দিনাজপুর সংবাদদাতা

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১১:২৮ এএম

উচ্ছেদের দুই মাসেই ফুটপাত দখলে ফিরল দোকানপাট

দিনাজপুর সংবাদদাতা

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১১:২৮ এএম

উচ্ছেদের দুই মাসেই ফুটপাত দখলে ফিরল দোকানপাট

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় আট বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী শিফা মণির মৃত্যুর পর অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে ফুটপাত দখলমুক্ত করেছিল উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা। কিন্তু সেই অভিযানের দুই মাস না পেরোতেই আবারও ফুটপাতজুড়ে বসেছে দোকানপাট। নিয়মিত তদারকির অভাবে আগের পরিস্থিতি ফিরে আসায় পথচারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় স্কুলগামী শিশুদেরও মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে বাস, ট্রাকসহ ভারী যানবাহনের সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তাঁদের দাবি, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই হবে না, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার জন্য নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

শিফার মৃত্যুর পর উচ্ছেদ অভিযান
গত ১৮ আগস্ট সকালে ফুলবাড়ীর শাখা যমুনা নদীর সেতু-সংলগ্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিফা মণি। ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ না পেয়ে মায়ের হাত ধরে মূল সড়কে ওঠার পর ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মর্মান্তিক এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে সেদিনই উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালায়। নিমতলা মোড় থেকে ডাবল ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়। অভিযানের পর কিছুদিন এলাকাটি দখলমুক্ত ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আবারও ফুটপাতের জায়গায় দোকানপাট বসতে শুরু করে। এতে শিফা মণির মৃত্যুর পর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ফুটপাতজুড়ে চটপটি-ফুচকা ও ফলের দোকান
সম্প্রতি ফুলবাড়ী পৌর শহরের শাখা যমুনা নদীর সেতু-সংলগ্ন বটতলী এলাকায় ফুটপাতের ওপর আবারও চটপটি-ফুচকা, ফলের দোকান ও অস্থায়ী হকারদের পসরা দেখা যাচ্ছে। ফলে পথচারীদের হাঁটার জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিশুদের চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বেশি। ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে তাদের মূল সড়কে নামতে হচ্ছে। ব্যস্ত সড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকেরা। ফুলবাড়ী পৌর শহরের নর্থ পয়েন্ট স্কুলের অধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান বলেন, শিফা মণির মৃত্যুর পর ফুটপাত নিরাপদ হবে বলে তাঁরা আশা করেছিলেন। কিন্তু আবারও ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হচ্ছে। তিনি এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা
ফুটপাত দখলের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দারা। অভিভাবক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন তাঁদের ছেলেমেয়েরা এই পথ দিয়ে হেঁটে স্কুলে যায়। স্কুলের আশপাশ ও সংযোগ সড়কের ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাব আলী বলেন, সম্প্রতি পার্কে আসা-যাওয়ার সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ফুটপাতের এ অবস্থা দেখেছেন। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযানের পর নিয়মিত তদারকি না থাকায় দখলকারীরা আবারও দোকান বসানোর সুযোগ পাচ্ছেন বলে তাঁর অভিযোগ। অন্যদিকে, ফুটপাত দিয়ে চলাচলের সুযোগ হারিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ পথচারীরাও। হাবিবুর রহমান নামের এক পথচারী বলেন, এখন সড়ক দিয়ে হাঁটতেও ভয় লাগে। পেছন থেকে বাস বা ট্রাক এসে ধাক্কা দেবে কি না, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়।

কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, ফুটপাত অবমুক্ত রাখা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পরও কিছু অসাধু ব্যক্তি আবার ফুটপাত দখল করে নেন এবং অনেকে তাঁদের পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তাঁর ভাষ্য, ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। মানুষ বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নেমে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এ ধরনের দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এলাকাবাসীর দাবি, ঢাকা মোড় থেকে নিমতলা মোড় এবং ডাবল ব্রিজ থেকে ফায়ার সার্ভিস পর্যন্ত পুরো এলাকার সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি উচ্ছেদের পর যাতে আবার কেউ দোকান বসাতে না পারেন, সে জন্য নিয়মিত মনিটরিং ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

Link copied!