ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে। প্রথম ইনিংসে ১৭২ রানে পিছিয়ে থেকে ৭ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ। সাদমান ইসলামের চোটে ব্যাটিংয়ের জন্য কার্যত বাকি ছিল মাত্র দুই উইকেট। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে একাই লড়াই চালিয়ে গেলেন তাওহীদ হৃদয়। শুধু দলকে লিডের স্বপ্নই দেখালেন না, দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে টেস্টে দ্বিশতকের কীর্তি গড়লেন তিনি।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে হৃদয়ের এই ইনিংস একাধিক রেকর্ডে জায়গা করে নিয়েছে। ৩০৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। তাঁর ইনিংসটি সাজানো ১৯টি চার ও ৭টি ছক্কায়।
প্রথম সেঞ্চুরিতেই দ্বিশতক
বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরির ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করার রেকর্ড ছিল মুমিনুল হকের। ১৮১ রান করেছিলেন তিনি। হৃদয় নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকেই দ্বিশতকে রূপ দিয়ে ছাড়িয়ে গেলেন সেই রেকর্ড।
এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। মুশফিকের নামের পাশে রয়েছে তিনটি দ্বিশতক। সাকিব ও তামিম করেছেন একটি করে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো হৃদয়ের নাম।
সিলেটে প্রথম দ্বিশতক
২৫ বছর বয়সী হৃদয়ের ব্যাটে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পেল বাংলাদেশ। এই মাঠে আগের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান জয়ের ১৭১ রান। শ্রীলঙ্কার কামিন্দু মেন্ডিসের ১৬৪ রানও ছিল আগের উল্লেখযোগ্য ইনিংসগুলোর একটি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটার এর আগে ১৫০ রানের ঘরও পেরোতে পারেননি। হৃদয় সেই সীমা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেলেন দুই শতে।
তাইজুলকে নিয়ে গড়লেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি
চাপের মুখে অষ্টম উইকেটে তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ১১৭ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে এই জুটি বাংলাদেশের ইনিংসকে নতুন করে লড়াইয়ে ফেরায়।
টেস্টে অষ্টম উইকেটে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি। এই উইকেটে সর্বোচ্চ ১৪৪ রানের জুটির রেকর্ড মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজের। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাঁরা এই রেকর্ড গড়েছিলেন।
হৃদয়ের ঐতিহাসিক ইনিংসের পরও প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ২৫ রানে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। এখন লক্ষ্য, এই লড়াইকে প্রথম ইনিংসের লিডে রূপ দেওয়া।
কালের আলো/এএইচ/জেএন
