Kaler Alo
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

তুরাগে মৃত্যু, অন্ধকারে তাহসিফের শেষ কয়েক ঘণ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

তুরাগে মৃত্যু, অন্ধকারে তাহসিফের শেষ কয়েক ঘণ্টা

তুরাগের কালো পানিতে মিলেছে সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির নিথর দেহ। কিন্তু কীভাবে তার মৃত্যু হলো, মৃত্যুর আগে সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল—তার উত্তর এখনো অজানা। রহস্যের কেন্দ্রে উঠে এসেছে তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ ও কথিত বান্ধবী জেরিকা তাসনীম দিশার নাম। ঘটনার রাত নিয়ে দীপের একেক সময় একেক রকম বক্তব্য তদন্তকারীদের সন্দেহ বাড়িয়েছে। এবার সেই বক্তব্যের সঙ্গে দিশার দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। এ জন্য দিশাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

  • বার থেকে মাজার বস্তি, এরপর নদে ঝাঁপ 
  • মাঝের ঘটনা নিয়ে ধোঁয়াশা; দীপের অসংগতির সূত্র ধরে জিজ্ঞাসাবাদে দিশা

তদন্তকারীদের সামনে এখন একগুচ্ছ প্রশ্ন। মধ্যরাতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় কেন গিয়েছিলেন তাহসিফ ও দীপ? সেখানে কারা তাদের ধাওয়া করেছিল? ধাওয়া থেকে বাঁচতেই কি তুরাগ নদে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তাহসিফ, নাকি এর পেছনে ছিল অন্য কোনো ঘটনা? মাদক কারবারিদের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা, নাকি পুলিশের অভিযানের মুখে পড়েছিলেন তারা? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন দীপ ও দিশার বক্তব্যের অসংগতি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

রোববার (০১ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে রাজধানীর কাফরুল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে নৌপুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌপুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, আগে রিমান্ডে নেওয়া দীপের বক্তব্যের সঙ্গে দিশার দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তার জিজ্ঞাসাবাদ গুরুত্বপূর্ণ। তবে দিশার আইনজীবী ইমাম হোসেন জাবেদ তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে দিশাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার রাতে রাত ১২টার দিকে তাহসিফ তাকে গাড়িতে করে বাসায় পৌঁছে দেন। এরপর তাদের মধ্যে আর যোগাযোগ হয়নি। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

একেকবার একেক কথা বলছেন দীপ
তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিনের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে দীপের বক্তব্যে একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। ঘটনার বিষয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। এসব বক্তব্যের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা বুঝতেই দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি বার থেকে বেরিয়ে আরও মাদক সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তাহসিফ ও দীপ মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। এলাকাটি মাদক কেনাবেচার অন্যতম পরিচিত স্থান। দীপের মধ্যে মাদক সেবনের লক্ষণও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা। তবে এ ধারণার পক্ষে এখনো চূড়ান্ত প্রমাণ মেলেনি। তাদের সেখানে যাওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্যও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নৌপুলিশ ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তাহসিফের সঙ্গে দিশার দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। তাহসিফের মোবাইল ফোনে দিশার সঙ্গে একাধিকবার কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

তাহসিফ ও দীপকে কেউ ধাওয়া করেছিল কি না, এমন প্রশ্নে পুলিশ সুপার বলেন, দীপের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বার থেকে বের হওয়ার পর তাদের আরও কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল বলে দীপ জানিয়েছেন। তবে সেখানে সত্যিই কেউ তাদের ধাওয়া করেছিল কি না, করলে কারা করেছিল—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বাবার হত্যা মামলা, তদন্তে নতুন মোড়
গত বুধবার তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। পরে তার বন্ধু দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেন পিবিআই কর্মকর্তারা।

এরপর শুক্রবার রাতে তাহসিফের বাবা এনায়েত করিম উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর দীপকে নৌপুলিশের কাছে হস্তান্তর করে পিবিআই। শনিবার মামলার প্রধান আসামি দীপকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে সামনে এসেছে ঘটনার রাতের শেষ কয়েক ঘণ্টা। বার থেকে বের হওয়া, মাজার বস্তিতে যাওয়া, কথিত ধাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত নদে ঝাঁপ দেওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে কী ঘটেছিল, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো পুলিশের হাতে নেই। দীপের বক্তব্যের সঙ্গে দিশার তথ্যের মিল-অমিল খুঁজে সেই অন্ধকার অধ্যায়ের পর্দা সরাতে চাইছেন তদন্তকারীরা। তবে তুরাগের পানিতে তাহসিফের মৃত্যুর পেছনে আসলে কী ঘটেছিল, সেই চূড়ান্ত রহস্যের উত্তর এখনো অধরাই।

কালের আলো/আরআই/এমকে

Link copied!