সিলেট টেস্টে কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট হাতে অসাধারণ দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন তাওহিদ হৃদয়। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টেই তুলে নিয়েছেন প্রথম সেঞ্চুরি। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত এই ব্যাটার এবার দেখিয়েছেন ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতার অনন্য উদাহরণ। সতীর্থদের একের পর এক বিদায়ের মধ্যেও উইকেটে অবিচল থেকে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি।
মেহেদী হাসান মিরাজ আউট হওয়ার সময় ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন হৃদয়। দলের শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যানের বিদায়ে কিছুটা হতাশ হয়ে পড়লেও দ্রুতই নিজেকে সামলে নেন। এরপর বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বাকি ১৯ রান পূর্ণ করে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম শতকের দেখা পান তিনি। সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে চারটি বাউন্ডারি মারেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
সমালোচনার জবাব দিলেন ব্যাট হাতেই
মিরপুরে আগের টেস্টে দুই ইনিংসেই আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছিলেন হৃদয়। তাঁর টেস্ট খেলার ধৈর্য ও মানসিকতা নিয়ে তখন প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সিলেটে ব্যাট হাতে সেই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তিনি।
দ্বিতীয় দিন ব্যাটিংয়ে নামার সময়ও ধারাভাষ্যকক্ষে হৃদয়ের টেস্ট মেজাজ নিয়ে আলোচনা চলছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক পেসার ইয়ান বিশপের পর্যবেক্ষণ ছিল, টেস্ট ক্রিকেটের উপযোগী ধৈর্য ও মানসিকতা আরও বাড়াতে হবে হৃদয়কে। মাঠে নিজের পারফরম্যান্স দিয়েই সেই চ্যালেঞ্জের জবাব দিয়েছেন তিনি।
প্রতিপক্ষের চাপেও হারাননি নিয়ন্ত্রণ
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের সঙ্গে মানসিক লড়াইয়েও দৃঢ়তা দেখিয়েছেন হৃদয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার জেইডেন সিলস নিয়মিত তাঁকে কথার মাধ্যমে চাপে ফেলার চেষ্টা করেছেন। তবে কোনো উসকানিতেই মেজাজ হারাননি বাংলাদেশের এই ব্যাটার।
কখনো কাট, কখনো ড্রাইভ, সুইপ কিংবা পুল—উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শট খেলেছেন তিনি। তবে আক্রমণাত্মক হওয়ার পাশাপাশি বলের গুণাগুণ বুঝে ডিফেন্স করতেও পিছপা হননি। পুরো ইনিংসজুড়েই ছিল আত্মবিশ্বাস ও নিয়ন্ত্রণের ছাপ।
সতীর্থদের বিদায়ের মধ্যেও অবিচল হৃদয়
তৃতীয় দিনের সকালে ২৯ রানে অপরাজিত থেকে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ব্যাটিং শুরু করেন হৃদয়। এরপর একে একে মুশফিক, লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের বিদায় দেখেছেন তিনি। মিরাজের সঙ্গে ৪১ রানের জুটি গড়ার পর আবারও একা হয়ে পড়েন।
পরে তাইজুল ইসলাম উইকেটে এলে তাঁকে আগলে রাখার চেষ্টা করেন হৃদয়। তাঁর সঙ্গে জুটি গড়েই সেঞ্চুরির মাইলফলকে পৌঁছান। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির ঠিক আগে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন এই ব্যাটার। এরপর ব্যাটের আগায় হেলমেট রেখে মুচকি হাসিতে উদ্যাপন করেন নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। গ্যালারি ও ড্রেসিংরুম থেকে আসে করতালি।
বাংলাদেশের সামনে এখনো কঠিন পথ
সেঞ্চুরি করলেও ম্যাচের পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে বাংলাদেশ তখনো ১৫১ রানে পিছিয়ে। হাতে রয়েছে মাত্র দুই উইকেট। চোটের কারণে সাদমান ইসলাম ব্যাট করতে পারবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতি পর্যন্ত ১৭১ বলে ১০০ রানে অপরাজিত ছিলেন হৃদয়। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও একটি ছক্কা। দলের বিপর্যয়ের মধ্যে এমন দায়িত্বশীল ইনিংস বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি। তবে ম্যাচ বাঁচাতে হলে সেঞ্চুরির পরও হৃদয়কে আরও দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকতে হবে।
কালের আলো/ইএকে/জেএন
