সিঙ্গাপুর ছেড়ে থাইল্যান্ডে গোতাবায়া রাজাপাকসে

প্রকাশিতঃ 6:45 pm | August 11, 2022

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো:

স্বল্প-মেয়াদের ভিজিট পাসের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুর ছাড়লেন শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে অবস্থানের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি থাইল্যান্ডে চলে গেছেন বলে সিঙ্গাপুরের ইংরেজি দৈনিক দ্য স্ট্রেইট টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে সিঙ্গাপুরের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড চেকপয়েন্ট অথরিটি বলেছে, রাজাপাকসে বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুর ত্যাগ করেছেন।

শ্রীলঙ্কার বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের কাছ থেকে অনুরোধ পাওয়ার পর থাই কর্তৃপক্ষ গোতাবায়া রাজাপাকসেকে সাময়িকভাবে থাইল্যান্ডে অব্স্থানের অনুমতি দেয় বুধবার। এর পরদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালের দিকে সিঙ্গাপুর থেকে ব্যাংককের একটি ফ্লাইটে ওঠেন রাজাপাকসে।

ব্যাংকক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানিবক দিক বিবেচনা করে গোতাবায়া রাজাপাকসেকে থাইল্যান্ডে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ওচা জানিয়েছেন। থাই কর্তৃপক্ষ বলেছে, রাজাপাকসের রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই। দেশটিতে তিনি সাময়িক অবস্থান করবেন।

তবে থাইল্যান্ডে অবস্থানকালীন রাজাপাকসে কোনও ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন প্রায়ুত।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডন প্রামুদউইনাই বলেছেন, রাজাপাকসের থাইল্যান্ড সফরে শ্রীলঙ্কার বর্তমান সরকারের সমর্থন রয়েছে। সাবেক এই লঙ্কান প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক পাসপোর্ট রয়েছে; যেটি নিয়ে তিনি থাইল্যান্ডে ৯০ দিন অবস্থান করতে পারবেন।

ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে দেশে হাজার হাজার মানুষের টানা আন্দোলনের মুখে গত ১৪ জুলাই সিঙ্গাপুরে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। বিক্ষোভকারীরা কলম্বোতে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দখলে নেওয়ার পর তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে প্রথমে মালদ্বীপ, পরে সেখান থেকে সিঙ্গাপুরে যান। সিঙ্গাপুরের সরকার তাকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত দেশটিতে অবস্থানের অনুমতি দেয়।

দেশ ছেড়ে পালিয়ে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমানোর পর থেকে শ্রীলঙ্কার সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে কখনই জনসম্মুখে দেখা যায়নি। থাইল্যান্ডে আশ্রয়ের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর এবারই সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। করোনা মহামারি, জাতীয় অর্থনীতি পরিচালনায় সরকারের অদক্ষতা, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ তলানিতে নেমে যাওয়ায় শ্রীলঙ্কায় বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার রাজাপাকসে ভাইদের নেতৃত্বাধীন সরকারের অব্যাবস্থাপনা, অযৌক্তিক কর কাটছাঁট, করোনা মহামারির কারণে পর্যটন ব্যবসায় ধস ও ভবিষ্যৎ পরিণতির কথা না ভেবে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় দেশটির দুরবস্থার প্রধান কারণ।

বর্তমানে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও বিভিন্ন দেশের কাছে শ্রীলঙ্কার দেনা রয়েছে ৫১০ কোটি ডলার। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে যাওয়ায় গত মাসের শুরুতে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন শ্রীলঙ্কার বর্তমান প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে।

গত মাসের শেষের দিকে আইনপ্রণেতাদের ভোটে শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রনিল বিক্রমাসিংহে। লঙ্কান নতুন এই প্রেসিডেন্ট মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, রাজাপাকসের দেশে ফেরার এটাই সঠিক সময় বলে তিনি মনে করেন না। কারণ তার দেশে ফেরার ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

কালের আলো/এমএইচ/এসবি

Print Friendly, PDF & Email