সুযোগের সমতার জন্য ডিজিটাল লটারি খুবই গুরুত্বপূর্ণ : শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 8:25 pm | December 12, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

সুযোগের সমতার জন্য ডিজিটাল লটারি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

তিনি বলেছেন, সব শিশুকে সমান সুযোগ দেওয়া উচিত। ভর্তি প্রক্রিয়ার জটিলতা দূর করতেই ডিজিটাল লটারি চালু করা হয়। আমাদের অনেক সমস্যা আছে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে। লটারি নিয়ে অনেকেই খুশি। যদিও কিছু অভিভাবক এতে অসন্তুষ্ট। তাদের পচ্ছন্দমতো বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করতে না পেরে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন। সবকিছু কাটিয়ে স্কুলভর্তিকে ডিজিটালাইজ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভর্তি-কোচিং বাণিজ্য, অবৈধ শিক্ষার্থী ভর্তি ও তদবির বন্ধ হয়েছে।

সোমবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে ডিজিটাল লটারি কার্যক্রমের উদ্বোধন করে রাজধানীর অন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

দীপু মনি বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন ৫৪০টি সরকারি স্কুল ডিজিটাল লটারি কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। এবারের লটারিতে আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য সরকারি স্কুলে ১ লাখ ৭ হাজার ৮৯০টি শূন্য আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৫৯৩টি।

‘আগামীকাল বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলে ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তিতে ডিজিটাল লটারি হবে। সেখানে সব বিদ্যালয় যুক্ত হয়নি। আসন সংখ্যার বিপরীতে সেখানে আবেদন করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম।’

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনায় শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিবাচক ও গুনগত পরিবর্তন আনতে চাচ্ছি। তার অংশ হিসেবে এ ডিজিটাল লটারি কার্যক্রম। ২০২১ সাল থেকে স্কুলে ভর্তিতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে লটারি হচ্ছে। ১১০ টাকা ফি দিয়ে একজন অভিভাবক তার সন্তানের জন্য ৫টি স্কুলে আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোচিং বাণিজ্য ও স্কুলে ভর্তিতে বৈষম্য দূর করতে ডিজিটাল লটারি ভূমিকা রাখছে।

এদিকে সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে ৫৯ শতাংশ আসনই এবার কোটায় বরাদ্দ। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাবে ৪১ শতাংশ আসনে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি স্কুলে ভর্তির সুযোগ কিছুটা সীমিত হলো। বিশেষ করে শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাওয়া গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ হলো।

ক্যাচমেন্ট এরিয়া (নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পার্শ্ববর্তী এলাকা), মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড, এনটিআরসিএ, মাউশি ও অধীনস্থ দফতর ও সংস্থায় কর্মরতদের সন্তানসহ সব মিলিয়ে ৫৯ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে সরকারি স্কুলের ভর্তিতে। সম্প্রতি এই কোটা নিয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি হয়েছে।

সরকারি স্কুলে ভর্তিতে কোটা সংক্রান্ত নীতিমালায় দেখা গেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার কিংবা তাদের ছেলে বা মেয়ের পরিবারের সন্তানরা পাঁচ শতাংশ কোটা সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে ক্যাচমেন্ট এরিয়ায় বসবাসরত শিক্ষার্থীরা কোটা সুবিধা পাবে ৪০ শতাংশ।

মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দফতর বা সংস্থায় কর্মরতদের সন্তান পাবে ২ শতাংশ কোটা। একইসঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু (প্রতিবন্ধী) শিক্ষার্থীরাও পাবে ২ শতাংশ কোটা। আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য সরকারি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীর মোট আসনের ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত থাকবে।

সব মিলিয়ে মোট আসনের শতকরা হিসেবে ৫৯ শতাংশ আসন বিভিন্ন কোটায় চলে যাচ্ছে। বাকি ৪১ শতাংশ আসনের বিপরীতেই কেবল সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীরা ভর্তির জন্য মেধার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা করতে পারবে।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ কোটার সংখ্যা কমানো যায় কি না- এমন প্রশ্ন করা হলে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ক্যাচমেন্ট এরিয়া কমানো তো দূরে থাক, বরং ক্যাচমেন্ট এরিয়া আরও বাড়ানো উচিত। সারা দুনিয়াতেই শিক্ষার্থীরা কিন্তু ক্যাচমেন্ট এরিয়া থেকেই আসে। তার কারণ হচ্ছে একটি এলাকায়, আমার এখানে একটা স্কুল আছে, আমি যদি আশপাশেই থাকি, তা যেমন শিক্ষার্থীর জন্য ভালো, শহরের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের জন্যও খুব ভালো। পৃথিবীর সব দেশেই আছে যে, লোকে একটি স্কুল দেখে বা কোন জায়গায় তার সংস্থান করবে, তা দেখেই তারা বাড়ি ভাড়া নেয়।

শিক্ষার্থীদের চাহিদার বিপরীতে ৫৪০টি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কম নয় কি- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ইউনিক। এখানে মাধ্যমিক পর্যায়ে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক কম। প্রাথমিক তো সবই সরকারি, ইংরেজি মাধ্যম বাদ দিলে। আর মাধ্যমিকে বেশিরভাগ হচ্ছে বেসরকারি। খুবই কম হচ্ছে সরকারি। কিন্তু যেগুলো বেসরকারি, সেখানে ব্যবস্থাপনাটাই শুধু বেসরকারি। বাকি সবকিছু যদি দেখেন, আমরা তাদেরও বই দিচ্ছি বিনামূল্যে, সেখানে শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে, সেখানে শিক্ষক প্রশিক্ষণ সরকার দিচ্ছে, সেখানে অবকাঠামো সরকার নির্মাণ করে দিচ্ছে, শিক্ষকদের এমপিও দেওয়া, সবই কিন্তু সরকার করছে।

দীপু মনি আরও বলেন, আমাদের এখানে পাবলিক-প্রাইভেট একটি পার্টনারশিপ যেভাবে চলে, তা পৃথিবীর আর কোথাও কিন্তু নেই। তা এখন পর্যন্ত চলছে এবং খুব ভালো চলছে অনেক ক্ষেত্রে। সেক্ষেত্রে আমাদের বেসরকারি স্কুলও ভালো করছে, সরকারি স্কুলও ভালো করছে।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email