মালিক পক্ষের অসহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে দেরি হচ্ছে : ফায়ার সার্ভিস ডিজি

প্রকাশিতঃ 1:56 pm | June 05, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কন্টেইনার ডিপোতে হাইড্রোজেন পারক্সাইড নামে দাহ্য রাসায়নিক পর্দাথ থাকার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর চট্টগ্রামের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাইন উদ্দিন।

রোববার (৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন তিনি । তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাইন উদ্দিন বলেন, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর রাত থেকে আমরা এখানে কাজ করছি। লাশের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে মালিকপক্ষ কাউকে পাচ্ছি না। মালিকদের কাউকে পেলে আমরা জানতে পারতাম কোন কনটেইনারে কী আছে। এটা আমাদের জানা নেই। এ জন্য উদ্ধার কাজে আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে।

মহাপরিচালক বলেন, আমরা এখনো ভেতরে পুরোপুরি ঘুরতে পারছি না। এ ঘটনায় ফায়ারের পক্ষ থেকে ৫ সদস্যে কমিটি করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার সেকশনের বিশেষ টিম কাজ করছে। কনটেইনারগুলোতে যেহেতু কেমিক্যাল সেজন্য ঢাকা থেকে ফায়ারের ২০ সদস্যের হেজবোর্ড টিম আনা হচ্ছে। তারা বিদেশ থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

ফায়ার ফাইটারসহ যারা হতাহত হয়েছেন তাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, আমি মাত্র দশদিন আগে এখানে দায়িত্ব নিয়েছি। এরকম একটি ঘটনায় আমি খুবই মর্তাহত।

প্রসঙ্গত, স্মার্ট গ্রুপের এই বেসরকারি কনটেইনার ডিপো চালু হয় ২০১১ সালে। বাংলাদেশ নেদারল্যান্ডস যৌথ বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত এই বেসরকারি কনটেইনার ডিপো পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিলো না বলে শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুনের পর ভয়াবহ বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচজন কর্মী রয়েছেন। সীতাকুণ্ড ইউএনও মো. শাহাদাত হোসেন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহতদের নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

এ ছাড়া আহত হয়েছেন তিন শতাধিক। তাদের মধ্যে ডিপোর শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও আছেন।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email