আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। প্রতিটি এলাকায় যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি। এ লক্ষ্যে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ, জরিপ ও মতামত যাচাইয়ের কাজ চলছে।
বিএনপির এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে, প্রার্থী নির্বাচনে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া। একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে দলীয় ঐক্য বজায় রেখে প্রতিটি এলাকায় একক প্রার্থীর পক্ষে সাংগঠনিকভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করতে চায় দলটি।
- স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দিতে জরিপ ও সাংগঠনিক যাচাই
- তারেক রহমানের পরিকল্পনায় বহুমাত্রিক যাচাই-বাছাই
- প্রার্থী নির্বাচনে তৃণমূলের মতামত ও সংসদ সদস্যদের অভিজ্ঞতার সমন্বয়
উপজেলা থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সমন্বিত প্রক্রিয়ায় প্রার্থী বাছাই
দলীয় সূত্র জানায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে উপজেলা পর্যায় থেকে মতামত ও সুপারিশ সংগ্রহ করা হচ্ছে। উপজেলা কমিটির সুপারিশ জেলা কমিটিতে যাবে। জেলা কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে তা বিভাগীয় টিমের কাছে পাঠাবে। কোনো পর্যায়ে অসংগতি দেখা দিলে তা পর্যালোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নির্বাচন পরিচালনা ও প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের নির্দেশনায় চার সদস্যের একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের সুপারিশ ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রার্থী নির্বাচনে গুরুত্ব পাচ্ছে স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা
বিএনপির নেতাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক পরিচিতি কিংবা সাংগঠনিক অবস্থান বিবেচনা করলেই হবে না। একজন প্রার্থীর অতীত কর্মকাণ্ড, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে হবে।
প্রার্থী বাছাইয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভোটারদের মনোভাব এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে তাঁদের ধারণা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হতে পারে। তবে এসব মতামতের পাশাপাশি জরিপ ও তৃণমূলের মূল্যায়নকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন তাঁরা।
একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থেকে একজনকে চূড়ান্ত করার চেষ্টা
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানিয়েছেন, যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা যাচাই করেই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। প্রতিটি ইউনিয়নে মতামত নেওয়া হচ্ছে। কোথাও আটজন, কোথাও ছয়জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম উঠে এসেছে। আলোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সেই সংখ্যা কমিয়ে দুই থেকে তিনজনে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্য থেকে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে সমর্থন দেওয়া হবে।
প্রার্থী বাছাইয়ে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রিন্সের বক্তব্য, এলাকার বাস্তবতা ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নিয়েই আলোচনা এগোচ্ছে। নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা কিংবা তাঁদের পক্ষে কথা বলাকে তিনি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন।
দলীয় ঐক্য ধরে রাখাই চূড়ান্ত লক্ষ্য
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগে তৃণমূলের মতামত, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমন্বয় এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের অভিজ্ঞতা—তিনটি বিষয়ই গুরুত্ব পাচ্ছে। একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্য থেকে একজনকে চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে এসব দিকের সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, সেটিই হবে দলটির সাংগঠনিক প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ দিক। দলটির লক্ষ্য, স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে সামনে এনে নির্বাচনের আগেই সাংগঠনিকভাবে একক প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিশ্চিত করা। এর মধ্য দিয়ে প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি তৃণমূলের নেতৃত্বকে সম্পৃক্ত করা এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে দলীয় সমন্বয় জোরদার করতে চায় বিএনপি।
কালের আলো /জেএন/এমকে
