Kaler Alo
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম

নিজস্ব নেভিগেশনে আরও এক ধাপ এগোল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম

নিজস্ব নেভিগেশনে আরও এক ধাপ এগোল ভারত

নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা ‘ন্যাভিক’ আরও শক্তিশালী করতে সফলভাবে নতুন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে ভারত। ‘এনভিএস-০৩’ নামের এই উপগ্রহটি জিএসএলভি-এফ১৮ রকেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে। এতে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পারমাণবিক ঘড়ি যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে বহুল ব্যবহৃত এল১ সিগন্যাল, যা ভবিষ্যতে স্মার্টফোন, বিমান চলাচল ও পরিবহন খাতে নেভিগেশন সুবিধা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠানো হয়। উৎক্ষেপণের পর উপগ্রহটি সফলভাবে নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে।

জিএসএলভি রকেটে সফল উৎক্ষেপণ
একসময় কারিগরি ত্রুটির কারণে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর জিএসএলভি রকেটকে ‘দুষ্টু ছেলে’ বলা হতো। তবে ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলে বর্তমানে এটি নির্ভরযোগ্য উৎক্ষেপণযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই রকেট ব্যবহার করেই ন্যাভিক ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে নতুন উপগ্রহটি পাঠানো হয়েছে। স্যাটেলাইটটি কক্ষপথে সফলভাবে স্থাপনের পর ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন বলেন, এর মাধ্যমে ভারত নিখুঁত সময় ও দিকনির্দেশনা প্রযুক্তির আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে। ইসরোর বিজ্ঞানীদের এই সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

কারগিল যুদ্ধের পর ন্যাভিক তৈরির উদ্যোগ
ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার পেছনে রয়েছে ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। ওই যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিদেশি নেভিগেশন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে দেশটি। এর ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠে ‘ন্যাভিক’।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত নির্ভুল অবস্থান ও সময়সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। ন্যাভিকের লক্ষ্য হলো সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই নিজস্ব স্যাটেলাইটভিত্তিক নেভিগেশন সুবিধা নিশ্চিত করা।

দেশীয় পারমাণবিক ঘড়িতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি
ন্যাভিক প্রকল্প বাস্তবায়নে অতীতে বেশ কিছু প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছিল ভারতকে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে আমদানি করা পারমাণবিক ঘড়িতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কয়েকটি স্যাটেলাইট কার্যকারিতা হারায়।

এবার সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে এনভিএস-০৩ উপগ্রহে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পারমাণবিক ঘড়ি যুক্ত করা হয়েছে। স্যাটেলাইটের অবস্থান নির্ণয় ও সময়ের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের ঘড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে নতুন এই প্রযুক্তি ভারতের মহাকাশ গবেষণায় আত্মনির্ভরতার প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্মার্টফোন ও বিমান চলাচলেও মিলবে সুবিধা
এনভিএস-০৩ স্যাটেলাইটে এল১ সিগন্যাল যুক্ত করা হয়েছে। এই সিগন্যালের ব্যবহার নেভিগেশন প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করতে পারে। এর ফলে স্মার্টফোনে অবস্থান নির্ণয়, বিমান চলাচল এবং পরিবহন ব্যবস্থায় ন্যাভিকের প্রয়োগের সুযোগ বাড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, একটি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পুরো নেভিগেশন নেটওয়ার্কের সব সীমাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব নয়। তবে নিজস্ব ও স্বাধীন নেভিগেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দীর্ঘ প্রচেষ্টায় এনভিএস-০৩ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দেশীয় প্রযুক্তিতে পারমাণবিক ঘড়ি তৈরি ও নতুন সিগন্যাল যুক্ত করার মধ্য দিয়ে এই খাতে ভারতের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

Link copied!