ফের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি, আতঙ্কে স্থানীয়রা

প্রকাশিতঃ 10:21 am | October 23, 2022

কালের আলো প্রতিবেদক:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা সীমান্তে ফের গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এ ঘটনায় ছেড়ারমাঠ সীমান্ত এলাকার দেড় শতাধিক পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল থে‌কে রাত পর্যন্ত গোলাগুলি বাড়তে থাকে সীমান্ত এলাকায়। মর্টার শেল এবং গুলির বিকট শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সীমান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে।

স্থানীয়রা জানান, বেলা ১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৪, ৬, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের চেরারমাঠ সীমান্তের ৪৪, ৪৫, ৪৬ ও দৌছড়ি ইউনিয়নের ৪৭, ৪৮ ও ৫৯ পিলার পুরান মাইজ্জা ক্যাম্প, অংচাফ্রী ক্যাম্প ও সালি ডং ক্যাম্পের ওপারের মিয়ানমার অভ্যন্তরে অগণিত মর্টার ও আর্টিলারি বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। এসব গোলার আওয়াজে এপারে যেন ভূমিকম্প সৃষ্টি হচ্ছিল।

নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবছার বলেন, দুপুর থেকে সদর ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ড ৪৩, ৪৪ নং পিলার চেরার মাঠ এলাকার ওপারে গোলাগুলিতে কেঁপে ওঠে এপার। ওপারে গুলাগুলি ও আর্টিলারি মটারশেল বিস্ফোরণের আওয়াজে এপারের গ্রামের অনেক বাসাবাড়ি কেঁপে ওঠেছে। আতংকে এলাকাবাসী ছুটাছুটি করছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ও স্থানীয়রা জানায়, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু, বাইশফাঁড়ি, রেজু, আমতলী, ফাত্রাঝিরি, হেডম্যানপাড়া এবং দৌছড়ি ও সদর ইউনিয়নের সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সেদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে মিয়ানমার বাহিনীর দুই মাস ধরে সংঘাত চলছে।

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে মিয়ানমার সরকারি বাহিনীর ব্যবহৃত যুদ্ধ বিমান এবং ফাইটিং হেলিকপ্টার থেকে নিক্ষেপ করা গোলা এসে পড়ছে বাংলাদেশ সীমান্তে। মাঝেমধ্যেই মর্টার শেলের গোলা এবং ভারী অস্ত্রের গুলি এসে পড়ছে ঘুমধুম সীমান্তে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর উড়ে এসে পড়া মর্টার শেলের গোলা বিস্ফোরিত হয়ে শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া এক রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। আহত হয় আরও ৫ জন।

কালের আলো/এস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email