সকালেই প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে রেমাল, আছড়ে পড়বে মধ্যরাতে

প্রকাশিতঃ 8:16 am | May 26, 2024

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো:

রোববার মধ্যরাতে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলের সমুদ্র তীরবর্তী এবং আশপাশের অঞ্চলে আঘাত হানতে শুরু করতে পারে রেমাল (প্রতীকী ছবি)
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় রেমালে পরিণত হয়েছে। এটি আরও শক্তি বৃদ্ধি করতে চলেছে এবং রোববার (২৬ মে) সকালে এটি পরিণত হবে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে।

এরপর একইদিন মধ্যরাতে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলের সমুদ্র তীরবর্তী এবং আশপাশের অঞ্চলে আঘাত হানতে শুরু করতে পারে রেমাল। ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে শনিবার (২৫ মে) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরের ওপর থাকা গভীর নিম্নচাপটি শনিবার রাতে শক্তি বৃদ্ধি করে পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ে। ক্রমে এটি আরও শক্তি বৃদ্ধি করতে চলেছে এবং রোববার সকালে পরিণত হবে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে। এরপর রোববার রাতে ঘূর্ণিঝড়টি আছড়ে পড়বে বাংলাদেশের খেপুপাড়া এবং পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের মাঝে স্থলভাগে।

এ সময় উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩৫ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝড়। চলতি প্রাক-বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে এটিই প্রথম ঘূর্ণিঝড় হতে যাচ্ছে।

শনিবার রাতে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) তাদের আপডেটে জানিয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’-এ পরিণত হয়েছে এবং সেসময় এটি খেপুপাড়ার প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং সাগর দ্বীপের ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে কেন্দ্রীভূত অবস্থায় ছিল।

আইএমডি আরও জানিয়েছে, রোববার সকালের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তি সঞ্চয় করে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে এবংরোববার মধ্যরাতে সাগর দ্বীপ ও খেপুপাড়ার মধ্যবর্তী পশ্চিমবঙ্গ এবং পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে উত্তর দিকে এগোচ্ছে রেমাল। শেষ ছয়ে ঘণ্টায় তার গতিবেগ ছিল ১২ কিলোমিটার। শনিবার রাতে সেই ঘূর্ণিঝড় ছিল বাংলাদেশের খেপুপাড়ার দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্বে ৩৬০ কিলোমিটার দূরে। পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ থেকে দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্বে ৩৫০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করছে রেমাল। ক্যানিংয়ের দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্বে ৩৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে সেটি।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সব ঠিকঠাক চললে রোববার সকালেই রেমাল প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে এবং এটি মধ্যরাতে আছড়ে পড়বে স্থলভাগে। তখন তার গতি থাকবে ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। সাময়িকভাবে বাতাসের গতি বৃদ্ধি পেয়ে ঘণ্টায় হতে পারে ১৩৫ কিলোমিটার। আছড়ে পড়বে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ এবং বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মাঝে।

এদিকে রেমালের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাঞ্চলীয় সব জেলাতেই বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। রোববার কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কলকাতা-সহ এই ছয় জেলাতেই অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়ায় জারি রয়েছে কমলা সতর্কতা। সেখানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৩৪ থেকে ৪৫ কিলোমিটার গতিতে ঝড় বইতে পারে। দক্ষিণের বাকি জেলায় হতে পারে ভারী বৃষ্টি। সেখানে জারি রয়েছে হলুদ সতর্কতা।

সোমবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/কেএ

Print Friendly, PDF & Email