বিজিবিতে আজান-কেরাতের মোহনীয় সুর ও নন্দিত ছন্দ, নৈতিক মনোবল সুদৃঢ়ের বার্তা ডিজির

প্রকাশিতঃ 10:36 pm | March 29, 2024

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ঢাকা সেক্টর সদর দপ্তরের সিপাহী মো. সাইফুল ইসলামের সুললিত কণ্ঠে ভেসে আসে আজানের সুমধুর বাণী। আজানে প্রথম স্থান অর্জন করা সাইফুলের মোহনীয় সুর যেন ঈমানের জোয়ার বয়ে দিলো প্রতিটি প্রাণে। ছত্রে ছত্রে যেন উচ্চারিত হলো আল্লাহর বড়ত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব ও সার্বভৌমত্বের ঘোষণা। হৃদয়কাড়া ছন্দের ঝংকার তুলে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করলেন কেরাত প্রতিযোগিতায় চূড়ান্তপর্বে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করা সিলেট সেক্টর সদর দপ্তরের সিপাহী আজিজুর রহমানও। এসব ঘটনাপ্রবাহ শুক্রবার (২৯ মার্চ) বাদ জুম্মা পিলখানাস্থ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বিজিবি’র আজান ও কেরাত প্রতিযোগিতার।

বিজিবি’র সৈনিকদেরকে শুদ্ধ উচ্চারণ ও সুললিত কণ্ঠে আজান ও ক্বেরাত চর্চায় অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে আযান ও কেরাত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কেবল ধর্মীয় নির্দেশনা প্রতিপালনই নয় বরং মুসলিম উম্মাহর হাজার বছরের অনুপম সাংস্কৃতিক নিদর্শনের প্রতিচ্ছবিও ফুটে ওঠে। এদিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও ট্রফি বিতরণ করেন বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। এ সময় ধর্ম প্রতিপালনের মাধ্যমে মানুষের নৈতিক মনোবল সুদৃঢ়ের গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেন তিনি।

আজান ও কেরাত একটি ঈর্ষণীয় আমল। এ দু’য়ের ছন্দ যেমন প্রাণকে আন্দোলিত করে, সুরও তেমনি হৃদয়ে উচ্ছ্বাস জাগায় এবং প্রাণিত করে। সুর ও ছন্দের দারুণ সমন্বয় ঘটে প্রতিযোগিতায়। সুউচ্চ, সুমধুর ও সুললিত কণ্ঠস্বর মনকে ছুঁয়ে যায় গভীরভাবে। এসময় বিজিবি’র সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা, সৈনিক এবং অসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবি সদর দপ্তর সূত্র জানায়, গত ২৮ মার্চ থেকে পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দু’দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। আজান প্রতিযোগিতায় চূড়ান্তপর্বে বিজিবির রাঙ্গামাটি’র সেক্টর সদর দপ্তরের সিপাহী খলিলুর রহমান দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। অপরদিকে কেরাত প্রতিযোগিতায় চূড়ান্তপর্বে ঢাকা সেক্টর সদর দপ্তরের সিপাহী মো. রাসেল আকন্দ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। আজান ও কেরাত উভয় প্রতিযোগিতায় দলগতভাবে ঢাকা সেক্টর চ্যাম্পিয়ন এবং রাঙ্গামাটি সেক্টর রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

কালের আলো/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email