মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের উদ্যোগে আশার আলো প্রান্তিক খামারিদের চোখে

প্রকাশিতঃ 10:13 am | April 23, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো :

করোনা মহামারির প্রথম ওয়েভ মোকাবেলায় মৎস্য ও পোল্ট্রি খামারিদের বাঁচাতে আর্থিক প্রণোদনা দিয়েছিল সরকার। কিন্তু এবার আর্থিক প্রণোদনার পরিবর্তে ভিন্নভাবে মৎস্য ও পোল্ট্রি খামারিদের পাশে দাঁড়িয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

খামারিদের রক্ষায় দেশজুড়ে চালু করেছে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র। দেশের প্রতিটি জেলা উপজেলায় কর্মরত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র। এসব ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে সারাদেশের খামারিরা তাদের মৎস্য ও প্রাণিজ পণ্য ন্যায্যমূল্যেই বিক্রি করছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এমন ইতিবাচক কর্মতৎপরতায় প্রান্তিক খামারি থেকে শুরু করে স্বল্প আয়ের হতাশাগ্রস্ত মানুষের ভুবনে আশার আলো ফুটিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম। এতে প্রান্তিক খামারিরা বেশ উপকৃত হচ্ছেন। হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন করোনায় জীবন-জীবিকা থমকে দাঁড়ানো স্বল্প আয়ের মানুষেরা। হাসির ঝিলিক তাদের চোখে-মুখেও।  

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, করোনা পরিস্থিতিতে বাজারজাতকরণ সঙ্কটে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদক, খামারি ও উদ্যোক্তাদের কথা মাথায় রেখে এবং ভোক্তাদের চাহিদা বিবেচনা করে সারাদেশে ন্যায্যমূল্যে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একই সূত্র জানায়, ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সাধারণ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারছেন। এতে করে খামারিরাও উৎপাদিত পণ্য ন্যায্যমূল্যে ভোক্তাদের কাছে সরাসরি বিক্রি করছেন। এছাড়াও অনলাইনে এসব পণ্য বিক্রির বিষয়েও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে ভ্রাম্যমাণভাবে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম বিক্রি। ৬৪ জেলায় ৭০৬টি ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ৫ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ১২৬ কোটি ৯৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকার মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ও দুগ্ধজাত পণ্য ভ্রাম্যমাণ পদ্ধতিতে বিক্রি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সম্পৃক্ত খামারিদের সমস্যা সমাধান করতে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। আর সার্বিক বিষয় মনিটরিং করতে পৃথক কন্ট্রোল রুম চালু করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর এবং মৎস্য অধিদফতর।

এক্ষেত্রে দায়িত্বরত স্থানীয় কর্মকর্তারা খামারিদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিচ্ছেন, তবে কোনো ক্ষেত্রে তারা সমাধান করতে না পারলে বিষয়টি কন্ট্রোল রুমে জানালে সেটি কেন্দ্রীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সার্বিক বিষয়ে প্রতিদিন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দিচ্ছে দুই অধিদপ্তর।

প্রান্তিক খামারিদের জন্য নিজেদের গ্রহণকৃত উদ্যোগের বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ বলেন, খামারিরা উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব পণ্য বিক্রি করে দেওয়ার জন্য উপজেলা থেকে শুরু করে ঢাকা শহর পর্যন্ত সব জায়গায় আমাদের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

যেখানে যেখানে যারা পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না তাদের মালপত্র আমাদের গাড়ি দিয়ে আমরা শহরে বা বাজারে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছি।’

ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের ব্যাপক সাড়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খামারিদের পণ্যগুলো আমরা খামারিদের কাছ থেকেই সংগ্রহ করছি। উপজেলা পর্যায় পর্যন্তও একইভাবে তাদের মাল আমাদের গাড়ির মাধ্যমে এনে বিক্রি করে দিচ্ছি। গত বছর আমরা দেখেছিলাম দুধ, ডিম, মাছ ও মাংস বিক্রি হচ্ছে না, ফেলে দিচ্ছি।

কিন্তু এ বছর এখনও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি এখনও, আশা করি ঘটবেও না। আর তাদের উৎপাদন, বিপণন, সরবরাহ সবকিছুই নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে, কোথাও কোনো বাধা নেই।’

জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম বলেন, ‘লকডাউনে সব কিছু বন্ধ হয়ে গেলে মানুষের মাছ, মাংস, দুধ ডিমের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে না। আবার উৎপাদক, খামারি, বিপণনকারীসহ এ খাত সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত চলমান নিষেধাজ্ঞাকালে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম সরবরাহে কোনো বাধা নেই।

ভ্রাম্যমাণভাবে খামারিদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করার ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। এর ফলে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। খামারিদেরও উৎপাদিত পণ্য বিপণনে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না।’

ঝটিকা পরিদর্শনে প্রাণিসম্পদের ডিজি
ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রে ন্যায্যমূল্যে প্রাণিজ পণ্য সহজেই মিলছে। এতে করে প্রান্তিক খামারিদের মুখে হাসি ফুটলেও রীতিমতো মাথায় হাত পড়েছে ডিম, দুধ ও মাংস ব্যবসায়ীদের।

বিক্রয়কেন্দ্রগুলো ঠিকঠাক চলছে কীনা, স্বল্প আয়ের মানুষ উপকৃত হচ্ছে কীনা বিষয়গুলো নিজের চোখে পরখ করতে ঝটিকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা: শেখ আজিজুর রহমান।

ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি কালের আলোকে জানান, রাজধানীতে ১৯ টি পয়েন্টে ১০ টি গাড়িতে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আমরা ডিম, দুধ, গরুর মাংসের সঙ্গে এখন খাসির মাংসও যোগ করার পরিকল্পনা করছি। একই সঙ্গে দেশজুড়ে আমাদের কর্মকর্তারা তৎপর রয়েছেন। আমরা প্রয়োজনীয় আপডেট নিচ্ছি।’

কালের আলো/এসআর/আরআই

Print Friendly, PDF & Email