সীমান্তে হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে বিজিবি-বিএসএফের বৈঠক

প্রকাশিতঃ 6:42 pm | December 09, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে বিজিবি-বিএসএফের সীমান্ত বৈঠকে জোরালো আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির চট্টগ্রাম রিজিয়ন কমান্ডার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তানভীর গনি চৌধুরী।

শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সীমান্ত বৈঠক শেষে আগরতলা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফেরার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

ভারতের আগরতলায় গত ৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া তিনদিন ব্যাপী সীমান্ত বৈঠকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তানভীর গনি চৌধুরীর নেতৃত্বে বিজিবির ১৩ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।

প্রতিনিধি দলের প্রধান তানভীর গনি চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের পক্ষে দক্ষিণ পূর্ব রিজিওন চট্টগ্রাম, উত্তর পূর্ব রিজিওন সরাইল, ময়মনসিংহ সেক্টর এবং কক্সবাজার সেক্টর, বান্দরবন সেক্টরের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছি। বিএসএফ-এর পক্ষে অংশ নিয়েছে ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ার, মেঘালয় ফ্রন্টিয়ার এবং মিজোরাম অ্যান্ড কাচার ফ্রন্টিয়ারের কর্মকর্তারা। আমরা প্রধানত আলোচনা করেছি সীমান্তে যে হত্যাকাণ্ড হচ্ছে সেটিকে শূন্যে নামিয়ে আনা নিয়ে।

তিনি বলেন, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা মনে করি, এবারের বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। আশা করছি, ইতিবাচক ফলাফল পাবো। এছাড়া আমরা পরিবেশ দূষণ নিয়ে জোরালো বক্তব্য রেখেছি। আশা করি বিএসএফ এটিকে গুরুত্বসহকারে দেখবেন।

এদিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানিয়েছে, সম্মেলনের শুরুতে বিএসএফ প্রতিনিধিদলের প্রধান ইন্সপেক্টর জেনারেল শ্রী সুমিত শরণ, আইপিএস বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও সার্বিক সহযোগিতার জন্য বিজিবি ও বাংলাদেশ সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি কার্যকর ‘সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (CBMP) বাস্তবায়নে উভয় বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের প্রধান তানভীর গনি চৌধুরী শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ভুমিকার কথা উল্লেখ করে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি-১৯৭৫ অনুসরণ এবং কার্যকরভাবে CBMP বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উভয় বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতায় অত্যন্ত সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ-
১. সীমান্তে নিরস্ত্র নাগরিকদের হত্যা/আহত/মারধরের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় যৌথটহল পরিচালনা, জনসচেতনতামূলক কর্মসূচী আরও বেগবান করা এবং বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণসহ সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।

২. বিভিন্ন ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ বিশেষ করে ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক ও নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ইত্যাদি পাচার রোধ, স্বর্ণ, অস্ত্র ও গরু চোরাচালান রোধে উভয় বাহিনীর মধ্যে তাৎক্ষণিক ও প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান এবং এ ধরনের অপরাধ এর সাথে জড়িত ও আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।

৩. সীমান্তে চোরাচালান ও মানব পাচার রোধে বিজিবি ও বিএসএফ যৌথ টহল বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।

৪. আন্তর্জাতিক সীমানা লংঘন করে অবৈধভাবে সীমানা অতিক্রম/অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে বিরত রাখতে বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছেন।

৫. আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অবৈধ ও অননুমোদিত নির্মাণকাজ না করার ব্যাপারে এবং বন্ধ থাকা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজগুলো পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।

৬. উভয় পক্ষই বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখতে এবং পারস্পারিক আস্থা বৃদ্ধির জন্য প্রীতি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড এবং বিভিন্ন সেমিনার/সিম্পোজিয়াম/ওয়ার্কশপ আয়োজন করার ব্যাপারে পারস্পরিক সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

এর আগে, গত ৭ ডিসেম্বর সকালে সীমান্ত বৈঠকে অংশ নিতে বিজিবির প্রতিনিধি দলটি আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে আগরতলায় যায়।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email