গুলশানের মতো বারিধারাতেও মেয়র আতিকের ‘কলা গাছ থেরাপি’

প্রকাশিতঃ 1:27 pm | January 11, 2023

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

গুলশানের মতো পয়োবর্জ্যের সংযোগ সারফেস ড্রেনে, খালে বা লেকে দেওয়া বন্ধ করতে বারিধারার ড্রেনেও কলা গাছ থেরাপি দিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।

বুধবার (১১ জানুয়ারি) বারিধারার ১১ নম্বর রোডের একটি বাড়ির ড্রেনে কলা গাছ ঢুকিয়ে এই থেরাপি অভিযান শুরু হয়। মূলত পয়োবর্জ্যের সংযোগ সারফেস ড্রেনে, খালে বা লেকে দেওয়া বন্ধ করতে এই অভিযান পরিচালনা করছেন তিনি।

জানা যায়, অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় মোট বাড়ি রয়েছে ৫৫০টি। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের বেঁধে দেওয়া আট স্তরের ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে ৫টি বাড়ির পয়োবর্জ্যের সংযোগ সারফেস ড্রেনে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া ২০৩টি বাড়ি আটটি শর্তের মধ্যে কিছু সংখ্যক শর্ত পূরণ করেছে। অন্যদিকে একদমই শর্ত পূরণ করেনি ৩৪২টি বাড়ি। যাদের বাড়ির পয়োবর্জ্যের সংযোগ সারফেস ড্রেনে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সার্ভের মাধ্যমে দেখেছে, গুলশান, বারিধারা, নিকেতন ও বনানী এলাকার ৩ হাজার ৮৩০টি বাড়ির মধ্যে ২ হাজার ২৬৫টির সুয়ারেজ লাইন লেক কিংবা ড্রেনে সংযোগ, যা মোট বাড়ির ৮৫ শতাংশ। ফলে লেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে ও মশার উপদ্রব বাড়ছে।

মেয়র আতিক বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের সুয়ারেজ লাইনে পয়োবর্জ্যের সংযোগ দেওয়া যাবে না। ওয়াসার পৃথক লাইনে এসব বাড়ির বর্জ্য যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি নেই। ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আজ আমরা দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান পরিচালনা করেছি।’

প্রায় ছয় মাস আগে থেকে বাড়ির মালিকদের অবগত করা হয়েছে জানিয়ে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘তারা কোনও ব্যবস্থা নেননি। এ ছাড়া বাড়ির মালিকরা ওয়াসার বিল পরিশোধ করেও সেবা পাচ্ছেন না। সার্ভে রিপোর্টটি ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

মেয়র বলেন, ‘কোনোভাবেই ব্ল্যাক ওয়াটার সিটি করপোরেশনের ড্রেনে, খালে, লেকে ঢুকতে পারবে না। অনেক আগে থেকেই এ বিষয়ে তাদের জানিয়ে আসছি, সচেতন করে আসছি। গণবিজ্ঞপ্তিও দিয়েছি, কিন্তু তারা কথা শোনেননি। তাই আজ থেকে এই অভিযান শুরু করলাম। বাসার সামনে গিয়ে ড্রেনগুলো আমরা কলাগাছ দিয়ে বন্ধ করে দিচ্ছি।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email