প্রশংসার বদলে ডিএমপির ডিবিপ্রধানকে ‘বিতর্কিত’ করার অপকৌশল!

প্রকাশিতঃ 8:59 pm | October 10, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

হঠাৎ করেই তাকে ‘বিতর্কিত’ করার নয়া অপকৌশল চলছে। দিন দুয়েক আগে ঢাকার উত্তরার কিং ফিশার রেস্টুরেন্টের লেক ভিউ বারে অভিযান চালিয়ে ‘আনন্দ-ফুর্তির’ অভিযোগে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার ও ৪৫৮ বোতল অনুমোদনহীন বিদেশি মদ ও ৬ হাজার ক্যান বিয়ার উদ্ধারে যেখানে বাহবা, প্রশংসা পাওয়ার কথা সেখানে উল্টো জলঘোলা করার অপতৎপরতা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে ক্রমশ। তথ্যের অপলাপে খিস্তিখেউরও করছে কোন পক্ষ। আদতে সব পক্ষের অভিন্ন ‘টার্গেট’ ডিএমপির ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। কায়দা-কানুনে তাকে ‘ভুল’ প্রমাণিত করতে পারলেই ‘কেল্লাফতে’; একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের পারপাস সার্ভ!

অভিনব জাঁকালো হীন আয়োজনের নীল নকশা বা অপতৎপরতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল সচেতন নাগরিকরা, সম্ভবত ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ নিজেও। সোমবার (১০ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে নকল মোবাইল ফোন ও সরঞ্জামসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনেও ওঠে আসে উত্তরার বারে অভিযানের প্রসঙ্গটি। মোটেও প্রশ্ন এড়িয়ে যাননি তিনি।

গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, ‘পুলিশ নিজেরা যেমন অভিযান পরিচালনা করে, তেমনি কারও অভিযোগ পাওয়ার পরও অভিযান চালিয়ে থাকে।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘গুলশান, বনানী, উত্তরাসহ অনেক এলাকা থেকে সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এগুলো থেকে পরিত্রাণের জন্য পুলিশের কাছে সহযোগিতা চায়।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে হারুন বলেন, ‘উত্তরার সব সংসদ সদস্য অভিযোগ করেছেন ডিজে পার্টির নামে সেখানে সারারাত নাচানাচি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতেই আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন— মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা তথ্য পেলে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করব। অন্য কোনো সংস্থা যদি কাজটি নাও করে, আমরা করব।’

ডিবির অভিযান পরিচালনাকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদিপ্তরের এক সদস্যের সঙ্গে অপেশাদার আচরণের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘ওই অভিযানের সময় মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের কোনো সদস্য সেখানে ছিল বা নাজেহাল হয়েছে এমন অভিযোগও কেউ করেননি।’

অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কোনো সদস্যদের নেওয়া উচিত ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অভিযান আমরা সব সময় করি। পুলিশ আইনগত দিন মেনেই অভিযান পরিচালনা করে। আর অভিযানে পুলিশ অনেককে বলে।’

মাদ্রকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ২৩ ধারায় কী আছে তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ভালো করেই জানেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে স্পষ্ট করে বলা আছে কারা অভিযান করতে পারবেন। এটা হল আইনগত বিষয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের ‘সহকর্মী’ উল্লেখ করে হারুন অর রশীদ বলেন, ‘একই উদ্দেশ্যে অবৈধ মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করি। তারা তাদের কাজটি করবে। আর আমরা আমাদের কাজটি করব।’

আগের দিনের সংবাদ সম্মেলনেও একই বিষয়ে এই ডিবিপ্রধান বলেন, ‘কোনো জায়গায় অসামাজিক কার্যকলাপ বা অবৈধভাবে মদ বিক্রি করা হলে পুলিশ যেকোনো সময় অভিযান চালাতে পারে। অবৈধভাবে মদ বিক্রি করা হলে পুলিশ অভিযান বা তল্লাশি চালাতে পারে।

হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আমরা সব সময় এটা করে আসছি। আমরা বড় বড় চালান ধরছি। অবৈধ বারে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি।’

বিভিন্ন সূত্র বলছে, রাজধানীর এই বারগুলো রীতিমতো নগরবাসীর জন্য বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে। এসব বারে মদপানের লাইসেন্স ছাড়া লোকজনেরই যাতায়াত বেশি। এর সঙ্গে কলগার্লদের উপস্থিতিও ওপেন সিক্রেট। কোন কোন বার মালিকের নিজস্ব স্কট সার্ভিস ও ডিজে পার্টির নামে বেলাল্লাপনাও নজর এড়ায় না। এতে করে বখে যাচ্ছে নতুন প্রজন্ম। এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের অভিযোগ অন্তহীন।

কিন্তু এই বারসমূহে যাদের নজরদারি করার কথা তারা গোপন সমঝোতায় তাদের অনৈতিক সব কাজে যেন বৈধতারই লাইসেন্স দিয়েছেন। এমন বাস্তবতায় ডিএমপির ডিবি পুলিশের সাহসী অভিযান নগরবাসীর মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিবাচকভাবেই প্রশংসিত হয়েছে।

উত্তরার বাসিন্দা মোহাম্মদ আরাফাত নামের একজন ডিবির অভিযানের খবর পোস্ট করে লিখেছেন, ‘যাদের করার কথা, তারা করে না। ডিবি পুলিশ দেখিয়ে দিয়েছে। তারা ম্যানেজ হয়নি। এমন অভিযান নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন স্তুতির বিপরীতে একটি বিশেষ মহলের আঁতে ঘা লাগায় তারা হন্তদন্ত হয়ে ছুটছেন ডিএমপির ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদের ইমেজ নষ্টের অপতৎপরতায়। চক্রটি কথার তুবড়ি ছুটাচ্ছে ওই অসাধু ব্যবসায়ীদের ম্যানেজ মানিতে, এমন কথাবার্তাও কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে।

কালের আলো/ডিএ/এমএম

Print Friendly, PDF & Email