হুন্ডি বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানালেন গভর্নর

প্রকাশিতঃ 11:23 pm | March 11, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার বলেছেন, দেশ থেকে অর্থপাচার ঠেকাতে হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ধরনের অপরাধে যুক্ত হওয়ায় প্রতিদিনই ১ থেকে ২০০ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (১১ মার্চ) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদর দফতরে প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ২০২২ সালে আমি যখন বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করি, তখন দেশে বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকট ছিল। সে সময় ওভার ইনভয়েসিং বন্ধের প্রথম পদক্ষেপ নেই। কারণ দেশ থেকে পকেটে করে ডলার-পাচার খুব কম হয়। বড় ধরনের অর্থপাচারের ঘটনাগুলো ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে। আবার রফতানি পণ্যের মুনাফা বিদেশে রেখেও অর্থপাচারের ঘটনা ঘটে। সেটি রোধেও উদ্যোগ নেওয়া হয়।’

হুন্ডি বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘প্রবাসীরা হয়তো ৫০০ টাকা দেশে কোনও পরিবারের কাছে পাঠাবেন, তখন সে ওখানেই পরিচিত কোনও ব্যক্তিকে দিয়ে বলছেন— দেশে তার পরিবারকে দিতে। ওই টাকা বিদেশেই থেকে যায়। তার বিপরীতে বাংলাদেশে কোনও একজন প্রতিনিধি টাকা প্রদান করেন। টাকা প্রদানের ক্ষেত্রে আগে যেমন বাড়ি গিয়ে দিয়ে আসতেন, এখন সেটি এমএফএসের মাধ্যমে হচ্ছে। এ ধরনের ১ থেকে ২০০ অ্যাকাউন্ট প্রতিদিন বন্ধ করা হচ্ছে। পরে আবার মুচলেকা নিয়ে কিছু অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হয়। কোনোটির বিরুদ্ধে আবার স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

গভর্নর বলেন, ‘দেশে বছরে মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে লেনদেন হয় ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন। আর ব্যাংকিং চ্যানেলে হয় ২৭০ বিলিয়ন। কিন্তু ছোট একটি অংশের লেনদেন সত্ত্বেও মানি চেঞ্জাররা যখন ডলারের রেট ২ টাকা বাড়িয়ে দেন, তখন অনেক প্রবাসীই রেমিট্যান্সের অর্থ ধরে রাখার চেষ্টা করেন। এভাবেই ডলার সংকট তৈরি হয়। এজন্য মানি চেঞ্জারের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেন থেকে বিরত থাকতে হবে। এটি আমাদের দেশে সম্পূর্ণ অবৈধ।’

সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়ার সভাপতিত্বে কর্মশালার উদ্বোধনীতে আরও উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস।

সিআইডি অবৈধভাবে উপার্জিত সম্পত্তি ক্রোক করছে এবং ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করছে
কর্মশালার সূচনা বক্তব্যে সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, ইতোপূর্বে মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত মামালায় শুধুমাত্র কেরিয়ার এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে সিআইডি মাদক ব্যবসার গডফাদার বা মূলহোতাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় মামলা করে তাদের অবৈধভাবে উপার্জিত সম্পত্তি ক্রোক করছে এবং তাদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করছে। এতে করে অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছে এবং এ অবৈধ পথ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে।

প্রধান অতিথি, বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মানিত গভর্নর তার বক্তব্যে মানিলন্ডারিং রোধে সিআইডি’র ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, সিআইডি সাইবার ক্রাইম এবং মানি লন্ডারিং এর উপর ভালো কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে অনলাইন গ্যাম্বলিং এবং ই মানি সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সিআইডিতে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে হবে। ২০৪১ এর স্মার্ট বাংলাদেশকে সামনে রেখে সিআইডির ইনভেস্টিগেটিং অফিসারদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে এই ধরনের কার্যকরী প্রশিক্ষণ, সেমিনার বা ওয়ার্কশপ আরো আয়োজন করতে হবে।

কালের আলো/ডিএস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email