ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল। তাঁর দাবি, মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কর্মকাণ্ডই সরকারের রাজনৈতিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভোটাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছেন বিরোধী জোটের নেতারা।
কে সি বেণুগোপালের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ সরকারের পতন ঠেকাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বেণুগোপালের দাবি, মোদি সরকার বিরোধীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভয় পাচ্ছে। এ কারণেই দিল্লি ও মুম্বাইসহ বিভিন্ন শহরে মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা, কঠোর পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্দোলনকারীদের আটক করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বিরোধীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ভোটাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থামবে না বলে জানিয়েছেন এই কংগ্রেস নেতা।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষার দাবিতে আগামী সোমবার দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’।
এর আগে জোটের নেতারা ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানান। একই দাবিতে দেশের প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও বিরোধী নেতাদের সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং নির্বাচনব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন কে সি বেণুগোপাল। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিরোধীদের আন্দোলন চলবে।
ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং বিরোধীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিরোধী জোটের মধ্যকার রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি
