বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধ করার চেষ্টা করছে মিয়ানমার: র‌্যাব ডিজি

প্রকাশিতঃ 11:36 pm | February 24, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার যুদ্ধ করার জন্য চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) এম খুরশীদ হোসেন।

তিনি বলেছেন, মিয়ানমার যা করছে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই করছে। মিয়ানমার অনেক আগে থেকেই চাচ্ছে বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজ মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

এম খুরশীদ হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা আটক হওয়া থেকে শুরু করে তারা পায়ে পাড়া দিচ্ছে, আমরা তো কাজ করি আমরা জানি। আমি বহুবার কক্সবাজার গিয়েছি, বর্ডারে গিয়েছি, আমি সব ঘুরে এসেছি। প্রধানমন্ত্রী যে দৃঢ়চেতা এবং তার যে প্রজ্ঞা, উনি কোনো দিন যুদ্ধে জড়াবেন না। কারণ এখন যুদ্ধে যাওয়া মানে আমার দেশটা শেষ হয়ে যাওয়া।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের সামরিক সরকার চাচ্ছে আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ বাধাতে পারলে তারা সেভ হবে। কারণ ওই দেশে এখন যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, আরাকান আর্মি তাদের বিরুদ্ধে গিয়ে এখন সমানে ভূমি দখল করছে। সেনাবাহিনী-আরাকান দ্বন্দ্ব এখন বলতে গেলে শেষ পর্যায়ে চলে গেছে। গভর্নমেন্ট বাঁচার জন্য উসকানি দিচ্ছে।

মিয়ানমারের মাদকের বড় গ্যাং স্টার আমাদের জালে
মাদক এখন বিভিন্ন দেশ থেকে এয়ারেও আসছে, জলপথেও মিয়ানমার থেকে ম্যাক্সিমাম সময় আসছে। এটা ইনটেশনালি পাঠানো হচ্ছে। কিছুদিন পর আপনারা জানবেন, আমরা যে জাল ফেলেছি, মিয়ানমার থেকে মাদক আনার সবচেয়ে যে বড় গ্যাং স্টার, তাকে আমরা জালের মধ্যে ফেলেছি। আমরা কিছু করতে পারব।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, বর্তমান জেনারেশনের যে চ্যালেঞ্জ তার মধ্যে একটা হলো মাদক আর একটা ইলেকট্রনিক ডিভাইস। নেশা বলতে আমরা শুধু মাদক বুঝি, তা কিন্তু না। নেশা হচ্ছে এমন একটা জিনিস যে আপনি আপনার অরিজিন লাইফের বাইরে যে কোনো কাজে যখন আসক্ত হয়ে গেলেন ওটাই নেশা। এটা এখন হয়েছে মাদক, এটা হয়েছে জুয়া, বিভিন্ন রকম অনলাইনে গেম খেলা, সারা দিন ফেসবুক টেপা। এগুলো সবই কিন্তু নেশা। মাদক ব্যবসায়ীরা অনেকে বাড়ি-গাড়ি করছে। তাদের খোঁজ খবর আমরা রাখছি। র‌্যাবের অ্যাকশন হবে ফাইনাল অ্যাকশন। এখন এ প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে শুধু বই খাতা দিয়ে স্কুলে পাঠিয়ে দিলাম আর শিক্ষকরা পাহারা দেবে তা সম্ভব না। বাচ্চাদের শুরুতেই তৈরি করতে হবে। মাটি যখন নরম থাকে, তখন আপনি তাকে যে কোনো আকার দিতে পারবেন। আর মাটি যখন শক্ত হয়ে যাবে, তখন আকার চেঞ্জ করতে গেলে ভেঙে যাবে। একটা বাচ্চাকে যদি শৈশব ও কৈশোর থেকে না শেখান, পরবর্তীতে কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে কিন্তু কিছুই শিখবে না। অতএব, অভিভাবকদের মূল ভূমিকা রয়েছে, তারপর শিক্ষকদের।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রনি হত্যা মামলা প্রসঙ্গে র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, সাগীরা মোর্শেদ মারা যাওয়ার ৩৫ বছর পার হয়েছে। আর সাংবাদিক দম্পতি হত্যা তো মাত্র কয়দিন। আমরা চাচ্ছি প্রকৃত খুনিকে খুঁজে বের করতে। মামলাটির তদন্ত এর আগে ডিএমপি করেছে, ডিবি করেছে, এখন আমাদের কাছে। তবে এখনো পজিটিভ কিছু আসে নাই। আমাদের চেষ্টা চলছে।

এর আগে র‌্যাবের মহাপরিচালক কাশিয়ানী এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজ মাঠে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ২০২৩ সালে এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫প্রাপ্ত ১০৯ জন শিক্ষার্থীর হাতে নগদ ১০ হাজার করে টাকা ও ক্রেস্ট তুলে দেন।

র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফিরোজ কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখেন- র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ইমতিয়াজ আহমেদ, গোপালগঞ্জে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আজহারুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মাহবুবুল আলম (ক্রাইম এন্ড অপস), র‌্যাবের সিনিয়র এএসপি মো. আসিফ উদ-দৌলা, জেলা শিক্ষা অফিসার সেলিম তালুকদার, কাশিয়ানী এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ কে এম মাহবুব, অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক জায়েদুর রহমান, অভিভাবক স্বপন কুমার কুণ্ডু, কৃতি শিক্ষার্থী মো. আশরাফুল আজাদ সামী, লুবনা খানম প্রমুখ। পরে পথিক ব্যান্ডের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

কালের আলো/ডিএস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email