আবারও মহল বিশেষের ‘টার্গেট’ আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল হোসেন

প্রকাশিতঃ 10:18 pm | July 19, 2022

অনিক খান, ময়মনসিংহ:

আর মাত্র একদিন বাদেই ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘ-প্রতিক্ষীত ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। এই কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী হয়েছেন এক ডজন মুখ। তবে সব ছাপিয়ে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন। ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক পেয়েছিলেন। দলের ভেতরে-বাইরের ষড়যন্ত্রকারীদের কূপানলে পড়ে জেতা ভোট হেরেছেন।

তবুও দমে যাননি। দলকে সুসংগঠিত করতে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ, কর্মীবান্ধব এই রাজনীতিক উজানে নাও ভাসিয়েছেন। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মমুখরতায় গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন উপজেলাজুড়েই। ঘনিয়ে আসা উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলেও সাধারণ সম্পাদক পদে তৃণমূলের ‘ফাস্ট চয়েজ’ হিসেবে উচ্চারিত হচ্ছে তাঁর নাম। প্রচার-প্রচারণাতেও সবাইকে পেছনে ফেলেছেন। কিন্তু আবারও হীন কায়দা-কানুনে পেছনে থেকে টেনে ধরার অপপ্রয়াস-অপচেষ্টা।

কাউন্সিলের মাত্র দিন দুয়েক আগে থেকেই তাকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে শুরু করেছে ঝঞ্জারমুখর ত্রিশালের রাজনীতির মাঠ। আর এজন্য দায়ী সেই মহল বিশেষই। চক্রটি রাতের অন্ধকারে ঈর্ষান্বিত হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল হোসেনের প্রায় শতাধিক প্যানাফ্ল্যাক্স কেঁটে নিয়ে আবারও নির্লজ্জ রাজনীতির নেতিবাচক উদাহরণ তৈরি করেছে। এতে করে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন দলটির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমিত করে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে স্বার্থক ও সাফল্যমন্ডিত করতে ইউনিয়নে ইউনিয়নে মতবিনিময় সভা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক পদ-প্রত্যাশী।

ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বলছেন, বরাবরই একটি বিশেষ মহলের ‘টার্গেট’ হয়েছেন সাবেক তুখোর ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন। মূলত সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, দলের অন্দরে-বাইরে বিশাল গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে না পেরে চক্রটি নানাভাবেই খিস্তেখেউর করে চলেছে। কখনও কখনও এরা নজিরবিহীন তথ্য সন্ত্রাস চালিয়েছে। কিন্তু তৃণমূল আওয়ামী লীগ এসব অপকৌশল ঘৃণাভরেই প্রত্যাখ্যান করেছে।

দলটির নেতা-কর্মীদের ভাষ্য হচ্ছে- কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড অতি বিবেচক। তাঁরা মাঠের খবর জানেন। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস উপজেলা নির্বাচনেও যেভাবে হাইকমান্ডের আস্থায় দেখে ইকবাল হোসেন নৌকা প্রতীক পেয়েছিলেন তেমনি তিনিই সম্মুখে থেকেই সামনের দিনগুলোতে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেবেন।’

দলীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, উপজেলায় আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে ইকবাল হোসেনের প্রতিটি প্যানা ফ্ল্যাক্সে মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতা, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের ছবি ছিল।

কিন্তু দলীয় এক শ্রেণির ষড়যন্ত্রকারীরা এসব ছবিও কেটে দু:সাহস দেখিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যার সুদৃঢ় গতিশীল নেতৃত্বে দেশ অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথে যাত্রা করলেও ঘৃণ্য অপকৌশলের অধিকারী একশ্রেণির রাজনীতিকের এমন অশুভ আচরণ দলের ভেতরে-বাইরে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে।

আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের এক নেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘গ্রুপিং রাজনীতির উর্ধ্বে থেকেই দল ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের মানবিক রাজনীতির প্রোজ্জ্বল আভা স্থানীয় জনমনে একদিন-প্রতিদিন উপস্থাপন করেছেন ইকবাল হোসেন। তাঁর মতো ত্যাগী ও পরীক্ষিত রাজনীতিকের হাতেই আওয়ামী লীগ নিরাপদ।’

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email