গ্যারান্টি দিয়ে বলছি দেশে কোনো দুর্ভিক্ষ হবে না : খাদ্যমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 4:33 pm | November 13, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কায় আমরা যদি আতংকিত হয়ে অতিরিক্ত খাদ্য মজুদ না করি তাহলে আল্লাহর তরফ থেকে গ্যারান্টি দিয়ে বলছি দেশে কোনো দুর্ভিক্ষ হবে না।

রোববার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ভবনে আয়োজিত এক কর্মশালায় কথা বলছিলেন খাদ্যমন্ত্রী। ‘গণমাধ্যম কর্মীদের নিরাপদ খাদ্য আইন এবং বিধি-প্রবিধি অবহিতকরণ’ শীর্ষক কর্মশালাটির আয়োজন করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এ সময় খাদ্যপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মান যাচায়ে স্বাস্থ্য সনদ দেওয়া হয়।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বলেছেন যে, মানুষ যখন পেট ভরে ভাত খেতে পারবে, কাপড় পাবে, উন্নত জীবন পাবে তবেই মনে করব যে আমাদের স্বাধীনতা সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষুধা আমাদের নিরুদ্দেশ হয়েছে বটে আমরা এক সময় মঙ্গায় ছিলাম মঙ্গা থেকে আস্তে আস্তে এখন আমরা পেট ভরে ভাত খেতে পারি। কিন্তু আমরা কতটুকু নিরাপদ খাদ্য খেতে পারি সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখার বিষয় রয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আইন করেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালে মাত্র ১৬ জন কর্মকর্তা নিয়ে কাজ শুরু হয়। এটা এখন জেলায় জেলায় বিস্তৃতি রয়েছে এবং উপজেলায় উপজেলায় কমিটি রয়েছে। কিন্তু আমরা যতই আইন করি যতই কমিটি ও কর্মকর্তা নিয়োগ করি না কেনো অ্যাওয়ারনেস (প্রচার) বৃদ্ধি করতে হবে। নিজের বাড়ির খাদ্য নিজে কীভাবে নিরাপদ রাখব আগে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আমি যা খাচ্ছি, বাজার থেকে যা আনছি এবং আমার সংরক্ষণ করা নিরাপদ হচ্ছে কি না।

নিরাপদ খাদ্য সচেতনতা কার্যক্রমে শিক্ষক ও আলেম সমাজকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সচেতনতা যদি বৃদ্ধি করতে হয় তাহলে আমি মনে করি আমাদের বেশ কিছু প্রসেস মেইনটেন করা উচিত। যেমন আমরা যদি দুই তিনটা শেণির মানুষ যাদের কথা সবাই ভালো করে শোনে, বিশেষ করে শিক্ষক ও ধর্মপ্রাণ মাওলানা। জুমার নামাজের আগে খুতবায় খতিব যদি দুই তিন মিনিট নিরাপদ ও ভেজাল খাদ্যের বিষয়ে বলে তাহলে আমাদের কিছুটা অ্যাওয়ারনেস বৃদ্ধি পাবে বলে আমি মনে করি। পাশা পাশি স্কুল-কলেজে প্রথম ক্লাসের শিক্ষক যদি ২টা মিনিট এই বিষয়ে বলে তাহলে সেখানেও কিন্তু অ্যাওয়ারনেস বৃদ্ধি পেতে পারে।

এ সময় সরকারের কার্যক্রম চলার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য সচেতনতার বিষয়ে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, দুর্ভিক্ষ আসছে এই আতঙ্কে যদি মানুষ ৩-৪ গুণ খাদ্য কিনে মজুদ না করে, তাহলে আল্লাহর তরফ থেকে গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ আসবে না, আসবে না, আসবে না। যে দেশের মাটিতে বীজ দিলেই ফসল হয়, আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে, ইরি ও বোরোর জন্য পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে, খাদ্যের মজুদ থাকার পরেও আমদানি অব্যাহত রয়েছে, সেখানে দুর্ভিক্ষ প্রশ্নই আসেনা।

স্বাস্থ্যসনদ প্রদানের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগে খাদ্য রপ্তানি করতে গেলে বিদেশ থেকে কর্তৃপক্ষ এসে সনদ দিত। এখন থেকে আর সেটির প্রয়োজন হবে না। বাংলাদেশই আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সনদ দেবে। এতে করে সারাবিশ্ব জানবে, বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য পাওয়া যায়। যার ফল স্বরুপ, রপ্তানি আরো ত্বরান্বিত হবে।’

বিএফএসএ সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল আলীমের স্বাগত বক্তব্যে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য সচিব মো. ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আন্তঃমন্ত্রণালয়ের কাজের যাতে ওভারলেপিং না হয়, তা আমরা বসে সমাধানের চেষ্টা করব। খাদ্যপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে সর্বজনস্বীকৃত স্বাস্থ্যসনদ প্রদান করার জন্য আস্থা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হবে। আশা করি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ ও নির্ভুলভাবে পালন করবে।

স্বাস্থ্যসনদ প্রদান অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাইউম সরকার। তিনি বলেন, ‘খাদ্যপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিএফএসএ কর্তৃক প্রদেয় স্বাস্থ্যসনদ দেশের সামগ্রিক রপ্তানি বৃদ্ধি করবে।’

এর আগে সকাল সাড়ে এগারটায় শুরু হওয়া কর্মশালায় নিরাপদ খাদ্য আইন ও বিধি প্রবিধি সম্পর্কে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফএসএ এর সদস্য জনাব মঞ্জুর মোর্শেদ আহমদ। তাতে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর বিভিন্ন ধারা ও অধ্যায়, খাদ্য দূষণকারী, সংযোজন দ্রব্য ব্যবহার, স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ সংরক্ষণ, খাদ্য স্পর্শক, ব্যবসায়ীর বাধ্যবাধকতা, দূষণ, টক্সিন, ও ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ, ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ, বিষাক্ত পদার্থযুক্ত খাদ্যদ্রব্য প্রত্যাহার বিষয়ক প্রবিধানমালা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

কর্মশালায় জানানো হয়, বিশ্বে প্রতিবছর ১০ জনে ১ জন খাদ্যজনিত অসুস্থতায় ভোগে এবং ৪ লাখ ২০ হাজার জন মারা যায়। প্রতি ৩ জনে একজন শিশু মারা যায় খাদ্য জনিত অসুস্থতায়। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় ১৫০ মিলিয়ন মানুষ অসুস্থ হচ্ছে এই কারণে, মারা যায় ১ লাখ ৭৫ হাজার, যার মধ্যে ৫০ হাজার শিশু।

বিএফএসএ’র আইন কর্মকর্তা শেখ মো. ফেরদৌস আরাফাতের সঞ্চালনায় কর্মশালা ও স্বাস্থ্য সনদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধি, গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/বিএসবি/এমএন

Print Friendly, PDF & Email