খুলনায় ঝোড়ো হাওয়া-ভারি বৃষ্টিপাত, জোয়ারে বাঁধে ভাঙন

প্রকাশিতঃ 11:52 am | October 24, 2022

কালের আলো প্রতিনিধি:

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে ভারি বর্ষণ শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে খুলনার নদ-নদীগুলোতে বেড়েছে জোয়ারের পানির চাপ। ইতোমধ্যে উপকূলীয় উপজেলা কয়রার সাতবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (২৪ অক্টোবর) কয়রা পশ্চিম দেয়াড়া একতা সংঘের সাধারণ সম্পাদক মো.তরিকুল ইসলাম বলেন, উপকূলজুড়ে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছে। দুটি স্থানে বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ নেই। আশ্রয়কেন্দ্রে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থায় লাইট জ্বললেও মোবাইল চার্জিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে আবহাওয়া বার্তা পেতে সমস্যা হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের অবস্থান মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৫২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল। মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ সিনিয়র আবহাওয়াবিদ মো. আমিরুল আজাদ বলেন, রোববার মধ্যরাত থেকে ঝোড়ো হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এ দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর সকাল ৬টা থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত আরও ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। মধ্যরাত থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

কয়রা আবহাওয়া অ‌ফি‌সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বান্না জানান, ঘূ‌র্ণিঝ‌ড় মঙ্গলবার ভো‌রের দি‌কে উপকূ‌লে আঘাত হান‌তে পা‌রে। সোমবার ভোর থে‌কে কয়রায় ৩০-৩৫ কি‌লো‌মিটার বে‌গে বাতাস প্রবা‌হিত হ‌চ্ছে। মধ্যরাত থে‌কে বৃ‌ষ্টিপাত শুরু হ‌য়ে‌ছে। তি‌নি আরও ব‌লেন, বিদ্যুৎ না থাকায় রি‌পোর্ট প্রদা‌নে সমস্যা হ‌চ্ছে।

খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি এড়াতে জেলায় ৪০৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দাকোপে ১১৮, বটিয়াঘাটায় ২৭, কয়রায় ১১৭, ডুমুরিয়ায় ২৫, পাইকগাছায় ৩২, তেরখাদায় ২২, রূপসায় ৩৯, ফুলতলায় ১৩ ও দিঘলিয়ায় ১৬টি।

পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, গত মধ্যরাত থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রেডক্রিসেন্টের সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। পাশাপাশি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাইকগাছা উপজেলার কোথাও বাঁধ ভাঙার সংবাদ পাইনি। তবে দুপুরের জোয়ারের পর সার্বিক পরিস্থিতি বোঝা যাবে।

খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার সরকার বলেন, ৪০৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে আগতদের জন্য শুকনো খাবার, চাল ও টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আমরা সব প্রস্তুতি নিয়েছি।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email