গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৮ শিশুসহ নিহত ২০

প্রকাশিতঃ 3:58 pm | May 11, 2024

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো:

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় ৮ শিশু এবং ৮ নারীসহ কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছে। দেইর আল বালাহ শহরের আল আকসা হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া বুরেইজ শরণার্থী শিবিরসহ আজ-জুয়াইদা এবং আল-মুঘরাকা শহরেও হামলা চালানো হয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপরেই গাজায় পাল্টা আক্রমণ চালায় ইসরায়েল। গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সেখানে ৩৪ হাজার ৯০৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশই নারী এবং শিশু। ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৮ হাজার ৫৭২ জন আহত হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি নিজেদের বাধ্যবাধকতার সঙ্গে ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’ কর্মকাণ্ডে ইসরায়েল হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এমনটি মনে করার মতো যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। অবশ্য তবুও ইসরায়েলের কথা অবিশ্বাস করছে না তারা।

মার্কিন প্রশাসন বলেছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অস্ত্র ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা যাচাই করার মতো পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাদের কাছে নেই। এ কারণে, আইন মেনেই মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করা হবে, ইসরায়েলের এই আশ্বাসকে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা মেমোরেন্ডাম (এনএসএম) ইস্যু করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সেটি অনুসারে, মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের আইন বা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হচ্ছে না, ইসরায়েলের এমন আশ্বাস বিশ্বাসযোগ্য কি না তা জানাতে বলা হয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে।

অপরদিকে ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়েছে সাধারণ পরিষদে। শুক্রবার (১০ মে) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটি উত্থাপিত হয়। পরে বিপুল ভোটে এটি পাস হয়।

এদিন প্রস্তাবের পক্ষে সদস্যভুক্ত ১৯৩টি দেশের মধ্যে পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৪৩টি দেশ। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ ৯টি। আর ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল ২৫টি দেশ।

বিপুল ভোটে প্রস্তাব পাস হওয়ায় ফিলিস্তিনের জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার দাবি আরও জোড়ালো হলো। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য এখন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

কালের আলো/এমএস/এমডিআর

Print Friendly, PDF & Email