ডিবি-র‍্যাবের জ্যাকেট পরে ডাকাতি করতো তারা

প্রকাশিতঃ 10:05 am | November 10, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

ডিবি ও র‍্যাবের জ্যাকেট পরে জনসমাগমহীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লেজার লাইটের মাধ্যমে যাত্রীবাহী বাসের গতিরোধ করে ডাকাতি করতো তারা। শুধু তাই-ই নয় নিজেদের ডিবি পুলিশের এএসপি, ওসি, র‌্যাবের এসআই ও কনস্টেবল পরিচয় দিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় রাতে ঘুরে বেড়াতো এই ডাকাত দল।

অবশেষে র‍্যাবের হাতে ধরা পড়েছে সেই চার সদস্য। তারা হলো- মো. কাওসার আলী (৩০), আব্দুল্লাহ আল-মামুন (৪০), আলী আকবর (২৪) ও ইমামুল হক (২৭)। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি ডিবির জ্যাকেট, একটি র‌্যাব জ্যাকেট, দুটি ওয়াকিটকি সেট, একটি হ্যান্ডকাফ, একটি ভুয়া পুলিশ আইডি কার্ডসহ এনআইডি কার্ড, মানিব্যাগ, লেজার লাইট, ছয়টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (৯ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর টিকাটুলী র‌্যাব-৩ সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

ওই ডাকাত দলের সদস্য সংখ্যা ছয় জন। তাদের মধ্যে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি দুই জন পলাতক। তাদের গ্রেফতারে র‌্যাবের গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান।

সিও আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, চক্রটি গত তিন-চার বছর ধরে ডাকাতি করে আসছে। তাদের মূল টার্গেট নিউমার্কেট এবং পল্টন এলাকার ব্যাংকের কাস্টমার। যখন কোনও এলাকায় ডাকাতির কার্যক্রম পরিচালনা করে তখন ডাকাত দলের সর্দার কাওসার সবাইকে নিয়ে বস্তিতে ভাড়া করা বাসায় সমবেত হয়। সেখান থেকে গিয়ে ডাকাতির স্থান পর্যবেক্ষণ করে। কোনও কাস্টমার ব্যাংক থেকে টাকা তুলে অন্য জায়গায় যাওয়া সময় ডাকাত দলের গোয়েন্দা সদস্য সেই ব্যক্তিকে অনুসরণ করে। সুযোগ বুঝে তার টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেয়। এ পর্যন্ত চক্রটি ঢাকা কুমিল্লা-মহাসড়ক এবং মাওয়া হাইওয়ে রোডে ১৫-২০টির বেশি ডাকাতি করেছে।

তিনি বলেন, চক্রটি ডাকাতির দিন দুই-তিনটি ব্যাংকের ওপর নজরদারি চালায়। যে ব্যক্তি বেশি টাকা তোলে, চক্রের সদস্যরা তার পিছু নেয়। ভুক্তভোগী যখন টাকা নিয়ে কোনও যাত্রীবাহী বাসে ওঠে, তার সঙ্গে ডাকাত চক্রের গোয়েন্দা সদস্যরাও ওঠে। তারপর তারা দলের অন্যান্য সদস্যকে বিভিন্নভাবে পরিবহনের গতিপথ এবং লোকেশন বলে দেয় ও নিয়মিত আপডেট দিতে থাকে। ডাকাত দলের নির্ধারিত স্থানে বাকি সদস্যরা ডিবি ও র‌্যাবের জ্যাকেট পরে বাসটির গতিরোধ করে। পরে বাসে থাকা টার্গেট করা ব্যক্তিকে অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী বা হত্যা মামলার আসামি বলে গাড়ি থেকে নামিয়ে নেয়। পরে তাদের গাড়িতে ওঠায়। এরপর তার কাছ থেকে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ডাকাত দলের সর্দার কাওসারের নামে বিভিন্ন থানায় তিনটি ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা রয়েছে। কাওসার বিভিন্ন সময় বগুড়া থেকে ঢাকায় এসে তার সহযোগীদের একত্রিত করে ডাকাতি করে থাকে। চক্রটি ডাকাতি কার্যক্রমের সুবিধার্থে যাত্রাবাড়ী এলাকার বস্তিতে ভাড়ায় একটি ঘর নিয়ে সেখান থেকে ডাকাতির পরিকল্পনা এবং রেকি কার্যক্রম পরিচালনা করে।

কাওসার ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরি মামলায় ২০২০ থেকে ২০২২ সালে ৭ মাস জেল খেটে জামিনে বের হয়। জামিনে বের হয়ে আবারও ডাকাতি করে। তার দৃশ্যমান কোনও পেশা নেই।

কাওসারের প্রধান সহযোগী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের নামে বিভিন্ন থানায় একটি ডাকাতি, দুটি অস্ত্র মামলা, দুটি ভুয়া সরকারি কর্মচারী পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সে ২০২০ এবং ২০২১ সালে বিভিন্ন মেয়াদে দুটি মামলায় সর্বমোট ২০ মাস জেল খাটে। জামিনে বের হয়ে বস্তিতে ভাড়া করা বাসা থেকে ডাকাতির কার্যক্রম চালায়।

আলী আকবর মুন্সীগঞ্জ এলাকা ও ইমামুল গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকা থেকে কাওসার বাহিনীর সঙ্গে ঢাকায় বস্তিতে এসে সমবেত হতো এবং তাদের সঙ্গে ডাকাতি করতো। গ্রেফতার ইমামুলের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা রয়েছে।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email