করোনা পরিস্থিতি : প্রণোদনা অব্যাহত রাখার তাগিদ অর্থনীতিবিদদের

প্রকাশিতঃ 10:09 am | February 18, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

মহামারি করোনা ভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দেওয়া নীতিসহায়তা সঠিক ছিল বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদরা। এই সহায়তা বাতিল কিংবা শর্ত কঠোর না করে বরং তা অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে অর্থনীতিবিদরা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ওপরও জোর দিয়েছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দেওয়া বিভিন্ন প্রণোদনা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, করোনা মোকাবিলায় সরকারের নেতৃত্ব সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে এবং তা যথার্থ ছিলো। তবে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রণোদনা প্যাকেজসহ যে ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে, তা অব্যাহত রাখা উচিত। অন্তত চলতি অর্থবছর পর্যন্ত এ সুবিধায় পরিবর্তন আনা ঠিক হবে না। এছাড়াও তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির ওপর আরও বেশি হারে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ডিজিটাল ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সবাইকে করের আওতায় নিয়ে আসা, তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে আরও সহায়তা দেয়া, অবকাঠামো উন্নয়নে পদক্ষেপ নেয়া, সবুজ অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রমে বিনিয়োগ বাড়ানো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে আরও বেশি হারে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বিনিয়োগ কেন প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়ানো যাচ্ছে না, তার কারণ খুঁজে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, করোনার সময় আমাদের বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেছে। কিন্তু ভারত এমনকি পাকিস্তানেও বেড়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নীতিসহায়তা দেয়ার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে স্থানীয়পর্যায়ে চাহিদা বাড়ানো, দারিদ্র্যবিমোচন প্রক্রিয়ায় নজর দেয়া এবং রাজস্ব আদায়ে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন। জিডিপিতে রাজস্বের অবদান না বেড়ে উল্টো কমে যাওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এক সময় জিডিপিতে রাজস্বের অবদান

ছিলো ১১ শতাংশ, এখন তা ৭ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে গেছে। এছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের (এমএসএমই) উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের লক্ষ্যে কৃষি ব্যাংকের মতো কোনো বিশেষায়িত ব্যাংককে অন্তর্ভুক্ত করা এবং চামড়াশিল্পের উন্নয়নে সাভারের ট্যানারির কার্যক্রম দেখভালের লক্ষ্যে বিসিককে বাদ দিয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনো প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়ার কথা বলেন তিনি।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) পরিচালক এম এ রশিদ শাহ সম্রাট বলেন, আমি মনে করি ৩১/১২ পর্যন্ত আমাদের যে লোনগুলো রয়েছে সেগুলো ক্লাসিফাইড হবে না। এই সময়টা ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করতে হবে। কারণ এখন সমস্ত ব্যবসায়ীদের লোন এক্সপেয়ার হয়ে গেছে। আর একটি বিষয় হচ্ছে, সরকার যে প্রণোদনা দিচ্ছে এর ৫৪ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে মাত্র। বাকিগুলো যেনো ব্যবসায়ীদের দেয়া হয় সেই আহ্বান জানান এই ব্যবসায়িক নেতা।

কালের আলো/ডিএসবি/এমএইচএ

Print Friendly, PDF & Email