ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলার রায় আজ

প্রকাশিতঃ 10:27 am | November 19, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী ধর্ষণ মামলার রায় হবে বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর)। এদিন বিকেল ৩টায় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক মোসাম্মৎ কামরুন্নাহারের আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হবে।

গত ১২ নভেম্বর এ মামলায় একমাত্র আসামি মজনুর আত্মপক্ষ সমর্থন এবং রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই আদালত রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে এ মামলায় আইন অনুযায়ী আসামির সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই হবে। এ আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আফরোজা ফারহানা আহমেদ অরেঞ্জ বলেন, আইন অনুযায়ী আসামির সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন সাজার ব্যাপারে আমরা পূর্ণ আশাবাদী।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে আইনজীবী অরেঞ্জ বলেন, মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামি নিজে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাছাড়া ভুক্তভোগী ছাত্রী নিজেই আসামিকে শনাক্ত করেছে। ভুক্তভোগীকে আরও অনেক ছবি দেখানো হয়েছিল, তার মধ্যে সে মজনুকে শনাক্ত করেছে। মজনুর ডিএনএ মিলে গেছে। এ আসামি যার কাছে ওই ছাত্রীর ফোন বিক্রি করেছে সে নিজেও তাকে শনাক্ত করেছে। এসব কারণে আমরা মনে করি আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।

অপরদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী রবিউল ইসলাম রবি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আসামি ন্যায়বিচার পাবে বলে আমরা আশা করছি।

গত ৫ নভেম্বর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৪ সাক্ষীর ২০ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

চলতি বছর ১৬ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ২৬ আগস্ট এ মামলার একমাত্র আসামি মজনুর বিচার শুরু হয়। এরপর গত ২০ সেপ্টেম্বর মামলার বাদী ও ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর বাবার সাক্ষ্য দেওয়ার মাধ্যমে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরদিন ভুক্তভোগী সাক্ষ্যে মজনুকে ধর্ষক হিসেবে শনাক্ত করেন।

গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে নামার পর ওই ছাত্রীকে মুখ চেপে পার্শ্ববর্তী একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় অজ্ঞাত ব্যক্তি। সেখানে তাকে অজ্ঞান করে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

রাত ১০টার দিকে তার জ্ঞান ফিরলে নিজেকে নির্জন স্থানে আবিষ্কার করেন। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গন্তব্যে পৌঁছালে রাত ১২টার পর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাসায় ফেরেন।

কালের আলো/এসআর/এমএম

Print Friendly, PDF & Email