রমজানের প্রথম ১০ দিনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরলো ডিএমপি

প্রকাশিতঃ 5:22 pm | March 21, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

রমজানে বিকেল সাড়ে ৩টায় অফিস ছুটির পর ইফতারের আগ পর্যন্ত ঢাকার সড়কে তীব্র যানজট দেখা যাচ্ছে। একই সময়ে সব যানবাহন গন্তব্যে রওনা দেওয়ায় নগরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে জট তৈরি হচ্ছে। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বলছে, রাজধানীর বিদ্যমান বাস্তবতায় চার বা তিন রাস্তার ইন্টারসেকশনে যেকোনো এক লেনের যানবাহনের জন্য সিগন্যাল চালু করলে অন্য লেনগুলো সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়। যেহেতু ইফতারের আগে সবাই ফিরতে চান, তাই লাইন ম্যানেজমেন্ট বিবেচনায় বিষয়টি চ্যালেঞ্জের।

বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রমজানের প্রথম ১০ দিনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ শেষে বিভিন্ন করণীয় তুলে ধরে এসব জানান ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মুনিবুর রহমান।

তিনি বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে গাড়ি পার্ক করা হয়। যা সড়কের প্রশস্ততা কমিয়ে দেয় এবং যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত করে। রমজানের শুরু থেকেই ট্রাফিক বিভাগ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সড়কের পাশে অযাচিত পার্কিং না করতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত বাস স্টপেজে না দাঁড়িয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের টার্নিং পয়েন্টে যাত্রীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। এতে সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। যানবাহনের মুভমেন্ট অনেক কমে যায়। যাত্রীদের গণপরিবহনের চলাচলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত স্টপেজে গিয়ে অপেক্ষার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

মো. মুনিবুর রহমান বলেন, অনেক স্টপেজে যাত্রী না থাকলেও গণপরিবহনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান নেয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ে এবং যানজট তৈরি হয়।

তিনি বলেন, ডিএমপির পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ইউনিট থেকে যানবাহন অযাচিতভাবে ডিএমপি এলাকায় প্রবেশ করে যানজট তৈরি করে। ডিএমপির ট্রাফিক সদস্যদের এ বিষয়ে কড়াভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ভারী যানবাহনের জন্য ডিএমপি এলাকায় প্রবেশের নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা না মেনে তারা চলার চেষ্টা করে যা যানজটের সৃষ্টি করে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ভারী যানবাহন চলাচলের বিষয়টি মেনে চলতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় ঢাকা শহরের ছোট-বড় সড়কে মেরামতের কাজ চলে। জনসাধারণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে রমজান মাসে এসব সড়ক চলাচলের উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এ নিয়ে চিঠি চালাচালিও করা হয়েছে।

ডিএমপির এ কর্মকর্তা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বা মহাসড়কের পাশে অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু সড়ক বিভাজক ভাঙা থাকায় অনেক ক্রেতাসাধারণ ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হন। যানবাহনের চলাচল ও গতি এতে ভীষণভাবে ব্যাহত হয়।

রমজান মাসকে ঘিরে কোনো ব্যবসায়ী সড়কে যেন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালিত করতে না পারেন, সেজন্য রমজানের শুরু থেকেই ট্রাফিক বিভাগ কঠোর বলে জানান তিনি।

প্রথমবারের মতো ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় ডিএমপির ক্রাইম বিভাগ ট্রাফিক বিভাগকে সহযোগিতা করছে। এতে ট্রাফিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা বাসের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বাসমালিক ও চালকদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছি এ বিষয়ে। রমজান মাস ছাড়াও সবসময়ই আমরা টার্মিনালভিত্তিক ও বিভাগভিত্তিক সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কথা বলছি। পিক আওয়ারে সিগন্যালে জমে থাকা গাড়িগুলো দ্রুততম সময়ে রিলিজ করা চ্যালেঞ্জ হয়ে যায়। সে কারণে ওই সময় ট্রাফিক সদস্যদের মুভমেন্ট বেশি থাকে। সেই সুযোগে অনেক সময় গণপরিহনগুলো ডিসিপ্লিনের বাইরে চলে যায়, কিন্তু বিষয়গুলো যখনই আমাদের নজরে আসে, আমরা ব্যবস্থা নিতে চেষ্টা করি।

সড়কে আড়াআড়িভাবে গণপরিবহনগুলোকে প্রতিযোগিতা করতে দেখা যায়, এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মুনিবুর রহমান বলেন, বিশেষ করে রমজান মাসে সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ট্রাফিক সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। যত্রতত্র পার্কিং বা সড়কে নির্মাণসামগ্রী রাখাসহ কোনো অনিয়ম থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

গুলিস্তান থেকে পুরান ঢাকা যাওয়ার সড়কে রাতভর যানজটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিটফোর্ড, বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় বড় বড় আড়ত রয়েছে। চাল, ফল, ওষুধসহ বিভিন্ন আড়ত রয়েছে, তাই এলাকাটি এমনিতেই ব্যস্ত। এ সড়কে বিভিন্ন স্পটে ফুটওভার ব্রিজ দরকার, আর যেগুলো আছে, সেগুলো ঠিকঠাক ব্যবহৃত হচ্ছে না। এখন ওই এলাকার ব্যবসায়ীদেরও তো ব্যবসা করতে দিতে হবে। কিছু করার নেই। তবে মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে, আমরা সর্বোচ্চ ইউটিলিটি দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করছি।

আসন্ন ঈদ উপলক্ষে মার্কেটগুলোতে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে, এ বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, রমজানের প্রথম থেকেই মার্কেট গুলোতে আমরা কথা বলেছি। যখন বেশি ভিড় থাকবে, তখন কোন পয়েন্টে পার্কিং হবে, অতিরিক্ত গাড়িগুলো কোথায় নেওয়া হবে, সেসব বিষয়ে আমাদের কথাবার্তা হয়েছে। ব্যস্ততম এলাকায় কমিউনিটি ট্রাফিক ডেভেলপ করা হয়েছে। আশা করি নগরবাসীকে নির্বিঘ্ন যাতায়াত উপহার দিতে পারব।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের এফডিসি র‍্যাম্প চালুর পর ওই এলাকায় যানজট বেড়েছে, এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গতকাল র‍্যাম্পটি চালু হয়েছে। আমি নিজে সেখানে থেকে যান চলাচলের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি। গাড়ি ছাড়ার ক্ষেত্রে আমাদের প্রায়োরিটি জোন আছে। কোন সময় কোন দিকে গাড়ি ছাড়লে ভালো হয়, তা বিবেচনা করতে হয়। যেহেতু এটি নতুন চালু হয়েছে, সেহেতু সমন্বয় করে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিষয়টিকে আয়ত্তে আনতে হবে। প্রথম দিকে ফার্মগেট এলাকায় চাপ সৃষ্টি হয়েছিল, তা আমরা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।

স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক বাতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকায় ১১০টি ইন্টারসেকশনে বাতি রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র গুলশানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় বাতি সচল রয়েছে। অন্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয় করে সব সিগন্যালেই সড়কবাতির অটোমেশন সিস্টেমের কাজ চলছে। শিগগিরই সবকটি চালু হবে।

কালের আলো/ডিএস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email