চরাঞ্চলের প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ জঙ্গিদের পাঠানো হত পাহাড়ে

প্রকাশিতঃ 9:19 pm | November 04, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

পটুয়াখালী ও ভোলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে শারীরিক কসরত ও প্রশিক্ষণে যারা উত্তীর্ণ হতেন, নতুন জঙ্গি দল জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার সেইসব সদস্যকে পরবর্তী ধাপের প্রশিক্ষণের জন্য দুর্গম পাহাড়ে পাঠানো হত বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

শুক্রবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর কাওরান বাজার মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল-মঈন এসব তথ্য জানান।

এর আগে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এরা হলেন- মো. আব্দুল কাদের ওরফে সুজন ওরফে ফয়েজ ওরফে সোহেল (২৪), মো. ইসমাইল হোসেন ওরফে হানজাল ওরফে মানসুর (২২), মুনতাছির আহম্মেদ ওরফে বাচ্চু (২৩) ও হেলাল আহমেদ জাকারিয়া (৩৩)।

কমান্ডার মঈন বলেন, আত্মগোপনে থাকার কৌশল হিসাবে তাদের রাজমিস্ত্রী, রঙ মিস্ত্রী, ইলেকট্রিশিয়ানসহ বিভিন্ন পেশার কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। আর সারাদেশে প্রশিক্ষণকালে তাদের রাখা হত সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সদস্যের তত্ত্বাবধানে সেইফ হাউসে।

এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের তিনি বলেন, এ পর্যন্ত তিন পাহাড়িসহ ২২ জনকে তারা গ্রেপ্তার করেছেন। তবে নিখোঁজ বা ঘরছাড়া ৫৫ জনের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাদের কেউ এখনও গ্রেপ্তার হয়নি।

মঈন বলেন, হরকাতুল জিহাদ, জেএমবি এবং আনসার আল ইসলামের বেশ কিছু সদস্য ২০১৭ সালে নতুন এই উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রম শুরু করে। পরে ২০১৯ সালে ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’ নামে কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে।

র‍্যাব জানায়, সংগঠনটির মাশুল সেক্টর বা নিজে নিজে যোগ্যতা অনুযায়ী সাথীদের সাথে যোগাযোগ করা বা তাদের সাথে কাজ করা, সৈনিক শাখা, হিজরত শাখা, আনসার শাখা, ডোনার শাখা, ওলামা শাখা, মিডিয়া শাখা এবং জনসমর্থন শাখার কথা জানা গেছে। তারা মিডিয়া বা অন্য কোনও মাধ্যমে জনসমর্থন তৈরি করবে এবং দাওয়াত দেওয়া ও জনকল্যাণের মাধ্যমে অথবা শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। এই আটটি সেক্টরের মধ্যে আবার আনসার শাখার তিনটি ভাগ রয়েছে, আনসার ‘ক’ বিভাগ দশ দিনের বেশি প্রোগ্রাম করতে পারবে, আনসার ‘খ’ তিন দিনের বেশি প্রোগ্রাম করতে পারবে, আনসার ‘গ’ যারা বাসায় পূর্ণ একদিন প্রোগ্রাম করতে পারবে। ডোনার শাখায় আবার তিনটি ভাগ রয়েছে। বিভাগ অনুযায়ী তারা প্রতিমাসে ১০ হাজার থেকে এক লাখ বা তিন হাজার থেকে দশ হাজার অথবা ১০০০ থেকে ৩ হাজার টাকা দিতে পারবে।

কালের আলো/ডিএস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email