কিরগিজস্তানের ভিসা দেওয়ার নামে কোটি টাকা হাতিয়ে ধরা

প্রকাশিতঃ 8:55 pm | May 07, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

ওরা সংঘবদ্ধ ‘মানবপাচার’ চক্র। ইউটিউবে ‘জান্নাত ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ ট্রাভেল এজেন্সির নামে কিরগিজস্তানের ওয়ার্কিং ভিসার প্রচারণা চালাতো। চটকদার বিজ্ঞাপনের ফাঁদে আগ্রহীরা চক্রটির সঙ্গে যোগাযোগ করতো। সুকৌশলে ভিসা দেওয়ার নামে নেওয়া হতো মোটা অঙ্কের টাকা। এভাবে কোটি টাকা হাতিয়েছে চক্রটি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

সোমবার (৬ মে) রাজধানীর পল্টন থেকে ওই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারকৃতরা হলেন– ইব্রাহীম মল্লিক নাহিদ (৩৫), শারমিন হোসেন লাবনী (৩৬) ও আরিফুর রহমান সাদী (২৪)। উদ্ধার করা হয় একটি ল্যাপটপ ও সাতটি ফোন।

মঙ্গলবার (৭ মে) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আজাদ রহমান গণমাধ্যমকে জানান, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার নলিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক মোহাম্মদ সোনা মিয়া। ইউটিউবে জান্নাত ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের প্রচারিত বিজ্ঞাপন দেখতে পান তিনি। বিজ্ঞাপনে বলা হয় ৫ লাখ টাকায় কার ওয়াশের ওয়ার্কিং ভিসায় কিরগিজস্তানে লোক নেওয়া হবে। বেতন হবে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। খাওয়া নিজের, থাকা কোম্পানির।

তিনি বলেন, ‘প্রচারিত বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে রাজধানীর নয়াপল্টনে জান্নাত ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের অফিসে যোগাযোগ করেন সোনা মিয়া। কিরগিজস্তানে যাওয়ার জন্য গরু, রিকশা, ঘর বিক্রি করে ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা জমা দেন তিতি। তার সঙ্গে ফরিদপুরের মো. আকাশ শেখ (২১) ও মো. আকতার সরদারও (২৩) টাকা জমা দেন।’

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ওই প্রতিষ্ঠান থেকে আগ্রহীদের কিরগিজস্তানের ভিসা ও বিমান টিকিট দেওয়া হয়। গত ৭ এপ্রিল তারা কিরগিজাস্তানে যাওয়ার উদ্দেশে হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ইমিগ্রেশন পুলিশ অনলাইনে ভিসার তথ্য না পেলে তাদের যাত্রা স্থগিত করে। পরে তারা জান্নাত ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন। এ ঘটনায় ২২ এপ্রিল ডিএমপির পল্টন থানায় মামলা করেন তারা। মামলার সূত্রে ওই তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘গ্রেফতার ব্যক্তিরা এ পর্যন্ত যাদের অভিবাসীকর্মী হিসেবে কিরগিজস্তান পাঠিয়েছে, তাদের অধিকাংশই সেখানে মানবপাচারের শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত আছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

কালের আলো/বিএএ/এমএইচ

Print Friendly, PDF & Email