নিষেধাজ্ঞায় যুক্তরাষ্ট্রের দোষ দেখেন না আইজিপি, অভিযোগের তীর লবিং করা গোষ্ঠীর দিকে

প্রকাশিতঃ 8:17 pm | September 02, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দেয়া নিষেধাজ্ঞার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের দোষ দেখেন না পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার)।

তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তার নেপথ্যে তিন বছর ধরে বাংলাদেশিদের একটি গোষ্ঠীর নিয়োগ দেওয়া চারটি লবিং ফার্ম কাজ করেছে। এসব বাংলাদেশি অবয়বে বাঙালি হলেও তারা প্রকৃত বাঙালি না। তারা আর্টিফিসিয়াল বাঙালি।

বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে ‘যুক্তরাষ্ট্র নাগরিক কমিটি’র উদ্যোগে নিউ ইয়র্কের গুলশান ট্যারেসে এক নাগরিক সংবর্ধনায় আইজিপি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘে পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে অংশ নিতে বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন।

গত ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের পুলিশ সামিটে যোগ দিতে বাংলাদেশের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন বেনজীর। সম্মেলন শেষে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের কাছে গুলশান টেরেস মিলনায়তনে সেই সংবর্ধনায় যোগ দেন আইজিপি।

সংবর্ধনায় ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, এখানে (যুক্তরাষ্ট্রে) আমি থেকেছি, পড়েছি, চাকরি করেছি। যে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে র‌্যাব… ৬০০ লোক নাকি গুম করা হয়েছে। ২০০৯ সালে তো আমি ছিলাম না, আমি ১০ সালেও ছিলাম না, আমি ১১, ১২ সালেও ছিলাম না। আমি ১৩ সালে ১৪ সালেও ছিলাম না। আমি ১৫ সালে ছিলাম।

তিনি বলেন, এখন আমাকে যদি তারা দায়ী করে যে ৬০০ লোক হারায় গেছে। যদি ব্যান খেতে হয়, তবে ওই লোকগুলো কারা…ব্যাপারটা কী, এ রকম যে তুই করস নাই তোর বাপ, দাদা করছে নাকি, এ জন্য আমি আমেরিকান গভর্নমেন্টকেও দায়ী করব না। কারণ হচ্ছে এই, এটার পেছনে রয়েছে তিন বছরের পরিশ্রম।

‘একটা ওয়েবসাইট আছে এফএআরএ, দেখবেন চারটা লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক ফার্মকে ২৫ মিলিয়ন ডলার করে দেয়া হয়েছে। এদের সঙ্গে সত্যের কোনো সম্পর্ক নেই। আমেরিকান সরকার, আমেরিকান নাগরিক তারা তো এ লবিস্টদের নিয়োগ করেনি। আমেরিকানদের প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই।’

পুলিশপ্রধান আরও বলেন, এটা করেছে তারাই, যারা সত্তর সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নৌকায় ভোট দেয়নি, যারা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল। ওই গোষ্ঠী বার্ষিক ২৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে চারটি লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছিল। সেই ভাড়াটে ফার্ম টানা তিন বছর চেষ্টা করেছে কথিত স্যাংশনের জন্য।

যে ৬০০ মানুষকে নিখোঁজ বলা হচ্ছে, তাদের তালিকা কোথায়, সে প্রশ্নও করেন তিনি। বলেন, ‘এই ৬০০ লোক যে গুম হয়েছে বলা হচ্ছে, তাদের নাম, তালিকা, কবর আছে কোথাও? ২০১৩ সালেও এমন বলা হয়েছে শাপলা চত্বর নিয়ে।’

এর আগে নাগরিক সংবর্ধনাতে গিয়েই আইজিপি প্রথম তার ওপর দেয়া নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কথা বলেন। পাশাপাশি অভিযোগ করেন তথ্য-সন্ত্রাস চালানোর। তিনি বলেন, ‘২২ জন তথ্য-সন্ত্রাসী রয়েছে। এদেরকে জবাব দিতে হবে।’

অপপ্রচার চালাতে সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানান বেনজীর আহমেদ। বলেন, ‘একসময় মনে করা হয়েছিল যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সাংবাদিকতায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। কিন্তু বাস্তবে কী দেখছি আমরা?

‘আশা করা হয়েছিল সমাজের তথ্যচিত্রটি সবিস্তারে উঠে আসবে। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে যত ভুয়া, আজগুবি তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে। তথ্য-সন্ত্রাসীরা দেশের বিরুদ্ধে, মানবতাবিরোধী যতসব অপপ্রচারণা চালাচ্ছে।’

‘নোংরা’ জিনিস ফেসবুকে দেখামাত্র এর বিরুদ্ধে প্রকৃত সত্যকে উপস্থাপনের পরামর্শও দেন বেনজীর। বলেন, ‘তাহলেই মিথ্যার পরাজয় ঘটবে।’

আইজিপি বলেন, আমরা স্বাধীনতা সংগ্রাম করে বিজয়ী হয়েছি। এখন চলছে মুক্তির লড়াই। এ লড়াই অব্যাহত রয়েছে। এই লড়াইয়ে জিততেই হবে। তিনি বলেন, দেশের বিরুদ্ধে, উন্নয়নের বিরুদ্ধে এবং অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে তা রুখে দিতে হবে।

তিনি বলেন, এক সময় মনে করা হয়েছিল যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সাংবাদিকতায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। কিন্তু ‘বাস্তবে কী দেখছি আমরা’ এ প্রশ্ন রেখে পুলিশ প্রধান বলেন, আশা করা হয়েছিল সমাজের তথ্যচিত্রটি সবিস্তারে উঠে আসবে। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে যত ভুয়া, আজগুবি তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে।

ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ২২ জন তথ্য সন্ত্রাসী রয়েছে। এদেরকে জবাব দিতে হবে। আপনি যে মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছেন, সেই বিশ্বাসে যদি চ্যাম্পিয়ন হোন, তাহলে আপনাকেই সেটি পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, তথ্য সন্ত্রাসীরা দেশের বিরুদ্ধে, তারা মানবতা বিরোধী অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, নোংরা জিনিস ফেসবুকে দেখামাত্র ফ্লাশ করা দরকার। এর বিরুদ্ধে প্রকৃত সত্যকে উপস্থাপন করতে হবে, তাহলেই মিথ্যার পরাজয় ঘটবে।

আইজিপি আরও বলেন, বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় পরিণত করার চলমান লড়াইয়ে আমি সকলের সাথে রয়েছি। দেশটিকে সবার আগে রেখে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলার পথকে সুগম রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র নাগরিক কমিটির ব্যানারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা হিন্দাল কাদির বাপ্পা। নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মুনিরুল ইসলামও ছিলেন মঞ্চে।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email