Kaler Alo
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬
২২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী

৭ নভেম্বর, শহীদ জিয়া ও সার্বভৌম বাংলাদেশের রাষ্ট্রদর্শন: সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক পাঠ

৭ নভেম্বর, শহীদ জিয়া ও সার্বভৌম বাংলাদেশের রাষ্ট্রদর্শন: সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক পাঠ

একটি জাতির ইতিহাসে কিছু ঘটনা কেবল সময়ের স্মারক হয়ে থাকে না, হয়ে ওঠে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দর্শন, জাতীয় আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তেমনই একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর '৭ নভেম্বর ১৯৭৫ বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি রচিত হয়' শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধে দিনটিকে তৎকালীন দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় ভূরাজনীতি এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়-পরবর্তী সংকটময় ইতিহাসের এক যুগান্তকারী সন্ধিক্ষণ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তাঁর চোখে, ৭ নভেম্বর কেবল একটি নির্দিষ্ট তারিখ নয়। 

এটি ছিল ইন্দো-পাক উপমহাদেশের আধিপত্যবাদী রাজনৈতিক নকশা ও চক্রান্তের বিপরীতে বাংলাদেশের তৃণমূলভিত্তিক জাতীয় জাগরণের ঐতিহাসিক প্রকাশ। নিবন্ধটির মূল প্রতিপাদ্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব, সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রত্যয় এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের বিকাশ। অতীতের ঘটনাপ্রবাহকে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আত্মপরিচয় ও রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে যুক্ত করে বিশ্লেষণ করেছেন।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটলেও পরবর্তী সময়ে দেশকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর নিবন্ধে ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ, দুর্নীতি, দুঃশাসন, গণতান্ত্রিক অধিকার সংকোচন, একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা এবং রক্ষীবাহিনীর ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। তাঁর বিশ্লেষণে, এসব পরিস্থিতি স্বাধীনতাপরবর্তী জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি করেছিল। লেখকের কাছে স্বাধীনতার অর্থ কেবল ভূখণ্ডের মুক্তি নয়; এর সঙ্গে জড়িত জনগণের অধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তি, জাতীয় মর্যাদা এবং নিজস্ব পরিচয়ে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সক্ষমতা। এই প্রত্যাশার জায়গা থেকেই তিনি ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহকে মূল্যায়ন করেছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সৃষ্ট অনিশ্চয়তা এবং ৩ নভেম্বরের সামরিক অভ্যুত্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করার ঘটনা সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দেয়। সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যাখ্যায়, সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও পেশাদারিত্বের প্রশ্নটি তখন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গেও সম্পর্কিত হয়ে উঠেছিল। এ প্রসঙ্গে অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের ‘বাংলাদেশ: আ লেগাসি অব ব্লাড’ গ্রন্থের উল্লেখ করে লেখক ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থান ও তৎকালীন সামরিক পরিস্থিতির বিবরণ দিয়েছেন। ৬ নভেম্বর দিবাগত রাত থেকে ৭ নভেম্বরের প্রথম প্রহরে ঢাকা সেনানিবাসে সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে যে আন্দোলন শুরু হয়, তা দ্রুত বৃহত্তর জনসম্পৃক্ততায় রূপ নেয়। ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার’ এবং ‘সিপাহী-জনতা ভাই ভাই, জিয়াউর রহমানের মুক্তি চাই’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সেনানিবাস ও ঢাকার রাজপথ। সালাহউদ্দিন আহমদ এই ঘটনাকে সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক ঐক্যের এক অভূতপূর্ব প্রকাশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর বর্ণনায়, সৈনিকদের উদ্যোগে বন্দিদশা থেকে জিয়াউর রহমানের মুক্তি এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ৭ নভেম্বরকে বৃহত্তর জাতীয় তাৎপর্য প্রদান করে।

এ প্রসঙ্গে লে. কর্নেল (অব.) এম. এ. হামিদের প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর ‘তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা’ গ্রন্থে তিনি লিখেছেন: 'বিপ্লবীর এবং সেপাইরা বিভিন্ন ইউনিট থেকে বেরিয়ে এসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জিয়ার বাসভবনের চারপাশে সমবেত হতে থাকে। সবারই লক্ষ্যস্থল ছিল জিয়ার বাসভবন। সবাই সেখানে একত্র হয়ে দুর্গ ভেঙে বন্দী জিয়াকে বের করে আনবে, এই ছিল পরিকল্পনা।' (লে. কর্নেল (অব.) এম. এ. হামিদ, পিএসসি, ‘তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা’, হাওলাদার প্রকাশনী, ত্রয়োদশ সংস্করণ, ২০২৪, পৃষ্ঠা ১৫৮)।

লরেন্স লিফশুলজের ‘বাংলাদেশ: দ্য আনফিনিশড রেভল্যুশন’ গ্রন্থের প্রসঙ্গ টেনে লেখক ৭ নভেম্বরের ভোরে সৈনিক ও সাধারণ মানুষের রাজপথে উপস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছেন। মহিউদ্দিন আহমদ তাঁর ‘ইতিহাসের বাঁকবদল, একাত্তর ও পঁচাত্তর’ গ্রন্থে লিখেছেন: 'আমজনতা পথের পাশে দাঁড়িয়ে উল্লাস করে, হাততালি দেয় এবং অনেকে জীবনে প্রথমবারের মতো ট্যাংকে বা সেনবাহিনীর ট্রাকে চড়ে ঢাকার রাস্তায় ঘুরে বেড়ান।' (মহিউদ্দিন আহমদ, ‘ইতিহাসের বাঁকবদল, একাত্তর ও পঁচাত্তর’, পঞ্চম মুদ্রণ, মার্চ ২০২৩, পৃষ্ঠা ১২০)। সাবেক জাতীয় অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান তাঁর ‘১৯৭৫ সাল’ গ্রন্থে তৎকালীন বিশিষ্টজনদের মনোভাবের প্রসঙ্গে লিখেছেন: 'জিয়ার ক্ষমতাগ্রহণকে দেশের জন্য বর্তমান অবস্থার সর্বাপেক্ষা কল্যাণকর বলে সকলেই অভিমত প্রকাশ করলাম।' (সৈয়দ আলী আহসান, ‘১৯৭৫ সাল’, বাড কম্প্রিন্ট অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, চতুর্থ মুদ্রণ, অক্টোবর ২০২১, পৃষ্ঠা ১৫৯)। এসব উদ্ধৃতির মাধ্যমে সালাহউদ্দিন আহমদ মূলত ৭ নভেম্বরের সামরিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন। তাঁর আলোচনায় এ দিনের কেন্দ্রীয় তাৎপর্য হলো সিপাহী-জনতার ঐক্য এবং জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের প্রতি তৎকালীন আস্থার প্রকাশ।

৭ নভেম্বরের পর জিয়াউর রহমান প্রথমে উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং পরবর্তী সময়ে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। এরপর গণভোট, স্থানীয় নির্বাচন এবং রাজনৈতিক দল গঠনের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেন। ১৯৭৮ সালের ৩ জুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয় তাঁর রাজনৈতিক অভিযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক রওনক জাহানের ‘বাংলাদেশ পলিটিকস: প্রবলেমস অ্যান্ড ইস্যুজ’ গ্রন্থের আলোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর উপস্থাপনায় রওনক জাহানের বিশ্লেষণের মূল বিষয় হলো, জিয়াউর রহমান গণভোট, স্থানীয় নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক বৈধতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তাঁর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি এই দর্শনের রাজনৈতিক ভিত্তি হয়ে ওঠে। সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যাখ্যায়, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এ দেশের ভৌগোলিক সীমানা, সার্বভৌমত্ব, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয়-সামাজিক বৈচিত্র্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের ধারণা। বিএনপির ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি, শিল্প, উৎপাদন ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার বিষয়গুলোকে রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে যুক্ত করার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন। জিয়াউর রহমানের অর্থনৈতিক দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ কৃষি উন্নয়ন, খাল খনন কর্মসূচি, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। 

তাঁর মতে, রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে সুসংহত করতে অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতা অপরিহার্য। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন: ‘সভরিন্টি ইজ নট গিভেন; ইট ইজ কনস্ট্যান্টলি কনস্ট্রাক্টেড থ্রু ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেলফ-রিলায়েন্স।’ অর্থাৎ সার্বভৌমত্ব কোনো দান নয়; অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতার মাধ্যমে তা প্রতিনিয়ত গড়ে তুলতে হয়। আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের ‘সার্বভৌমত্ব ইজ নট গিভেন, ইট ইজ টেকেন’ বক্তব্যের প্রসঙ্গও তিনি এনেছেন। নিবন্ধে ইসলামী সম্মেলন সংস্থায় জিয়াউর রহমানের ভূমিকা, আল-কুদস কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়া, ইরান-ইরাক যুদ্ধের মধ্যস্থতায় ভূমিকা এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। এসব উদ্যোগকে লেখক বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখিয়েছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতাও তাঁর নিবন্ধের মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি সপ্তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। পরে আইন পেশায় যুক্ত হন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়া অঞ্চলে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৫ সালে নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘ সাড়ে নয় বছর ভারতের শিলংয়ে অবস্থান করতে হয় তাঁকে। সে সময় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনুপস্থিতিতে দলের মুখপাত্র হিসেবে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ২০২৪ সালের আগস্টে দেশে ফিরে আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখেন। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। প্রশাসন, আইন, সংসদ, মন্ত্রিসভা ও রাজনৈতিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ তাঁর পথচলা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি আলোচিত অধ্যায়।

সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর নিবন্ধের উপসংহারে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনাকে বিএনপির রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এই দিনের প্রধান শিক্ষা। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব এবং তারেক রহমানের রাজনৈতিক নির্দেশনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বিএনপির রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে, শহীদ জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শন ও ৭ নভেম্বরের ঐক্যের চেতনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণার উৎস।

নিবন্ধটির বিশেষত্ব হলো, লেখক ৭ নভেম্বরকে শুধু অতীতের একটি রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখেননি। তিনি জাতীয় আত্মপরিচয়, স্বাধীন রাষ্ট্রসত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে একটি স্থায়ী প্রেরণা হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন লেখক ও গবেষকের উদ্ধৃতি, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ এবং রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সমন্বয়ে তিনি তাঁর বক্তব্যকে বিস্তৃত ঐতিহাসিক পরিসরে স্থাপন করেছেন। সালাহউদ্দিন আহমদের লেখার মূল বার্তা হলো—স্বাধীনতা অর্জনের পাশাপাশি তাকে রক্ষা করতে হয়; সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জাতীয় আত্মমর্যাদা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য; আর জাতীয় ঐক্যই একটি রাষ্ট্রের শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরকে তিনি সেই ঐক্য, আত্মমর্যাদা ও জাতীয় জাগরণের প্রতীক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। মন্ত্রী লিখেছেন—'শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্ম ও অবদান অমর হোক। সিপাহী-জনতার ঐক্যের চেতনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ুক। বাংলাদেশ চিরকাল স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকুক। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।' 

লেখক : সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক সন্ধানী বার্তা; অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো.কম। 
mamunzi859@gmail.com

Link copied!