জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ ‘দ্য চেঞ্জ মেকার’; গুড ফেস অব বাংলাদেশ আর্মি

প্রকাশিতঃ 12:50 pm | September 29, 2022

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

নতুনত্ব, সদাহাস্য এবং কর্মপ্রাণপ্রিয় এক ব্যক্তিত্ব। গভীরে চিন্তার প্রান্তর। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব আর শৌর্য অন্তরে গ্রোথিত সেই শৈশবে-ই। দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই স্বচ্ছতায় সেই বিশ্বাসের কথা দৃঢ়চিত্তে উচ্চারণ করেছিলেন জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। প্রতিটি কর্মেই ঘটিয়েছেন তাঁর প্রতিফলন। অঙ্কন করেছেন নেতৃত্বে উজ্জ্বল আলোর পথরেখা।

ধন্য সেই পুরুষ, মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উন্নত, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সোনার বাংলা গড়ে তোলার দৃপ্ত শপথের কথাও বলেছেন। বাঁধাধরা তত্ত্বে নিজেকে আটকে রাখেননি। অটুট মনোবল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণেও দৃঢ়তা দেখিয়েছেন তিনি।

নিজ বাহিনীর সৈনিকদের মনোজমিনেও নিয়েছেন ঠাঁই। সেনাপ্রধান হিসেবে দুটি ঈদে আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন দুর্গম পাহাড়ে কর্মরত সৈনিকদের সঙ্গে। হৃদয়ে হৃদয় যোগ করেছেন নিবিড়ভাবেই। নিজের নেতৃত্বের এই সময়ে দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবময় ৫০ বছর বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপন করেছেন। কখনও আবেগী বর্ণনার আর্দ্র আবেশে উচ্চারণ করেছেন তাঁর ধমনীতে বহমান ইস্ট বেঙ্গলের (রেজিমেন্ট) রক্ত।

নিজের কুশলী, বিচক্ষণ নেতৃত্বে সম্প্রতি চারদিনব্যাপী ইন্দো-প্যাসিফিক আর্মিস ম্যানেজমেন্ট সেমিনার (আইপিএএমএস) আয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামর্থ্য ও সক্ষমতা দেখেছে বিশ্ব। ২৪ টি দেশের নীতি নির্ধারক সেনা কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এখান থেকেই বার্তা মিলেছে আঞ্চলিক, বৈশ্বিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার।

সেনাবাহিনীর উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসীম অবদান ও দূরদর্শী নেতৃত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। সব সময়ই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সেনাপ্রধান বলেছেন, ‘আমার উপরে আস্থা রাখার জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি যে আস্থা আমার উপর রেখেছেন আমি এর প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করবো।’

গত দেড় বছরে জেনারেল শফিউদ্দিন পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে পদোন্নতি পর্ষদ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ছুটে গেছেন রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (রাওয়া) গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি অনুষ্ঠানে। পূর্বসূরীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন নিজের আবেগ-অনুভূতি। দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন পাশে থাকার।

রক্তনদী পেরিয়ে জন্ম নেয়া শৃঙ্খলমুক্ত, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০ বছরের পূর্তির দিনের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ সফলভাবেই আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমন্ত্রণে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই কুচকাওয়াজে এবারই প্রথম ভারত, ভূটান, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। বন্ধুপ্রতীম দেশ মালদ্বীপকে প্রতিরক্ষা সহায়তা বা লজিস্টিক এফটিক্স অনুশীলন যুগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রবেশও তাঁর নেতৃত্বের সময়েই।

দুরন্ত জীবনের উষালগ্নে খেলার মাঠেও ছিলেন দুর্দান্ত। ক্রিকেটের পাশাপাশি খেলেছেন ফুটবলও। দু’টি খেলাতেই রয়েছে তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতা। সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগিয়ে সভাপতি হিসেবে এগিয়ে নিতে চান বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনকে (বিওএ)। সবার সহযোগিতায় দেশের ক্রীড়াঙ্গণকেও জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন নিতে চান নতুন এক উচ্চতায়।

বঙ্গবন্ধুকন্যার মতোন তিনিও ক্রীড়াপ্রেমী। সাফজয়ী বাংলার জয়িতাদের মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে সেনা সদরের আর্মি মাল্টি পারপাস কমপ্লেক্সে ঘটা করেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দিয়েছেন। প্রত্যেক নারী ফুটবলারকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি টাকার চেক প্রদান করেছেন। এর আগেও সেনাপ্রধান সাফ অনুর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা প্রদান করেছিলেন। দলের প্রতিটি ফুটবলার, কোচ ও কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন নগদ ১ লাখ করে টাকা ও উপহার সামগ্রী।

মাস তিনেক আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এক বছর পূর্ণ করেছেন। কালস্রোতের উর্মিমালায় ঠিকই সাফল্যে রাঙিয়েছেন সেনাপ্রধান হিসেবে নিজের প্রথম পনের মাস সময়কে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই নতুন নতুন কনসেপ্টে বিশ্বাসী জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বরাবরই নিজেকে একজন ‘চেঞ্জ মেকার’ হিসেবে প্রমাণ করেছেন। প্রবল ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং অসাধারণ আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে লক্ষ্যে অবিচল থেকেছেন। নবপ্রত্যাশার সরুস্রোতে হৃদয়তন্ত্রীর অনুভবে আলোয় আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন চারপাশ। বিনম্র অভিবাদন ‘গুড ফেস অব বাংলাদেশ আর্মি’।

কালের আলো/ডিএস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email