বিয়ের নামে প্রতারণা, ফেসবুকে বার্তা পেয়ে ব্যবস্থা নিলো পুলিশ

প্রকাশিতঃ 11:39 pm | May 01, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে কয়েক বন্ধুর উপস্থিতিতে মৌলভী ডেকে তাকে বিয়ে করেন এক ব্যক্তি। সরকারি নথিতে রেজিস্ট্রি ছাড়াই বিয়েটি সম্পন্ন হয়। কিছুদিন পর অন্য নারীর সঙ্গে স্বামীর সম্পর্কের বিষয়ে টের পান ওই শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করতে শুরু করেন ওই ব্যক্তি।

স্বামী ও তার পরিবারের কাছে স্বীকৃতি না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন ওই নারী। এরপর বাংলাদেশ পুলিশের ফেসবুক পেজে বার্তা দিয়ে সহায়তা চান ভুক্তভোগীর বোন।

পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং সেই বার্তা পেয়ে স্বামীর পরিবারের স্বীকৃতি আদায় ও আনুষ্ঠানিক বিয়ের ব্যবস্থা করে। এরপর ওই শিক্ষার্থীকে নিপীড়ন করে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ দায়েরের পর স্বামী ও পরিবারের লোকদের গ্রেফতারে মাঠে নামে পুলিশ।

শনিবার (১ মে) পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) মো. সোহেল রানা পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানা যায়।

পুলিশ জানায়, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া ওই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। লোকটির পরিবারের আর্থিক অবস্থা বেশ ভালো। মেয়েটির পরিবারও শিক্ষিত এবং মধ্যবিত্ত। সম্পর্কের এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তির কয়েকজন বন্ধুর উপস্থিতিতে তারা বিয়ে করেন। কোনো স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য বিয়ে ছিল না এটি। এক মৌলভী ডেকে এনে তার মাধ্যমে বিয়ে পড়ানো হয়। মেয়েটিকে বোঝানো হয় ধর্মমতে এটাই বিয়ে। মেয়েটিও লোকটিকে বিশ্বাস করে। তারা মিশতে থাকে।

লোকটির চলাফেরায় এক পর্যায়ে মেয়েটির সন্দেহ হয়। অন্য এক নারীর সঙ্গে স্বামীর সম্পর্কের কথা টের পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে বিষয়টি অস্বীকার করে। একপর্যায়ে তাকে ভালোয় ভালোয় সরে যেতে বলা হয়। মেয়েটি ওই ব্যক্তির পরিবারের কাছে গিয়ে সব কথা খুলে বলে। কিন্তু কেউ তাকে পাত্তা দেয়নি। তার কাছে কোনো প্রমাণও ছিল না। মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়ে মেয়েটি। এরপর সে তার বড় বোনের কাছে সব খুলে বলে।

প্রতিদিন মানসিকভাবে আরও বেশি করে ভেঙে পড়ছিল মেয়েটি। আত্মহত্যার উদ্যোগ নেয় কয়েকবার। বড় বোন তার পাশে দাঁড়ান। একপর্যায়ে বড় বোন বাংলাদেশ পুলিশ অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের ইনবক্সে ছোট বোনের জন্য সহযোগিতা চেয়ে বার্তা পাঠান। মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং সেই বার্তা পেয়ে খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুকুল আলমকে বার্তাটি পাঠায় এবং ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয়।

মেয়েটি ও তার পরিবারকে সেদিনই থানায় ডাকেন ওসি। ছেলেটি ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পুলিশি ও আইনি ঝামেলা এড়াতে লোকটির পরিবার মেয়ের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আনুষ্ঠানিক বিয়ে আয়োজনের প্রস্তাব দেয়। উভয়পক্ষের সম্মতিতে এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কয়েকদিনের মধ্যেই একটি সম্মানজনক দেনমোহর ধার্য করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

এরপর মেয়ের বড় বোন পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি বার্তা দেন। তিনি লেখেন- আপনাদের হেল্প না পেলে কী হতো, আর কী পরিমাণ প্রবলেমে পড়তাম সেটাই চিন্তা করছি। যতদিন আমাদের পরিবারের সদস্যরা বেঁচে থাকবেন ততদিন আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে আমরা সবাই দোয়া করবে।

এদিকে কিছুদিন পর আবারও বার্তা আসে পুলিশের কাছে। মেয়েটির সঙ্গে তার শ্বশুড়বাড়ির লোকজন ভালো আচরণ করছে না। তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। একপর্যায়ে তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। মেয়েটি তার শ্বশুড়বাড়ির কাছেই একটি বাসায় থাকছিল। বার্তাটি খিলগাঁওয়ের ওসি পাঠিয়ে পুনরায় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয় মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং।

এরপর ওসি ঘটনাস্থলে একটি মোবাইল টিম পাঠান। মেয়েটিকে তার শ্বশুড়বাড়িতে তুলে দেয়া হয়। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে মেয়েটির স্বামী এবং অন্য অভিযুক্তরা বাড়ি ছেড়ে আগেই পালায়। মেয়েটির নিরাপত্তার জন্য পুলিশের একটি মোবাইল টিম বাড়ির সামনে অবস্থান করে। মেয়েটির কাছ থেকে একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

কালের আলো/জেএসডি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email