গুণমত মান বজায়ে তাঁরা কঠোর।

গত দুই দশকে ইপিআইসহ সরকারের নানা ধরণের টিকা কার্যক্রমে সিরিঞ্জ সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ মুহুর্তে রপ্তানির পাশাপাশি দেশের জন্য অগ্রাধিকার দিয়ে সিরিঞ্জ উৎপাদনের প্রস্তুত থাকার কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত জেএমআই সিরিঞ্জেস এন্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেসের রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বিনিয়োগ। দেশের এ প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কারও করোনায় টিকা দেওয়ার উপযোগী সিরিঞ্জ উৎপাদনের সক্ষমতা নেই।

জেএমআই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুর রাজ্জাক সোমবার (০৪ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে নিজ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত কেএন-৯৫ মাস্কের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের উপস্থিতিতে বলেছেন, ‘চীনের গাইডলাইন অনুসরণ করে তৈরি করা কেএন-৯৫ মাস্কের দাম আমদানি করা মাস্কের দামের চেয়ে কম। জেএমআইর এ পণ্যের কারণে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের সম্মান বেড়েছে নি:সন্দেহে। করোনার টিকা দেওয়ার জন্য বিশেষ ধরণের সুক্ষ্ণ এডি সিরিঞ্জ ব্যবহৃত হয় যা একমাত্র আমরাই উৎপাদন করেছি।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের উৎপাদিত এডি সিরিঞ্জ ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছি। বিভিন্ন দেশ থেকে নতুন নতুন অর্ডারও আসছে। আমরা আমাদের দেশের ১৮ কোটি মানুষকে কোভিড-১৯ টিকা দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ সিরিঞ্জ সরবরাহ করার জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি। সরকার চাইলে আমরা এটি সরবরাহ করবো।’

দেশের গর্বের প্রতীক এ প্রতিষ্ঠানটির এমডি আরও বলেন, ‘দেশের মেডিক্যাল ডিভাইস চাহিদার ৯৫ ভাগ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আশা করি সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে মেডিসিনের মতো মেডিক্যাল ডিভাইসের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে। দিনে দিনে আন্তর্জাতিকমানের মেডিক্যাল ডিভাইস উৎপাদন করে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ব্যবস্থা করছি।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নির্দেশনা ও পরিকল্পনার সুবাদে আমাদের দেশে করোনাভাইরাসের মহামারি অনেক বড় দেশের তুলনায় তেমন কোনো বড় কোনো খারাপ প্রভাব ফেলতে পারেনি। এক্ষেত্রে আমাদের দেশের স্বাস্থ্য খাত ও ওষুধ কিংবা চিকিৎসা খাতে বিভিন্ন ধরনের অগ্রগতি ও দায়িত্ব পালনের কারণে এমন সফলতা এসেছে। এমনই এক সফলতার নজির বয়ে এনেছে জেএমআই গ্রুপ দেশে প্রথম কেএন-৯৫ মাস্ক তৈরির মাধ্যমে।’

কালের আলো/এসআর/এমএইচ

Print Friendly, PDF & Email