‘সবাই মিলে দিলে কর, দেশ হবে স্বনির্ভর’

প্রকাশিতঃ 10:31 am | September 11, 2020

মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন :

সভ্যতার প্রাকযুগ থেকেই মানুষ তার নিজের ও সভ্যতার তাগিদে রাষ্ট্র-কাঠামোতে নিজেকে নিয়োজিত করে আসছে। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্র-কাঠামোকে টিকে রাখার জন্য রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদান করে আসছে যাতে করে সেই অর্থ রাষ্ট্র পরিচালনা ও জনকল্যাণে ব্যয় হতে পারে।

জনগণ সচরাচর যে পদ্ধতি অনুসরণ করে রাষ্ট্রকে অর্থ প্রদান করে থাকে তা-ই মূলত ‘কর’ ব্যবস্থা। ‘কর’ হলো এমন এক ধরনের পরিশোধ যা ব্যক্তিগত কোনও প্রাপ্তির আশা ব্যতীত একজন করদাতা বাধ্যতামূলকভাবে রাষ্ট্রকে প্রদান করে থাকে। এভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার তহবিল সংস্থান হয়ে থাকে মূলত নাগরিকদের করের মাধ্যমে।

বাংলাদেশে আয়কর আইনের প্রয়োগের ইতিহাস অনেক পুরনো হলেও কার্যকরভাবে পালন করার ইতিহাস বেশিদিন আগের নয়। আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে আয়করের অগ্রযাত্রা শুরু হয় ১৮৬০ সালের গোড়ার দিকে। প্রেক্ষাপট ছিল ১৮৫৭ সালে সংগঠিত ভারতবর্ষে আজাদী আন্দোলনজনিত সরকারি তহবিলের যে ঘাটতি হয়েছিল, তার সংস্থান করা। এরপর অনেক বছর কেটে গেলো। ১৯২২ সালে এসে আয়কর সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণীত হলো। পরবর্তী সময়ে বছর বছর পরিবর্তনের কারণে এটি এক সময় এমন অবস্থায় এসে দাঁড়ালো যে, জনসাধারণের জন্য হয়ে উঠলো দুর্বোধ্য। এই আইনে এমন জটিলতা সৃষ্টি হয়, যাতে করে বাস্তবায়নও প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

একটি জনবান্ধব, সরল ও সহজবোধ্য আয়কর আইনের প্রয়োজনীয়তা দাবি উঠতে থাকলো নাগরিকদের কাছ থেকে। যার ফলে অনেক বছর পর বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮৪ সালে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৩৬)-এর মাধ্যমে এ কাজটি সম্পন্ন করেন। যার কারণে ১৯২২ সালের আয়কর আইন বাতিল হয়। ১৯৮৪ সালের পহেলা জুলাই থেকে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ কার্যকর করা হয়, যা এখনও চলমান। এ আইন বলতে গেলে বর্তমান প্রজন্মের। সাল ১৯৮৪। আমরা সবাই জানি যে কোনও আইনের সৃজন হয় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। আয়কর অধ্যাদেশও সেরকম এক পরিস্থিতিতে সামনে রেখে জারি করা হয়েছিল।

বাস্তবতা হলো সরকারের আয়ের সঙ্গে নাগরিকদের অংশগ্রহণ করার একটি প্রক্রিয়াকে আইনগত বৈধতা দেওয়াই হচ্ছে আয়কর আইনের মূল উদ্দেশ্য। আইনের আওতায় রেখে তা কার্যকর করা একটা গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আমাদের জনগণ বংশানুক্রমে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সরকারের কাছে প্রাপ্তির চেয়েও সরকারকে দেওয়ার জন্য জনগণ সর্বদায় প্রস্তুত ছিল, আছে ও থাকবে। আমরা যুগ যুগ থেকে এ অভ্যাসে অভ্যস্ত।

আইনের লালন ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, আইনের মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতা করা একজন সুনাগরিকের দায়িত্ব। আর অন্যসব আইনের মতো আয়কর আইনের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতার সঙ্গে তা প্রতিপালন একজন সুনাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণের মধ্যে পড়ে। আমাদের করদাতাগণ সুনাগরিকই শুধু নয় তারা দায়িত্বশীল সুনাগরিকও। যার কারণে আয়কর মেলায় অংশগ্রহণ করেন এবং সারিবদ্ধভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে আয়কর দিয়ে থাকেন।

আয়কর অধ্যাদেশের বিভিন্ন ধারা ও উপধারা এবং বিধি প্রণয়নের ফলে অনেক সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে এবং তা অব্যাহতভাবে হচ্ছে। আয়কর অধ্যাদেশ ও সমসাময়িক পরিবর্তনগুলোর প্রতি প্রত্যেক সম্মানিত করদাতার অধিকতর দখল থাকা এবং তা প্রতিপালন করা জরুরি। আমার আজকের উপস্থাপনার বিষয়বস্তুও তাই।

আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী ৭টি খাতের আয় থেকে আয়কর দিতে হয়। যেমন: বেতন খাতের আয় (ধারা-২১), নিরাপত্তা জামানতের সুদ হতে আয় (ধারা-২২), গৃহসম্পত্তি হতে আয় (ধারা-২৪), কৃষি হতে আয় (ধারা-২৬), ব্যবসা বা পেশা হতে আয় (ধারা-২৮), মূলধনী লাভ হতে আয় (ধারা-৩১) এবং অন্যান্য উৎস হতে আয় (ধারা-৩৩)।

এক নজরে দেখে নেই আইন অনুযায়ী উপরোক্ত খাতের আয়করদাতা কারা? আয়কর আইনের ২ (৪৬) ধারায় আয়কর দাতার শ্রেণি বিন্যাস করা হয়েছে। যেমন—একক ব্যক্তি, অংশীদারি ফার্ম, ব্যক্তি সংঘ, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার, ট্রাস্ট, ফান্ড, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, কোম্পানি, কোনও সত্তা, অন্য আইন দ্বারা সৃষ্ট কৃত্রিম সত্তা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি।

আইন বলে নির্ধারিত এই সকল করদাতা উপরোক্ত খাতগুলোর মধ্যে কোনও না কোনও খাতে আয় করে থাকেন। আয়ের এই খাতগুলো থেকে অর্জিত আয়ের ওপর আয়কর প্রদান করতে হয়। সংশ্লিষ্ট আয় থেকে কতিপয় খরচ আছে যেগুলো অনুমোদিত খরচ হিসেবে বিবেচিত। এ সংক্রান্ত বিধি-বিধানসমূহ যথাযথভাবে অনুসরণ করে আয়কর দিতে হয়।

আয়ের খাত থেকে আয়করযোগ্য আয় নিরূপণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট খাতের বার্ষিক মোট প্রাপ্তি থেকে অনুমোদনযোগ্য খরচ বা কর্তনসমূহ বাদ দিয়ে নিট প্রাপ্তি হিসাব করা হয়। সকল খাতের নিট প্রাপ্তির সমষ্টিকে বলা হয় মোট আয়। মোট আয়ের ওপর আয়কর পরিগণনা করতে হয়। আয়করের হার সময় সময় অর্থ আইন দ্বারা সংশোধিত/পরিবর্তিত হয়ে থাকে।

২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য আয়করের হার নিম্নরূপ:

পুরুষ করদাতার জন্য (৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে নয়) ৩,০০,০০০-এর ওপর ০%, নারী বা ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে পুরুষ করদাতা ৩,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ০%, প্রতিবন্ধী করদাতা ৪,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ০%, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৪,৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ০%। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনানুগ অভিভাবকের এরূপ প্রত্যেক সন্তান/ পোষ্যের জন্য করমুক্ত সীমা ৫০,০০০ টাকা বেশি।

উপরোক্ত করযোগ্য আয়ের পরবর্তী ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ৫%, পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ১০%, পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ১৫%, পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ২০% এবং পরবর্তী যেকোনও পরিমাণ আয়ের জন্য ২৫% হারে কর পরিশোধ করতে হবে।

এছাড়া এলাকাভেদে ন্যূনতম করের হার নির্ধারিত রয়েছে। যেমন—ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থানরত করদাতাদের জন্য ন্যূনতম কর ৫০০০ টাকা, অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকার করদাতাদের জন্য, ৪,০০০ টাকা এবং সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে অবস্থিত অন্যান্য সকল এলাকার করদাতার ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত আয়কর দিতে হবে।

এক্ষেত্রে বিষয়গুলো বিশেষভাবে খেয়াল রাখা দরকার:

একজন করদাতার আয় যেকোনও স্থানেই অর্জিত হোক না কেন তিনি যেখানে অবস্থান করবেন তার সে অবস্থানের ভিত্তিতেই ন্যূনতম করের হার নির্ধারণ হবে। কোনও করদাতা একই আয় বছরে যদি একাধিক স্থানে অবস্থান করে থাকেন তাহলে যে স্থানে তিনি সর্বাধিককাল অবস্থান করেছেন সে অবস্থান স্থলের জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম কর তার জন্য প্রযোজ্য হবে। ব্যবসাজনিত আয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসা পরিচালনার মুখ্য স্থানই ন্যূনতম আয়করের জন্য করদাতা অবস্থান স্থল হিসেবে গণ্য হবে।

একইভাবে একজন চাকরিজীবী করদাতা আয় বছরে একাধিক স্থানে কর্মরত থাকলে যে স্থানে তিনি অধিক সময়কাল অতিবাহিত করেছেন ন্যূনতম করের জন্য উক্ত স্থানই বিবেচনা করা হবে।

করমুক্ত সীমার ঊর্ধ্বে আয় আছে এমন করদাতার প্রদেয় আয়করের পরিমাণ হিসাব অনুযায়ী তার জন্য প্রযোজ্য ন্যূনতম আয়করের পরিমাণ অপেক্ষা কম হলে বা বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতে বিবেচনার পর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ প্রযোজ্য ন্যূনতম আয়করের কম, শূন্য বা ঋণাত্মক হলেও করদাতাকে তার জন্য প্রযোজ্য ন্যূনতম আয়কর পরিশোধ করতে হবে।

আয়কর রিটার্ন জমার বিধান:

আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ৭৫ ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক করদাতাকে বাধ্যতামূলকভাবে আয় বছর শেষে অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যে উপকর কমিশনারের কার্যালয়ে বার্ষিক তথ্য বিবরণী জমা দিতে হয়। তবে বর্তমানে আয় বছর শেষ হওয়ার পর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার বিধান চলমান রয়েছে। কোনও কারণে করদাতা উক্ত রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হলে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে উপকর কমিশনার রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ২ মাস পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করতে পারেন। এরপরও যদি কোনও করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে ব্যর্থ হন, তবে তার ওপর জরিমানা এবং অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিধান রয়েছে।

রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমানার বিধান:

করদাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে ব্যর্থ হলে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ১২৪ ধারা অনুযায়ী সর্বশেষ নিরূপিত করের ১০% এবং সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা এবং প্রতি দিনের জন্য ব্যর্থতার জন্য ৫০ টাকা হারে জরিমানা সংযোজিত হবে। এছাড়া ৭৩ ধারা অনুযায়ী ৫০% অতিরিক্ত সরল সুদ এবং নতুন সন্নিবেশিত ধারা ৭৩এ অনুযায়ী ট্যাক্স ডে (৩০ নভেম্বর)-এর মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে ব্যর্থ হলে প্রদেয় করের ওপর মাসিক ২% হারে বিলম্ব সুদ আরোপযোগ্য হবে। উপকর কমিশনার কর্তৃক অনুমোদিত বর্ধিত সময়ে রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিলম্ব সুদ পরিশোধ করতে হবে।

রিটার্নের সঙ্গে করদাতাকে যে সকল ডকুমেন্ট দাখিল করতে হয়:

খাতভিত্তিক ডকুমেন্টগুলো: বেতন খাতের আয় হলে বেতন বিবরণী, ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, বিনিয়োগ জনিত দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগের তথ্যাদি। নিরাপত্তা জামানতের সুদ খাতের আয় থাকলে বন্ড যে বছরে দাবি করা হবে সে বছরে ক্রয়কৃত রশিদের ফটোকপি।

গৃহ সম্পত্তি খাতের আয়ের ক্ষেত্রে বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র, ভাড়া আদায়ের রশিদ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট। ব্যবসা খাতের আয় হলে-ব্যবসার আয়-ব্যয় বিবরণী ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন, অংশীদারি ফার্ম হলে ফার্মের ক্ষেত্রে আয়-ব্যয় বিবরণী, ক্ষেত্রবিশেষে নিরীক্ষা বিবরণী, লিমিটেড কোম্পানি হলে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট কর্তৃক নিরীক্ষা হিসাব বিবরণী, মূলধনী খাতে আয় হলে-স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের দলিলের কপি, উৎসে আয়কর কর্তন হলে তার ফটোকপি, পুঁজিবাজারে শেয়ার লেনদেন সংক্রান্ত হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র এবং অন্যান্য উৎস হতে আয়ের ক্ষেত্রে-লভ্যাংশের আয় থাকলে সার্টিফিকেট কপি, সঞ্চয়পত্রের সুদ হলে সার্টিফিকেট কপি; ব্যাংক সুদ হতে আয় হলে ব্যাংক হিসাবের বিবরণী ইত্যাদি।

বিনিয়োগজনিত রেয়াত: প্রত্যেক করদাতার প্রদেয় আয়করের ওপর কর রেয়াত অর্থাৎ কর হ্রাসের সুযোগ নেওয়ার অধিকার রয়েছে। ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাগণ যদি আয়কর অধ্যাদেশের ৬ষ্ঠ তফসিলে বর্ণিত কোনও খাতে বিনিয়োগ করেন তবে তারা কর রেয়াত দাবি করতে পারেন। কর রেয়াতের জন্য বিবেচিত কয়েকটি খাত হলো—জীবন বিমার প্রিমিয়াম, চাকরিজীবী কর্তৃক সরকারি বা স্বীকৃত ভবিষ্যৎ তহবিলে প্রদত্ত চাঁদা, সঞ্চয়পত্র ক্রয়, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, ব্যাংকে অনুমোদিত মাসিক সঞ্চয় প্রকল্পে বিনিয়োগ, সরকারি জাকাত তহবিলে প্রদত্ত অনুদান ইত্যাদি। কোম্পানি পর্যায়ের করদাতা কর্তৃক করপোরেট সামাজিক দায়িত্ব পালন, যেমন জাতীয় দুর্যোগ-দুর্বিপাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, ছিন্নমূল শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুদান ইত্যাদি কর রেয়াতের জন্য বিবেচিত হয়।

লেখক: আয়কর আইনজীবী

Print Friendly, PDF & Email