রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙচুর করা শিক্ষার্থীদের কাজ নয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 1:47 pm | December 01, 2021

নিজস্ব সংবাদদাতা কালের আলো:

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় যারা গাড়ি ভাঙচুর করছে আগুন দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙচুর করা শিক্ষার্থীদের কাজ নয়, এটা কেউ করবেন না। দয়া করে যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যান, লেখাপড়া করুন। আর যারা দোষী, অবশ্যই তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।’

বুধবার (০১ ডিসেম্বর) সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল এবং ধানমন্ডি-২৭ নম্বরে জয়িতা টাওয়ারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় দোষীদের খুঁজে বের করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক সতর্ক এ ব্যাপারে। সঙ্গে সঙ্গে দোষীদের খুঁজে বের করা হয়েছে। আর, সব জায়গায় ভিডিও ফুটেজ আছে। যেকোনো সময় যে অপরাধ করছে, তাদের ধরে ফেলা খুব একটা কঠিন হচ্ছে না। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেই সেটা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে গাড়ি ভাঙচুর, আগুন দেওয়া… যারা করবে, তাদেরও শাস্তি দেওয়া হবে। যে গাড়িতে আগুন দেওয়া হবে, সে গাড়িতে যদি কেউ মারা যায় বা পোড়ে, তাহলে এ ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। এটা সবাইকে মাথায় রাখতে হবে।

‘আমার এখানে একটি প্রশ্ন, এটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমগ্র জাতিকে প্রশ্ন করছি— এই যে আগুন দেওয়া শুরু হলো, ওই গাড়িতে কি যাত্রী নেই, শিশু নেই; ওখানে কি ছাত্রছাত্রী নেই, ওই আগুনে যারা পুড়বে, আহত হবে বা মারাও যেতেও পারে, তার দায়িত্বটা কে নেবে? সে দায়িত্বটা কে নেবে? একটা গাড়িতে অ্যাক্সিডেন্ট হলো, একটা মানুষ মারা গেল বলে আরও ১৫টা গাড়ি ভাঙা এবং সেখানে আগুন দেওয়া, সে ভাঙার ফলে ও আগুন দেওয়ার ফলে গাড়িতে যাত্রী-ড্রাইভার তারা যারা আহত হয়, অথবা কেউ নিহত হয় সে দায়িত্বটা কারা নেবে?’

সরকার প্রধান বলেন, বলেন, রাস্তাঘাটে চলার সময় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, ট্রাফিক রুলস মেনে চলতে হবে। রাস্তায় যে কোনো জায়গা থেকে, যেখান-সেখান থেকে রাস্তা পার হতে গেলে অ্যাক্সিডেন্ট হবেই। একটা চলমান গাড়ি চট করে ব্রেক করতে পারে না। ব্রেক কষতে সময় লাগে। সেখানে প্রত্যেকটা জায়গায় রাস্তা পারাপারের জায়গা নির্দিষ্ট করা আছে। সেখান থেকে রাস্তা পার হওয়া সমীচীন।

শেখ হাসিনা বলেন, হঠাৎ করে দৌড় দেবে, তার পর অ্যাক্সিডেন্ট হবে, আর অ্যাক্সিডেন্ট হলেই রাস্তায় লোক নেমে গাড়ি ভাঙা, গাড়িতে আগুন দেওয়া, গাড়ি পোড়ানো— এটি কী ধরনের কথা। একটি অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে একটা মানুষ মারা গেছে, তাকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে, তার সেবা না করে লাঠিসোটা নিয়ে নেমে পড়ল বাকি গাড়ি ভাঙতে এবং আগুন দিতে।

চালকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের আমি বলব— তাদেরও সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হবে। অনেক জনসংখ্যা বেশি আমাদের। স্বাভাবিকভাবে সেখানে গাড়ি চালাতে গেলে সেখানে সঠিক প্রশিক্ষিত হতে হবে।

তিনি জানান, সরকার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের জন্য একবারে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ট্রেনিং দিচ্ছে। সব কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কালের আলো/এনএল/পিএম

Print Friendly, PDF & Email