একসঙ্গে বসবাস, অন্য নারীকে বিয়ে করায় নূরকে কুপিয়ে খুন করেন আহিনা

প্রকাশিতঃ 8:20 pm | August 03, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

প্রায় তিন বছর আগে আলী নূরের সঙ্গে পরিচয় হয় আহিনা খাতুনের। এরপর তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক। একপর্যায়ে তারা একটি বাসা ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। বিয়ে না করেই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকতেন তারা। এভাবেই কাটতে থাকে তাদের দিন।

কিন্তু ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে ৩০ জুলাই। এদিন আলী নূরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। র‍্যাব বলছে, এ হত্যায় আহিনা খাতুন জড়িত।

জিজ্ঞাসাবাদে আহিনা খাতুন জানান, গত ১৪ জুলাই আলী নূর তার গ্রামের বাড়িতে অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করেন। এ কথা শুনে আলী নূরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাতে ঘুমন্ত আলী নূরকে বঁটি দিয়ে মাথা, গলা এবং বুকে কুপিয়ে হত্যা করেন আহিনা খাতুন। এরপর রক্তাক্ত লাশ দেখে ভয় পেয়ে যান তিনি। এসময় লাশটি কাঁথা চাপা দিয়ে পালিয়ে যান আহিনা খাতুন।

সাভারের আশুলিয়ায় চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আহিনা খাতুনকে (২৯) গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৪। নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার (৩ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার কারওয়ান বাজারে সংবাদ সম্মেলনে লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

আহিনা খাতুন র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানান, প্রায় তিন বছর আগে আলী নূরের সঙ্গে তার পরিচয়। পরে তাদের মধ্যে গভীর সখ্য গড়ে ওঠে। সম্পর্কের একপর্যায়ে তারা দুজন একসঙ্গে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নেন। তারা পরিবারকে না জানিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে আশুলিয়া এলাকায় বিভিন্ন বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৩ বছরে তারা পাঁচবার বাসা পরিবর্তন করেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, গত ২৯ জুলাই থেকে আশুলিয়ার জিরাবো নামাপাড়া এলাকার দেলোয়ার ব্যাপারীর টিনশেড বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস শুরু করেন তারা। গত ৩০ জুলাই রাতের খাবার শেষে উভয়েই শুয়ে পড়েন। কিন্তু আহিনা ঘুমের ভান করে থাকেন। পরিকল্পনা মোতাবেক তিনি সেদিন ভোরে আলী নূরকে ঘুমন্ত অবস্থায় বঁটি দিয়ে মাথা, গলা ও বুকে কুপিয়ে হত্যা করেন।

আসামির বক্তব্য অনুযায়ী, রক্তাক্ত লাশ দেখে তিনি কিছুটা ভয় পেয়ে যান এবং লাশটি কাঁথাচাপা দিয়ে রাখেন। পরে থালাবাসন, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিস বস্তায় ভরে ভোর ৬টার দিকে ঘরে তালা দিয়ে জিরাবো বাসস্ট্যান্ডে আসেন। এরপর সেখান থেকে বাসে আবদুল্লাহপুর আসেন। আব্দুল্লাহপুরে কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর বাসে কুড়িল বিশ্বরোডে যান। সেখান থেকে বাসে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকায় আসেন। সেখানে আহিনা চাকরি প্রত্যাশী পরিচয় দিয়ে ২ হাজার ২০০ টাকায় বাসা ভাড়া করেন। মজিবুর রহমান নামে একজনের সহযোগিতায় ওই বাসায় ওঠেন এবং আত্মগোপনে চলে যান তিনি।

আলী নূরকে হত্যার পর অস্থির হয়ে পড়েন আহিনা। পরে তিনি ৩১ জুলাই বিকাল ৪টার দিকে আলী নূরের মোবাইলের মাধ্যমে তার ভগ্নিপতি জাকিরকে জানান, আলী নূর অসুস্থ, তাকে বাঁচাতে তার পরিবার যেন দ্রুত আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার বাসায় যান। ১ আগস্ট দুপুর সোয়া আড়াইটার দিকে আলী নূরের স্বজনরা ওই বাসায় গিয়ে দেখতে পান রুমের দরজায় তালা দেওয়া। পরে তারা লোকজনের সহায়তায় জানালা খুললে তীব্র দুর্গন্ধ পান। মেঝেতে কাঁথা দিয়ে মোড়ানো আলী নূরের লাশ দেখতে পান তারা। পরে আশুলিয়া থানার পুলিশ তালা ভেঙে লাশটি উদ্ধার করে।

পরে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে ২ আগস্ট তার বড়ভাই বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। র‌্যাব-৪ আসামিকে গ্রেফতারে ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আহিনা খাতুনকে মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার কাঁচপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আহিনা নীলফামারীর একটি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ৫ ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। ২০১২ সালে মিজানুর রহমানের সঙ্গে তার প্রথম বিয়ে হলেও পরে বিচ্ছেদ ঘটে। তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পরে জীবিকার তাগিদে সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে ২০১৮ সালে ঢাকায় আসেন এবং আশুলিয়ার একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। সেখানেই অটোচালক আলী নূরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email