উইন্ডিজ আমাদের শাস্তি দিচ্ছে : ডমিঙ্গো

প্রকাশিতঃ 11:28 am | June 26, 2022

স্পোর্টস ডেস্ক, কালের আলো:

২০০৯ সালের পরিসংখ্যান একপাশে রাখলে উইন্ডিজের মাটিতে টেস্টে একতরফাভাবে পিছিয়ে বাংলাদেশ দল। ব্যত্যয় ঘটছে না চলমান সিরিজেও। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৭ উইকেটে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচের পরিস্থিতি বিচারে ঢের পিছিয়ে সফরকারীরা। বাংলাদেশ দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগকেই তুললেন কাঠগড়ায়। সঙ্গে জানালেন, উইন্ডিজ দল বাংলাদেশকে শাস্তি দিচ্ছে।

সেন্ট লুসিয়া টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে দলীয় পারফরম্যান্স মূল্যায়নে ডমিঙ্গো বলেন, ‘না, ভালো হয়নি। ব্যাটিং ও বোলিং নিয়ে কঠিন প্রশ্ন তোলার আছে। কারণ এটা ২৩০ এর উইকেট না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে কেনো ওরা এই সংস্করণে আমাদের থেকে ভালো দল। ওদের একজন একশ রানে অপরাজিত আছে। ওদের সামনে বড় রান করার সুযোগ আছে। কারণ ওরা জুটি গড়তে সক্ষম হয়েছে, লম্বা সময় ব্যাটিং করেছে। ওরাই দেখাচ্ছে আমাদের কি করা উচিত।’

ডমিঙ্গোর এমন ক্ষোভের কারণ আছে বৈকি। অ্যান্টিগায় প্রথম ইনিংসে ১০৩ রানে গুটিয়ে গিয়ে ম্যাচ হারতে হয়। সেন্ট লুসিয়ায় ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় বাংলাদেশের ইনিংস থামে ২৩৪ রানে। যেখানে সেট হয়ে কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। ব্যাটসম্যানদের পাশাপাশি ব্যর্থতায় নাম তুলেছেন বোলাররা। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৫ উইকেটে ৩৪০ রান করেছে ক্যারিবীয়রা, যেখানে তারা লিড নিয়েছে ১০৬ রানের। এই লিড আরো বাড়িয়ে নিতে আগামীকাল রোববার তৃতীয় দিন আবার ব্যাটিং করবে তারা।

উইন্ডিজের এই ৩৪০ রানের সংগ্রহে একশ’র ওপর জুটি এসেছে ২টি। কাইল মায়ার্স আর জসুয়া ডি সিলভার অবিচ্ছেদ্য জুটি থেকে এসেছে ৯২ রান। লম্বা ইনিংস খেলেছেন মায়ার্স। ১৮০ বলে ১২৬ রানে অপরাজিত আছেন এই বাঁহাতি। মায়ার্সকে উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করে উইন্ডিজ কেন বাংলাদেশ দলকে শাস্তি দিচ্ছে তার ব্যাখ্যা দেন ডমিঙ্গো।

ডমিঙ্গো বলেন, ‘আমাদের দলের অনেক ক্রিকেটার ফর্ম খুঁজে বেড়াচ্ছে, রানের পেছনে ছুটছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার একটাই উপায়, লম্বা সময় ব্যাট করা। অনেক ৩০, ৪০ রানের ইনিংস হচ্ছে। কেউ কেউ ৫০ রান করছে। কাইল মায়ার্স যা করছে সেটা কেউই করছে না। কারণ এটাই ২৩০ আর ৪০০ রানের মধ্যে পার্থক্য। আমাদের ওর মতো ১২০ রানের ইনিংস খেলতে হবে।’

সঙ্গে যোগ করেন বাংলাদেশ কোচ, ‘ওরা আমাদের বিপক্ষে ৪০০ (৩৯৫) রান তাড়া করেছিল চট্টগ্রামে। মেয়ার্স ২০০ (২১০) রান করেছিল সেদিন। আমরা এ ধরনের ইনিংস পাচ্ছি না। ছেলেদের জন্য এটা অনেক বড় শিক্ষা। টেস্ট ক্রিকেট কঠিন। যখন আপনি যতটা দীর্ঘ সময় ব্যাট করা উচিত, ততটা করছেন না, তখন ভালো দল আপনাকে শাস্তি দেবে। এখন আমাদের ওরা শাস্তিই দিচ্ছে।’

সাদা পোশাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশকে পেলেই যেন জ্বলে ওঠে মায়ার্সের ব্যাট। টাইগারদের বিপক্ষে লাল বলে নিজের অভিষেক ম্যাচে ২১০ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে ক্যারিবীয়দের নাটকীয় জয় উপহার দেন এই বাঁহাতি। ১৩ টেস্টের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় শতকটাও পেলেন বাংলাদেশের বিপক্ষেই, যখন দলের হয়ে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করাটা প্রয়োজন ছিল তার।

কালের আলো/এমএইচ/এসবি

Print Friendly, PDF & Email