ময়মনসিংহে ইনকিলাবের বর্ণাঢ্য প্রতিনিধি সম্মেলনে সালাহউদ্দিন মুক্তি এমপি

‘শত প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও ইনকিলাব স্বকীয় অবস্থান ধরে রেখেছে’

প্রকাশিতঃ 9:08 pm | February 22, 2018

বিশেষ প্রতিবেদক, কালের আলো:

শত প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও দৈনিক ইনকিলাব স্বকীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের জাতীয় পার্টির এমপি ও তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ মুক্তি।

তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই ইনকিলাব ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিনির্মাণে পাঠকপ্রিয় এ দৈনিকটির ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে। ইনকিলাবের বিশ্লেষণ ও গঠনমূলক সমালোচনা পাঠকদের মতো আমাদেরকেও আন্দোলিত করে। দেশ ও জনগণের পক্ষে ইনকিলাবের বলিষ্ঠ ও সুদৃঢ় অবস্থান অদূর ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ময়মনসিংহ পৌরসভার শহীদ শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে দৈনিক ইনকিলাবের ময়মনসিংহ ব্যুরোর আওতাধীন বৃহত্তর ময়মনসিংহের ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোণা ও টাঙ্গাইল জেলার জেলা সংবাদদাতা, উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতাদের বার্ষিক প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

বর্ণাঢ্য এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক ইনকিলাবের ময়মনসিংহ ব্যুরো প্রধান ও বিশেষ সংবাদদাতা মো: শামসুল আলম খান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ কমার্স কলেজের প্রিন্সিপাল মো: এখলাছ উদ্দিন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) কেন্দ্রীয় সদস্য ও ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন।

প্রতিনিধি সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা এ.কে.নাসিম খান, শেরপুর জেলা সংবাদদাতা মো: মেরাজ উদ্দিন, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা সংবাদদাতা মো: রফিকুল ইসলাম, কুলিয়ারচর উপজেলা সংবাদদাতা মো: রফিকুল বাহার, নিকলী সংবাদদাতা মো: হেলাল উদ্দিন, তাড়াইল উপজেলা সংবাদদাতা আশরাফ আলী মীর, পাকুন্দিয়া সংবাদদাতা খন্দকার আছাদুজ্জামান, কটিয়াদী উপজেলা সংবাদদাতা এম.এ.কুদ্দুস, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি সংবাদদাতা স.ম.জাহাঙ্গীর খান, গোপালপুর সংবাদদাতা আমিনুল ইসলাম মারুফী, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা সংবাদদাতা শামসুদ্দিন মাষ্টার, নান্দাইল উপজেলা সংবাদদাতা শংকর চন্দ্র বণিক, ফুলবাড়িয়া উপজেলা সংবাদদাতা মো: শহিদুল ইসলাম, গফরগাঁও উপজেলা সংবাদদাতা মো: আতিকুল্লাহ, ভালুকা উপজেলা সংবাদদাতা মোবাশ্যারুল ইসলাম সবুজ, ফুলপুর উপজেলা সংবাদদাতা খলিলুর রহমান, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সংবাদদাতা আতাউর রহমান, তারাকান্দা উপজেলা সংবাদদাতা মো: ফজলে এলাহী ঢালী, নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলা সংবাদদাতা কাজী মো: মোফাজ্জল হোসেন সবুজ, দুর্গাপুর সংবাদদাতা সন্দীপ দত্ত, শেরপুরের নালিতাবাড়ি সংবাদদাতা আবুল হাশেম বাচ্চু, জামালপুরের ইসলামপুর সংবাদদাতা ফিরোজ খান লোহানী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সংবাদদাতা মো: আশরাফুল আলম।

বৃহত্তর ময়মনসিংহের ৬ জেলার এ প্রতিনিধি সম্মেলনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে শহীদ শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে। এ সম্মেলনে ময়মনসিংহ ব্যুরোর আওতাধীন সব জেলা, উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতার প্রাণবন্ত ও স্বত:স্ফূর্ত উপস্থিতিতে এক মিলনমেলা তৈরি হয়। তাঁরা একে অপরের সঙ্গে কুশল ও পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। পাশাপাশি ইনকিলাবকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে তাঁরা অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

নিজেদের বক্তৃতায় সব সংবাদদাতারাই অভিন্ন কন্ঠে দেশ ও জনগণের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দৈনিক ইনকিলাব প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের আলেমকুল শিরোমণি, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা এম.এ.মান্নান (রহ:) এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে তাঁর সুযোগ্য জ্যেষ্ঠ সন্তান, দেশের প্রথিতযশা সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক আলহাজ্ব এ.এম.এম.বাহাউদ্দিনের দক্ষ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে দুর্বার গতিতে ইনকিলাব এগিয়ে চলায় মহান আল্লাহ’র কাছে শোকরিয়া আদায় করা হয়।

সভাপতির বক্তৃতায় দৈনিক ইনকিলাবের বৃহত্তর ময়মনসিংহের ব্যুরো প্রধান ও বিশেষ সংবাদদাতা মো: শামসুল আলম খান বলেন, ‘ইনকিলাব এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। ইনকিলাব শুধু ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী একটি দৈনিক নয় ইনকিলাব সব ধর্মের প্রতিই শ্রদ্ধাশীল। সঠিক, বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও খবরের ভেতরের খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে ইনকিলাব অনন্য।

তিনি বলেন, গোটা বিশ্ব যখন জঙ্গিবাদের কালো থাবায় মুখ থুবড়ে পড়ছে ঠিক তখন বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ ইসলামিক রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দেশের আলেম-ওলামাদের ঐক্যবদ্ধ করতে একটি বিশেষায়িত প্ল্যাটফর্মের নাম দৈনিক ইনকিলাব। ইনকিলাব সম্পাদক আলহাজ্ব এ.এম.এম.বাহাউদ্দিন সাহসী নেতৃত্বে ইনকিলাব দেশ ও জনগণের পক্ষে বরাবরই কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ইনকিলাব সম্পাদকের বিশ্লেষণধর্মী কলাম দেশ ও জাতিকে এগিয়ে চলার প্রেরণা যোগায়। তিনি প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবীদ ও গবেষক আলহাজ্ব এ.এম.এম.বাহাউদ্দিনের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতার আগে দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ সংবাদদাতা রেজাউর রহমান সোহাগ মোবাইল ফোনে প্রাঞ্জল ও যুক্তিনির্ভর বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাঁকজমকপূর্ণ এ আয়োজন প্রমাণ করেছে দৈনিক ইনকিলাবের বৃহত্তর ময়মনসিংহ ব্যুরো অফিস পত্রিকাটির উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে। ইনকিলাব তাঁর স্বকীয়তা বজায় রেখে এগিয়ে যাবে। পত্রিকার সম্পাদক আলহাজ্ব এ.এম.এম.বাহাউদ্দিনের যোগ্য নেতৃত্বে ইনকিলাব অতীতের মতো আগামীতেও জনগণের পাশে থাকবে। তিনি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথি ও সংবাদদাতাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) কেন্দ্রীয় সদস্য ও ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রায় সব সরকারের সময়েই ইনকিলাবের ওপর আঘাত এসেছে। কিন্তু আদর্শের প্রশ্নে ইনকিলাব কোনদিন আপোস করেনি। দেশ ও জনগণের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের কারণেই ইনকিলাব আজো পাঠক মহলে জনপ্রিয়। ভবিষ্যতেও ইনকিলাবের এ ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলেও মনে করেন তিনি।

ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ কমার্স কলেজের প্রিন্সিপাল এখলাছ উদ্দিন বলেন, দেশের কর্পোরেট মিডিয়া হাউজের সংস্কৃতির যুগেও ইনকিলাব দাপটের সঙ্গেই টিকে আছে। আর এর প্রধান কারণ ইনকিলাব কখনো আদর্শচ্যুত হয়নি। ইনকিলাব বারবার জাতিকে পথ দেখিয়েছে। ইনকিলাবের ম্যাসেজ সরকার ও দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের জাতীয় পার্টির এমপি ও তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন মুক্তি বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ.এম.এরশাদ, সাবেক ধর্মমন্ত্রী মাওলানা

এম.এ.মান্নান (রহ:) ও ইনকিলাব একই সূত্রে গাঁথা। ইরাক যুদ্ধের সময় ইনকিলাবের পাঠকপ্রিয়তা ছিল সবার শীর্ষে। মাদ্রাসা শিক্ষার প্রচার ও প্রসারের জন্য মাওলানা এম.এ.মান্নানের নেতৃত্বে ইনকিলাব সেই শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দেশের আলিয়া ও কওমী মাদ্রাসার শিক্ষকরা এখনো যদি নিয়মিত ইনকিলাব পড়েন তাহলে পত্রিকাটি আবারো প্রচার সংখ্যায় শীর্ষে পৌঁছবে বলে আমি মনে করি।

এমপি সালাহউদ্দিন মুক্তি আরো বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহের ৬ জেলার এ প্রতিনিধি সম্মেলন এক ঝাঁক সংবাদকর্মীদের মিলনমোহনায় পরিণত হয়েছে। টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ আমাদের ময়মনসিংহ বিভাগে আসেনি। জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের এমপি বেগম রওশন এরশাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণেই আমরা চার জেলার সমন্বয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ পেয়েছি। তাঁর প্রতি ময়মনসিংহবাসীর রক্তঋণ।

তিনি বলেন, টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ সব সময় ময়মনসিংহকে এড়িয়ে চলে। কিন্তু এ প্রতিনিধি সম্মেলনে অন্যান্য জেলার পাশাপাশি এ দু’ জেলার সংবাদকর্মীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি আমাদের মুগ্ধ করেছে।

কালের আলো/এসকে

Print Friendly, PDF & Email