মির্জা আজম: উন্নয়নের রূপকার ও সমাজসেবক

প্রকাশিতঃ 4:15 pm | September 13, 2022

সৈয়দ ফারুক হোসেন :

মির্জা আজম ১৯৬২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার শুকনগরী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২-এ ৬০ পেরিয়ে ৬১-তে পা রাখলেন। তার বাবা মির্জা আবুল কাশেম এবং মা মোছা. নূরুন্নাহার বেগম। জনাব আজম বিবাহিত এবং দুই কন্যা মির্জা আফিয়া আজম অপি এবং মির্জা আসফিয়া আজম অমি’র বাবা। তার স্ত্রী দেওয়ান আলেয়া আজমও সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। মির্জা আজম একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ।

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জামালপুর-৩ (সংসদীয় আসন নং: ১৪০) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ এবং ২০০৮ সালে তার নিজ দল সরকার গঠন করার পর সরকারদলীয় হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।মির্জা আজম, মূলত একজন আপদমস্তক রাজনীতিক।

পর পর ৬বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি ৫ম সংসদে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির, ৭ম সংসদে সরকারি প্রতিশ্রুতি সংক্রান্ত কমিটির এবং বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির এবং ৯ম সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১২ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

১৩ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি দিনরাত ব্যস্ত থাকেন সমাজ সেবা এবং রাজনীতি নিয়ে। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের কথা ভাবেন। তাদের পাশে থাকেন। মির্জা আজম জামালপুর জেলাবাসীর স্বপ্নপূরণের অনেক উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু উন্নয়ন নয় জামালপুরের মানুষের কাছে মির্জা আজম পরিচিত হয়ে উঠেছেন শিক্ষাবন্ধু হিসেবে।

১৯৬৮ সালে বালিজুড়ী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে তার শিক্ষা জীবন শুরু হয়। তিনি ১৯৭৮ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন জামালপুর জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। অতঃপর জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে ১৯৮০ সালে উচ্চমাধ্যমিক এবং ১৯৮৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান- এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ১৯৭৭ সালে হাইস্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থাতেই রাজনীতি শুরু করেন। একই সময়ে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদস্যপদ লাভ করেন। অতঃপর ১৯৭৯ সালে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ ছাত্র সংসদের অ্যামিউজমেন্ট এন্ড এন্টারটেইনমেন্ট সেক্রেটারি হন। তিনি ১৯৮১ সালে জামালপুর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।

তিনি ১৯৮৭ সালে জামালপুর জেলা আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক হন। ১৯৯১ সালে জামালপুর জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি এবং জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জামালপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

তিনি ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। উক্ত সময়কালীন তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।তিনি এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর মধ্যে জামালপুর জেলাধীন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, এটি বাংলাদেশের ৪০ তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ময়মনসিংহ বিভাগের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।

২০ নভেম্বর ২০১৭, মহান জাতীয় সংসদে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০১৭ সর্বসম্মতিক্রমে ও কণ্ঠভোটে পাশ করা হয়। ২৮শে নভেম্বর ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি গেজেটভুক্ত হয়। ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় এবং পরবর্তীকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এক বিশেষ আদেশবলে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফিশারিজ কলেজকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদ হিসেবে আত্ত্বীকরণ করা হয়।

একই দিনে নেত্রকোণায় আরেকটি নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠার জন্য অনুমোদন দেয়া হয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বঙ্গবন্ধু কলেজ, শেখ কামাল কলেজ, খাজা শাহ সুফি ইউনুছ আলী ডিগ্রি কলেজ, আলেয়া আজম কলেজ, মির্জা আজম ডিগ্রি কলেজ, আব্দুল জলিল কারিগরি কলেজ, আব্দুল হাই বাচ্চু মহিলা কারিগরি কলেজ অন্যতম। তাঁর নির্বাচনী এলাকা ছাড়াও বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকায় যথাযথ ও সুষম উন্নয়নের জন্য খুবই উদগ্রীব থাকেন। তিনি শিক্ষা, সামাজিক কার্যক্রম, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে স্ব-উদ্যোগে সহায়তা দিয়ে দেশের মানুষের জীবন-মান উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।ছয়বারের এমপি, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, এখন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক।

জনপ্রিয়তায় তার সমকক্ষ আওয়ামী লীগের নেতা খুব কমই পাওয়া যাবে। সদা হাস্যজ্জল, কর্মীবান্ধব। সারাক্ষণ কর্মীদের নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। তিনি সুদক্ষ ভাবে কর্মীদেরকে আগলে রাখেন, কর্মীদের সমস্যার সমাধান করেন এবং আওয়ামী লীগের কোন্দল, বিভক্তি, কমিটি বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকেন। মির্জা আজমের সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হলো তিনি সার্বক্ষণিক একজন রাজনীতিবিদ এবং এর পাশাপাশি সমাজসেবক। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা তিনি রাজনীতির এবং জনগণের জন্য অন্তপ্রাণ। তিনি যে একজন ভালো সংগঠক সেটি তিনি প্রমাণ রেখেছিলেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায়, আবার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েও তিনি তার যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন।

ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়ে তিনি দল গোছানো, দলের কোন্দল নিরসনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।আওয়ামী লীগের খুব কম নেতাই ছয়বার এমপি হওয়ার বিরল সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। কিন্তু তার চেহারা শিশুতোষ, সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল। এখনো তার চেহারায় উদ্দীপ্ত তারুণ্যেরই ছাপ লেগে আছে। বয়স যাই হোক না কেন, যতবারই এমপি হোক না কেন, মির্জা আজম এখনো আওয়ামী লীগের প্রবীণ-পৌড়ের তকমা লাগাতে পারেননি। তিনি এখনো আওয়ামী লীগের মধ্যে তারুণ্যের প্রতীক হয়েই আছেন।

আর সে কারণেই দলের ভিতর বিপুল জনপ্রিয়তা।আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রাণশক্তি যে মির্জা আজমের বিচক্ষণতা দলের নেতাকর্মীরাই ভালোমতো উপলব্ধি করেন। এই প্রাণশক্তির কারণেই তিনি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যতের আরও গৌরব উজ্জ্বল করবেন। আর মির্জা আজমের জন্য সবচেয়ে বড় গুণ হলো যে, তিনি শিশুতোষ তারণ্য থেকে বেরিয়ে একটি প্রবীণ রাশভারী ইমেজ দাঁড় করিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সংগঠনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের যে সকল নেতাগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন তাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে মির্জা আজম অন্যতম। তাঁর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করছি।

লেখক: রেজিস্ট্রার, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

Print Friendly, PDF & Email