কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সিদ্ধান্ত ঘিরে অশান্ত আনন্দ মোহন কলেজ!

প্রকাশিতঃ 3:14 pm | December 04, 2021

ময়মনসিংহ সংবাদদাতা, কালের আলো:

দীর্ঘদিন পর হঠাৎ করেই অশান্ত হয়ে উঠেছে ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী কলেজ আনন্দ মোহন কলেজ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে কলেজটিকে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (০৪ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শুক্রবার (০৩ ডিসেম্বর) রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ একটি নোটিশের মাধ্যমে ময়মনসিংহ নগরীর আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্রলীগের ইউনিটটি জেলা শাখা ছাত্রলীগের অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। কলেজের অবস্থান মহানগর এর ভেতরে হওয়া সত্ত্বেও কিভাবে জেলা ছাত্রলীগের অন্তর্ভুক্ত হয় এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এমন সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন খোদ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম। তিনি লেখেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহকে বিভাগ ঘোষণা করেছেন এবং ময়মনসিংহ মহানগরকে একটি আলাদা জেলা ইউনিট হিসেবে ঘোষণা করে ময়মনসিংহ মহানগরের দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত নেতাদের ময়মনসিংহ মহানগরের অন্তর্গত ৩৩টি ওয়ার্ড এবং এই অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

‘কিন্তু সমস্ত সাংগঠনিক নিয়ম নীতির বাইরে গিয়ে এবং ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে কোন প্রকার পূর্ব আলোচনা না করে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্রলীগ নিয়ে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তাতে নিন্দা ও দুঃখ প্রকাশ করছি। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এহেন সিদ্ধান্তের ফলে ময়মনসিংহ মহানগরে কোন প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দায়ভার সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নিতে হবে।’

এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবিতে শনিবার সকাল থেকেই কলেজ ছাত্রলীগের একটি অংশ ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয় এবং কলেজ শাখাটি মহানগর শাখায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকে।

বেলা ১২ টার দিকে ছাত্রলীগের আরেকটি অংশ হঠাৎ দুইটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। এ সময় দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। কলেজ ছাত্রলীগের একাধিক নেতার দাবি, জেলা ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ কলেজে এসে ককটেল ফুটিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) ফারুক হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ঝগড়া বাদে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। ফের কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

কালের আলো/ডিএসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email