প্রশংসিত-নন্দিত জিএমপি কমিশনারকে চিত্রনায়িকা মাহির ‘টার্গেট’ নিয়ে রহস্য! 

প্রকাশিতঃ 7:27 pm | March 17, 2023

ইয়াছিন আরাফাত, কালের আলো:

দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার লাইফ-লাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটই ছিল এখানকার নিয়তি। সেখানকার যানজট অসহনীয় থেকে সহনীয় মাত্রায় স্বাভাবিক করেছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ—জিএমপির কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম। শৃঙ্খলা ফিরিয়েছেন সড়কে। অর্থনৈতিক গতিপ্রবাহে যোগ করেছেন নতুন মাত্রা। জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সাধুবাদ পেয়েছেন গাজীপুর মহানগরবাসীর। 

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নেও দেখিয়েছেন অসামান্য সাফল্য। দক্ষ পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে পুলিশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। উচ্ছ্বসিত প্রশংসা পেয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস মেনুফ্যাকচারাস এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন—বিজিএমইএ’র। কিন্তু স্বার্থহানি হওয়ায় কীনা নন্দিত-প্রশংসিত এই পুলিশ কমিশনারকে এবার রীতিমতো ‘টার্গেট’ করেছেন আলোচিত চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। 

গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের পূর্ব পাশের একটি বিতর্কিত জমি ও গাড়ির শোরুম জিএমপি কমিশনার দেড় কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে দখল করে দিয়েছেন বলে শুক্রবার (১৭ মার্চ) ভোরে ফেসবুক লাইভে এসে এমন সব অভিযোগ করেন মাহি। আদতে নিজের স্বামী রকিব সরকার ও তার গুণধর কয়েক ভাইয়ের নাম উল্লেখ করে মনগড়া কাহিনী ও চিত্রনাট্য মঞ্চস্থ করেছেন। সরাসরি তাদের পক্ষ নিয়ে ডাহা মিথ্যাচারে জিএমপির সমালোচনায় মুখর হয়েছেন নায়িকা। আসলে জমি দখল বা টাকা লেনদেনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে পুলিশকে চাপে রাখার কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে মাহি কী বার্তা দিতে চাইলেন, এটি কি তার জন্য হিতে বিপরীত হবে কীনা এ নিয়েও রাজ্যের প্রশ্ন শোবিজপাড়ায় ঘুরছে। 

আর এসব ঘটনায় গাজীপুর মহানগরীর সচেতন সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝেও চরম ক্ষোভ-অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে আরও একবার সমালোচনার তুঙ্গে উঠেছে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির নাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নায়িকাকে ঘিরে অতীতের মুখরোচক আলাপচারিতা এবং তার স্বামীর পরিবারের কান্ডকীর্তি মোটা দাগে উঠে এসেছে। 

মাহির ফেসবুক লাইভ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, লাইভে তিনি রকিব সরকারের ভাই ফয়সাল আহমেদ সরকারের পেছনে পুলিশ লেগেছে বলে দাবি করেন। আদতে ফয়সাল সরকার গাজীপুর মহানগর শ্রমিক দলের আহবায়ক ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।  মহানগর বিএনপি নেতা হাসান উদ্দিন সরকার ও শওকত সরকারও তাদের নিকটাত্মীয়। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, মাহিয়া মাহির স্বামী রকিব সরকারের পরিবার নিজেদের বিভিন্ন দলে সম্পৃক্ত করে বর্তমানে গাজীপুর মহানগরীতে চাঁদাবাজি, গার্মেন্টস ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, মাদক স্পট পরিচালনা, জমি দখল, পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি ও অরাজকতা সৃষ্টি এবং স্থানীয় সন্ত্রাসী লালন-পালন করছে। গোয়েন্দাদের দাবি, স্থানীয় জনগনের কাছে আতঙ্কের আরেক নাম রকিব সরকার।

জিএমপি সূত্র জানায়, জনমনে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত, সৎ ও নিষ্ঠাবান জিএমপির কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলামকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘৃণ্য কায়দায় হেনস্থার মাধ্যমে গত এক বছরে জিএমপির সব অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবেই মিথ্যার বেসাতি ছড়ানো হচ্ছে। এজন্যই কল্পিত জমি দখলের নাটক করা হয়েছে। কী প্রক্রিয়ায় কীভাবে পুলিশ দেড় কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছে তেমন প্রমাণ বা তথ্য উপস্থাপন করতে না পারলেও মূলত জিএমপি কমিশনারকে বিতর্কিত করতেই ‘ ‘টার্গেট’ করেছেন। 

মাদক, অপরাধ ও‌ যানজটমুক্ত নিরাপদ সিটি গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জিএমপি কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছেন। গাজীপুর মহানগরকে পুরোপুরি নিরাপদ বাসযোগ্য নগরীতে রূপ দিতে প্রাণান্তকর প্রয়াস নিয়েছেন। সেই সময়ে টিম জিএমপির বিরুদ্ধে জমি দখল ও ঘুষ গ্রহণের গোয়েবলসীয় কায়দায় অভিযোগকে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় বিবেকবান প্রতিটি মানুষ। 

এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ—জিএমপির কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলামও। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষের টাকার যে অভিযোগ মাহিয়া মাহি এনেছেন তা ডাহা মিথ্যা কথা। তাকে জিজ্ঞেস করেন পুলিশ কী প্রক্রিয়ায় টাকা নিয়েছে। তার স্বামী ও তাদের আত্মীয় স্বজনের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। যেহেতু ফেসবুক লাইভে এসে পুলিশকে জড়িয়ে তিনি এ ধরনের কথা বলেছেন সেজন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

কালের আলো/এআর/এএইচ

Print Friendly, PDF & Email