শক্তি হারাচ্ছে জাওয়াদ, বৃষ্টি থাকতে পারে সারাদিন

প্রকাশিতঃ 10:30 am | December 06, 2021

নিজস্ব সংবাদদাতা, কালের আলো:

সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে ঢাকায় গতকাল থেকে ঝরছে বৃষ্টি। অগ্রহায়ণের এই বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েছেন রাজধানীবাসী। বৃষ্টির সঙ্গে সড়কে যানজট দেখা দেওয়ায় দুর্ভোগের এই মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে। তারপরও ভোগান্তি উপেক্ষা করে নিজ নিজ কর্মস্থলে যাচ্ছেন রাজধানীবাসী।

সোমবার (০৬ ডিসেম্বর) নগরবাসীর ঘুম ভেঙেছে বৃষ্টির শব্দে। টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে, সড়কে জমেছে পানি। ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

সোমবার বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৭৬ বৃষ্টি হয়েছে ফরিদপুরে। এ সময়ে ঢাকায় ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ আর নেই। এটি অনেক আগেই দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপের পর নিম্নচাপের পরিণত হয়েছে। এখন দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে রূপ নিয়েছে। এটি এখনও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এটি এখনও স্থলভাগে ওঠেনি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে বুলেটিনে বলা হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপ আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর ও ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় এর প্রভাব থাকবে মঙ্গলবার পর্যন্তও। এই দুইদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। ‘জাওয়াদ’ ধীরে ধীরে আরও দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ বা লঘুচাপ আকারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সুন্দরবন উপকূলের কাছে দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। এর প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের বেশকিছু স্থানে হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার ও টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের পথে যাতায়াতকারী সব জাহাজ চলাচল রোববার সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের টানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

কালের আলো/এসআরকে/এমএইচএ

Print Friendly, PDF & Email