নেতার মৃত্যু হতে পারে, কিন্তু সংগঠন বেঁচে থাকলে আদর্শের মৃত্যু নেই: পলক

প্রকাশিতঃ 9:36 pm | June 28, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলতেন- নেতার মৃত্যু হতে পারে, কিন্তু সংগঠন বেঁচে থাকলে আদর্শের মৃত্যু নেই। তাই আমাদের সামনে তিনি যে নীতি, আদর্শ রেখে গেছেন তা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের চলার পথের পাথেয় হিসেবে কাজ করবে।

বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার আদর্শ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করেছেন।

আওয়ামী লীগের ৭৫ বছরের যে ইতিহাস এবং বাংলাদেশের ইতিহাস একইসূত্রে গাঁথা।

শুক্রবার (২৮ জুন) বিকেলে নাটোরের সিংড়ায় খাদ্য গোডাউন চত্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্লাটিনাম জয়ন্তী উদ্যাপন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের ২৩১ জন ব্যক্তিকে মরণোত্তর সম্মাননা এবং প্রবীণ ৬৩ জনকে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

এছাড়া সিংড়া উপজেলার ৭৫ জন নারী কর্মীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওহিদুর রহমান শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদকসহ সেই সময় সবার মতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করেছিলেন। তাঁর আদর্শে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এতো দুর এগিয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২১ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। গত ১৫ বছরে ২১ বার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বার বার গ্রেনেডের মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে আপস করেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনো নিজের জীবনের পরোয়া করেনি। পরিবারের মায়া ত্যাগ করে দেশের সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আন্দোলন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করেছেন।

পলক বলেন, ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধের প্রাঙ্গণে আমাদের বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। সেই ডুবন্ত সূর্য আমাদের বাংলার আকাশে উদিত হয়েছিল ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদকসহ সেই সময় সবার মতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমাদের সামনে তিনি যে নীতি, আদর্শ রেখে গেছেন তা আমাদের আওয়ামী লীগের কর্মীদের চলার পথে পাত্র।

পলক আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে গিয়ে আমাদের নাটোরের প্রয়াত স্বর্গীয় বাবু শংকর গোবিন্দ চৌধুরি বারবার শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন, লাঞ্ছিত হয়েছেন এবং মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আদর্শিত হয়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন। শহীদ রফিকউদ্দিন সরদার, শহীদ মমতাজ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী চাচাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী বুকে তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধরে রেখেছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম, নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য কোহেলি কুদ্দুস মুক্তি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম রমজান, নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরি জলি, সিংড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. জান্নাতুল ফেরদৌস।

এ সময় জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে দুপুরের দিকে প্রতিমন্ত্রী পলক নিজ বাসভবনে ক্যানসার ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা, তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে অনুদানের চেক, প্রণোদনা ও ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বীজ-সার বিতরণ করেন।

এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ক্যানসার ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ২২ জন ব্যক্তিকে ৫০ হাজার করে আর্থিক সহায়তা, প্রতিমন্ত্রীর স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে ৭৯ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদানের চেক এবং প্রণোদনার আওতায় ২২০০ ও ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫০ জন কৃষককে ৫ কেজি করে বীজ এবং ২০ কেজি করে সার বিতরণ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হা-মীম তাবাসসুম প্রভা’র সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিংড়া পৌরসভার মেয়র মো. জান্নাতুল ফেরদৌস, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান লিখন, শামীমা হক রোজী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ।

কালের আলো/ডিএইচ/কেএ 

Print Friendly, PDF & Email