চার দিনের সরকারি সফর শেষে জাপান থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এসব আলোচনায় দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পায়।
নারিতা বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ সময় তখন বিকেল ৩টা ১৮ মিনিট। টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
এর আগে গত ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যান প্রধানমন্ত্রী। সফর শেষে তাঁর দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক ও আলোচনার আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষ হচ্ছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক
সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে এ সফরে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল জাপানি ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়। এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গেও মতবিনিময়
জাপান সফরকালে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও তাঁদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী যারা ছিলেন
জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। সফরসঙ্গী হিসেবে আরও ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
এ ছাড়া প্রতিনিধি দলে ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটি’র চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা। চার দিনের এ সফরে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক, জাপানি ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি
