মোহনা টিভির সাংবাদিক মুশফিক সুনামগঞ্জ থেকে উদ্ধার

প্রকাশিতঃ 10:38 am | August 06, 2019

কালের আলো প্রতিবেদক:

ঢাকায় নিখোঁজ মোহনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মুশফিকুর রহমানকে আহত অবস্থায় সুনামগঞ্জের গোবিন্দপুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার(৬ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের গোবিন্দপুর এলাকার সড়কে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তাঁকে সড়কের পাশে থাকা একটি মসজিদে নিয়ে যান। পরে এলাকাবাসী পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেয়।

স্থানীয় সংবাদকর্মী ফুয়াদ মনি জানান, গোবিন্দপুরের মসজিদের ইমাম নামাজ পড়তে উঠলে একজন লোককে হাঁটাচলা করতে দেখে তিনি এগিয়ে গিয়ে তাঁর পরিচয় জানতে চান। পরে লোকটি তাঁর পরিচয় সাংবাদিক বললে তিনি সোহাগ মনিকে খবর দেন। পরে সোহাগ মনি সুনামগঞ্জ সদর থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে।

উদ্ধার হওয়া সাংবাদিক মুশফিকুর রহমান জানান, গত শনিবার গুলশান এলাকা থেকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর চোখের মধ্যে হঠাৎ তরল কিছু একটা ছিটিয়ে অজ্ঞান করে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর আর কিছুই বলতে পারেননি তিনি। আজ মঙ্গলবার ভোরে একটি গাড়ি থেকে তাঁকে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের গোবিন্দপুর এলাকায় ফেলে গেলে তিনি সেখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকেন।

সাংবাদিক মুশফিক আরো জানান, দুর্বৃত্তরা তাঁকে শেষ ইচ্ছার কথা জানতে চান, তিনি তখন তাঁর মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে চান। এরপর দুর্বৃত্তরা জানতে চায়, তিনি কীভাবে মরতে চান—গুলি খেয়ে নাকি গলা টিপে। কথা বলার সময় বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন মুশফিক।

সুনামগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিন্নাত হোসেন বলেন, ‘আমরা স্থানীয় একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করি। তাঁর সঙ্গে থাকা পরিচয়পত্র দেখে এবং ঢাকায় তাঁর পরিবার ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি যে উনি নিখোঁজ হওয়া সাংবাদিক মুশফিকুর রহমান। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঢাকায় তাঁর পরিবার ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা এলে তাঁকে হস্তান্তর করা হবে।’

পুলিশ আরো জানায়, মুশফিকুর রহমানের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। তবে তাঁকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।

গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার গুলশান থেকে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন মোহনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মুশফিকুর রহমান।

কালের আলো/এআর/এমএম

Print Friendly, PDF & Email