এসআই আকবরকে ধরতে ইমিগ্রেশনে পিবিআইয়ের চিঠি

প্রকাশিতঃ 4:03 pm | October 15, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান উদ্দিন (৩০) নামে এক যুবক নিহতের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকেই লাপাত্তা অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ধরতে ইমিগ্রেশনে চিঠি দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ধানমন্ডিতে অবস্থিত পিবিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, সিলেটের ঘটনার ডকেট (সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তথ্যের নথি) আমরা গত পরশুদিন রাতে পেয়েছি। ঘটনাস্থলে সিলেটের পিবিআই টিম তিন থেকে চার ঘণ্টা ছিল। আমরা আমাদের তদন্ত শুরু করে দিয়েছি। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের মনে হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া উপ-পরিদর্শক আকবরকে আমাদের দরকার।

তিনি বলেন, এ কারণে সমগ্র ইমিগ্রেশনে আমরা জানিয়ে দিয়েছি, আকবর যেন কোনোমতেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে না যেতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও সীমান্তের বিভিন্ন ইমিগ্রেশন সেন্টারে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, আকবর যেন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে। তাকে ধরার জন্য আমরা টিম রেডি করেছি। তাকে আমাদের খুবই দরকার।

ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার আরো বলেন, আমাদের আইজিপি স্যার সবসময় বলেন, করোনার মধ্যে তোমরা যে সুনাম কামিয়েছ, আকাম করে এ সুনাম নষ্ট করো না। আকবর যেহেতু এই অপকর্ম করে বাহিনীর সুনাম নষ্ট করেছে এবং সে আমাদের কথা চিন্তা করে নাই, সুতরাং তার বিষয়ে কোনো চিন্তা করার সুযোগ নেই।

‘১০ হাজার টাকার কারণেই কি এমন ঘটনা ঘটেছে’-এমন প্রশ্নের তিনি বলেন, আমরা বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখছি। একদিনেই সবকিছু বলা যাবে না। তবে আমরা একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কবর থেকে তার মরদেহ আবার উঠাব এবং তদন্ত করব।

এদিকে সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান উদ্দিনের মরদেহ পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিসবাহ উদ্দিন ও সজিব আহমদের নেতৃত্বে আখালিয়া এলাকার নবাবী মসজিদের পঞ্চায়েত গোরস্থান থেকে মরদেহটি তোলার কাজ শুরু করেন।

দুই ঘণ্টা পর মরদেহটি উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়।

উল্লেখ্য, রোববার (১১ অক্টোবর) রায়হান উদ্দিন নিহত হন। পুলিশের দাবি, ছিনতাইয়ের অভিযোগে নগরীর কাষ্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে রায়হান মারা যান। কিন্তু নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান নিহত হন।

মারা যাওয়ার পর রায়হানের শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তার হাতের নখও উপড়ানো ছিল। এ ঘটনার পর পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন করে রায়হানকে হত্যার অভিযোগ এনে নিহতের স্ত্রী কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) এ অভিযোগে পুলিশের ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটির সুপারিশে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ ৪ জনকে সাময়িক বরখাস্ত ও ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়।

কালের আলো/এসবি/এমআরকে

Print Friendly, PDF & Email